behind the news
Rehab ad on bangla tribune
 
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

নিহত তরিকুলের বাড়িতে জেএমবি’র তৎপরতা ছিল এক যুগ ধরেই

আমিনুল ইসলাম রানা, সিরাজগঞ্জ২২:০৬, এপ্রিল ০৬, ২০১৬

পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের জামুয়া গ্রামে গত এক যুগ আগেই শায়খ আব্দুর রহমানসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত ইসলামি জঙ্গি সংগঠন জেএমবির লোকজনের আনাগোনা ছিল। জেএমবি সম্পৃক্ততার দায়ে অভিযুক্ত কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুই বছর আগে বহিষ্কৃত অনার্স পড়ুয়া ছাত্র জামুয়া গ্রামের তরিকুলের বাড়িতে তারা আসতেন। গত ১২ বছর আগে দুজন সন্দেহভাজন মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্রকে তরিকুলের বাবার বাড়িতে জায়গির রাখা হয়। জামুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মওলানা আবু বকর সিদ্দিকের ছোট ছেলে তরিকুল বাবাকে অনুরোধ করে ওই দুজনকে জায়গির রাখেন। এদের একজনের নাম মানিক, বাড়ি রাজশাহী বিভাগীয় শহরের রানীগ্রামে। অপরজন অজ্ঞাত। তরিকুলের বাবা ও আশেপাশের কেউই এখন আর তার নাম জানেন না।

জেএমবিশায়খ আব্দুর রহমান নিজেও জামুয়াগ্রামে তরিকুলের বাড়িতে এসে ওই দুজনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন। ধারণা করা হচ্ছে, তরিকুলের বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া সেই দুজন জামুয়া গ্রামে এসে নিষিদ্ধ ঘোষিত ইসলামী জঙ্গি সংগঠন জেএমবির কর্মতৎপরতা শুরু করেন। যারা নিজেকে পার্শ্ববর্তী কামারখন্দ উপজেলার পাইকোশা মাদ্রাসায় পড়তেন বলে গ্রামবাসীকে জানিয়েছিলেন। আরও ধারণা করা হচ্ছে, তরিকুল ও তার বড় ভাই কুদরত উল্লাহ তাদের কাছেই জেএমবি কর্মকাণ্ডের হাতেখড়ি নেন। দুই বছর জায়গির থাকার পর ওই দুই সন্দেহভাজন দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার ঘটনার ক’মাস আগেই গা-ঢাকা দেন। এরপর তরিকুল জঙ্গি তৎপরতার অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন। ওই সময় তরিকুলের বড় ভাই কুদরত উল্লাহর বগুড়ার মহাস্থানগড় এলাকার একটি মাদ্রাসায় পড়া অবস্থায় রহস্যজনক মৃত্যু ঘটে। এদিকে, তিন বছর জেলহাজতে থাকার পর আদালতের রায়ে বেকসুর খালাস হয়ে তরিকুল হাজত থেকে মুক্ত হন। এলাকায় এসে পাওয়ার-ট্রিলার কিনে ইরি ধানের চাষ করেন। পাশাপাশি আবার পড়াশুনা শুরু করেন। কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়ন থেকে বড় ভাইয়ের নামে রেজিস্ট্রেশন করে দাখিল ও উল্লাপাড়ার কয়ড়া মাদ্রাসা থেকে আলিম পাশ করে কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবি বিভাগে আনার্স কোর্সে ভর্তি হন। তৃতীয় বর্ষে উঠার পর তার বিরুদ্ধে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে ফের সখ্যতা বাড়ে। পরে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তরিকুলকে বহিষ্কার করেন।

সর্বহারাদের ভয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়েছেন, পরিবারের কাছে এমন কথা বলে বাড়িতে এসে একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল খুলে সেখানে শিক্ষকতা শুরু করেন তরিকুল। এর মধ্যে তিনি পাশের জগতগাঁতী গ্রামের মাদ্রাসা শিক্ষক বাহারাম শেখের মেয়ে জাকিয়া খাতুনকে বিয়ে করেন। তরিকুলের বিষয়ে পুলিশি খোঁজ-খবর শুরু হলে গত কোরবানির ঈদের পর তিনি গা-ঢাকা দেন। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বার বার খোঁজ-খবর নেওয়ায় ও পাশাপাশি নানা ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে তরিকুলকে তালাক দিয়ে তার স্ত্রী শ্বশুরবাড়ি ত্যাগ করেন। ছেলে নিখোঁজ রয়েছেন এমন ঘটনায় বাবা মওলানা আবু বকর সিদ্দিক গত ক’মাস আগে সদর থানায় একটি জিডি করেন।

গত রবিবার (৩ এপ্রিল) রাতে বগুড়ার শেরপুরের জুয়ানপুর কুঠিরগ্রামে একটি ভাড়া বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণে তরিকুলসহ তার এক সহযোগী নিহত হন। এ সময় র‌্যাব, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে শতাধিক বোমা তৈরির সরঞ্জামসহ চারটি আধুনিক পিস্তল ও বেশ ক’টি তাজা গ্রেনেড উদ্ধার করে। এ সময় সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের জামুয়া গ্রামের কুদরত আলী নামের একটি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়। বড় ভাইয়ের নামের পাসপোর্টটি মূলত তরিকুলেরই।

জঙ্গি সংগঠনের দায়ে অভিযুক্ত হয়ে তিন বছর হাজত খাটার পর আদালতের রায়ে মুক্ত হয়ে তরিকুল আবার যখন পড়াশোনা শুরু করেন, তখন বড় ভাই নিহত কুদরত উল্লাহর নাম ব্যবহার করে তিনি ভদ্রঘাট এলাকার একটি মাদ্রাসা থেকে নতুন করে দাখিল পরীক্ষার নিবন্ধন করেন। বড় ভাই কুদরত উল্লাহর পরিবর্তে নিজেকে কুদরত আলী হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করে দাখিল পরীক্ষা দেন তরিকুল। বগুড়ায় বোমা বিস্ফোরণের পর পাসপোর্টের তথ্যের সূত্র ধরে সরেজমিনে জামুয়া গ্রামে গিয়ে গ্রামবাসী ও তার স্বজনদের সঙ্গে আলাপকালে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়।

তরিকুলের বাবা আবু বকর সিদ্দিক জানান, তার ছেলে দুজন লোককে তার বাড়িতে গত ১৩/১৪ বছর আগে জায়গির রেখেছিল। যাদেরকে দেখতে সাইখ আব্দুর রহমান সাহেব মাঝে মধ্যে এসেছিলেন। কিন্তু, দুবছর থাকার পর তারা চলে গেছেন। একজনের নাম মানিক, বাড়ি রাজশাহীর রানীনগর। তারা এখানে এসে পাইকোশা মাদ্রাসায় পড়তো বলে জানিয়েছিল। এর চেয়ে বেশি কিছু জানি না। তার ছেলে তরিকুল ও কুদরত উল্লাহ জঙ্গি সংগঠনের সদস্য কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জঙ্গি সম্পৃক্ততার দায়ে তরিকুল পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেও তিন বছর পরে আদালতের রায়ে সে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছে। তবে বড় ছেলের বিষয়টি জানেন না বলে মন্তব্য করেন বয়োবৃদ্ধ আবু বকর সিদ্দিক। কুদরত উল্লাহর বদলে তরিকুল নিজেকে কুদরত আলী হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করে দাখিল পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন তিনি।
জামুয়া গ্রামে জঙ্গি সংগঠনের লোকজনের আনাগোনা এবং তরিকুল বা তার বড় ভাই কুদরত উল্লাহের সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সিরাজগঞ্জ ডিবি পুলিশের সেকেন্ড অফিসার রওশন আলী বলেন, বগুড়ায় বোমা বিস্ফোরণে নিহত তরিকুলের খোঁজ-খবর নিতে জামুয়া গ্রাম এবং শায়খ আব্দুর রহমান যে তরিকুলদের বাড়িতে আসতেন এসব বিষয়ে জানতে পারলাম।

ডিবি পুলিশের ওসি ওয়াহেদুজ্জামান বলেন, তিন মাস আগে তরিকুলের স্বজনদের পুলিশ সুপার কার্যালয়ে ডাকা হয়েছিল। তখনও এতো গভীরে ঢুকে দেখিনি।

সদর থানার ওসি হাবিবুল ইসলাম বলেন, জামুয়া গ্রামের একজন বগুড়ায় মারা গেছে শুনেছি, এর চেয়ে বেশি কিছু জানি না।

/বিটি/টিএন/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ