Vision  ad on bangla Tribune

বাংলা ট্রিবিউনকে ধন্যবাদ জানালেন এসপিনির্যাতনের বর্ণনা দিলো কিশোর হৃদয়, গ্রেফতার দুই

ফেনী প্রতিনিধি২৩:২২, এপ্রিল ০৬, ২০১৬

ফেনীর নির্যাতিত কিশোরটির সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। বুধবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ফেনীর পুলিশ সুপার রেজাউল হকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে নির্মম সেই নির্যাতনের বর্ণনা দেয় কিশোর রনি ওরফে হৃদয় (১৫)। এসময় জেলার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারাও উপস্থিতি ছিলেন। হৃদয়ের মুখে তার ওপর চালানো নির্যাতনের বর্ণনা শুনে ও দেহে নির্যাতনের ক্ষতচিহ্নগুলো দেখে সম্মেলন কক্ষে স্তব্ধতা নেমে আসে।

ফেনী পুলিশ সুপার কার্যালয়ে নির্যাতনের বর্ণণা দেয় কিশোরটি

এ সময় পুলিশ সুপার রেজাউল হক গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, সামাজিক গণমাধ্যমের এই নির্যাতনের খবর জানার পর পুলিশ ঘটনা অনুসন্ধানে নামে এবং জড়িতদের গ্রেফতার ও ভিকটিমের সন্ধান শুরু করে। টানা অভিযানের খবর পেয়ে নির্যাতনকারী দলের হোতা অর্জুন দাস গা ঢাকা দিলেও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত প্রদীপ ও সবুজ নামে দুই ব্যক্তি গ্রেফতার হয়েছে। অর্জুনসহ অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নির্যাতিত কিশোর হৃদয় কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায়, ঘটনার দিন দুপুরে ভাঙারির দোকানের বাইরে থেকে প্লাস্টিকের বোতল নেওয়ার অভিযোগে তাকে চোর অপবাদ দিয়ে একটা দোকানের সামনের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে প্রথমে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে তাকে নগ্ন করে আবারও মারধর করে হয়। এরপর শরীরে পরিত্যক্ত ব্যানারের কাপড় জড়িয়ে একটি খুঁটিতে বেঁধে আবারও দীর্ঘক্ষণ মারধর করে নির্যাতনকারীরা। নির্যাতনের এক পর্যায়ে মুমূর্ষু হৃদয়ের অবস্থা দেখে আশপাশের মানুষ তাকে ছেড়ে দিতে অনুরোধ করলে নির্যাতকরা নিরস্ত হয়।

পুলিশ জানায়, নির্যাতিত কিশোর হৃদয় কুমিল্লা জেলার লাকসাম থানার ফাজিলপুর গ্রামে ওমর ফারুকের ছেলে। ছোটবেলা থেকে বাবা মায়ের সঙ্গে সে ফেনী শহরের সহদেবপুর এলাকায় বাস করে । বাবার সঙ্গে ভাঙারি ব্যবসায় যুক্ত হৃদয় প্রতিদিনের মত শুক্রবারও পুরানো লোহা, টিন ও প্লাস্টিক সংগ্রহে নেমেছিল।

পরিবার সদস্যদের সঙ্গে নির্যাতিত হৃদয়

এ ঘটনায় সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে এবং বাংলা ট্রিবিউনকে ধন্যবাদ জানিয়ে পুলিশ সুপার রেজাউল হক বলেন, প্রকৃত ঘটনা যথাসময়ে ‍তুলে ধরায় এ ব্যাপারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রশাসনের পক্ষে সম্ভব হয়েছে ।

এ সময় বাংলা ট্রিবিউনের ফেনী প্রতিনিধি রফিকুল ইসলামকে ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় এক সভায় বিশেষ সম্মাননা দেওয়ার ঘোষণা দেন পুলিশ সুপার।   

ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুব মোশের্দ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন , এ ব্যাপারে বুধবার সন্ধ্যায়  নির্যাতিত কিশোরের মা মনি বেগম বাদী হয়ে নির্যাতনকারী অর্জুন দাসসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছেন।

/এইচকে/টিএন/

লাইভ

টপ