Vision  ad on bangla Tribune

শ্রীমঙ্গলে টেন্ডার জালিয়াতি ধামাচাপা দিতে সমাজসেবা কর্মকর্তার দৌড়ঝাঁপ

সাইফুল ইসলাম, শ্রীমঙ্গল১৬:১৩, এপ্রিল ০৭, ২০১৬

শ্রীমঙ্গলে চা শ্রমিকদের খাদ্য সহায়তা প্রকল্পে বরাদ্দকৃত ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা লুটে সক্রিয় একটি চক্র। স্থানীয় সমাজসেবা কর্মকর্তা, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এ চক্রের সদস্য।

প্রকল্পের টেন্ডার আহ্বান, সিডিউল বিক্রি, জমা দান প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সমাজসেবা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা না মানার অভিযোগ উঠেছে। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা অনুযায়ী ১/২ কোটি টাকার টেন্ডারের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশের ১৪ দিনের মধ্যে মূল্যায়নী সভা করার নিয়ম থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ের পর ২৯ দিন পার হলেও তা করা হয়নি।

সিলেটগত ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রকল্পের টেন্ডার আহ্বান করে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। তবে মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী ১ কোটি বেশি টেন্ডার সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট ইউনিট অফিসের ওয়েবসাইডে সিডিউল প্রকাশের নিয়ম থাকলেও তা করেননি শ্রীমঙ্গল সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আশিকুজ্জামান।
এ বিষয়ে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মন্ত্রাণালয়ের নিয়মনীতি মেনেই টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। এমনকি টেন্ডারের বিষয়টি ইমেইলে সিপিটিইউ কার্যালয়কে অবহিত করা হয়েছে।
তবে ঢাকা সিপিটিইউ কার্যালয়ের আইটি অফিসার পি কে রায় বলেন,তার জানা মতে শ্রীমঙ্গল সমাজসেবা অফিস থেকে কোনও টেন্ডার নোটিশ তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ হয়নি।
চলতি অর্থ-বছরের জুন মাসের মধ্যে প্রকল্পের টাকা উত্তোলন এবং চা শ্রমিকদের মধ্যে বণ্টনের বিধান থাকলেও তা করা হয়নি। তাই শেষ সময়ে পছন্দের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে সক্রিয় একটি চক্র। ফলে অনেক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সিডিউল কিনলেও তা জমা দিতে পারেননি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শ্রীমঙ্গল উপজেলায় এ প্রকল্পের জন্য মেসার্স আদমজী টেড্রিং, মেসার্স শাহজালাল খাদ্য ভান্ডার এবং মের্সাস নজরুল ট্রের্ডাস নামে তিনটি প্রতিষ্ঠান টেন্ডার জমা দিয়েছে। যারা ক্ষমতাশীলদের প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ ঠিকাদারদের টেন্ডার জমা দিতে দেননি। এমনকি অভিযোগ উঠেছে এ কাজের জন্য যে লাইসেন্স, ব্যাংক সলভেন্সি ওর্ডার এবং কর প্রদানের কাগজ দরকার তা ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর নেই 

এ বিষয়ে সমাজসেবা মন্ত্রণালয়ের মহা-পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. নুরুল কবীর বলেন, সিপিটিইউ’র ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করে টেন্ডার বিক্রি করা নিয়মবর্হিভূত। বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জানা যায়, জেলার ৬টি উপজেলার সাড়ে ১১ হাজার চা শ্রমিকের জন্য মোট সাড়ে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। যার মধ্যে শ্রীমঙ্গলে ২ হাজার ৭শ’ জনের জন্য ১ কোটি ৩৫ লাখ, রাজনগরে ৩ হাজার ৫শ’ জনের জন্য ১ কোটি ৭৬ লাখ, জুড়িতে ২ হাজার ৯০ জনের জন্য ১ কোটি ৪ লাখ ৫০ হাজার, কমলগঞ্জে ১ হাজার ৫৭০ জনের জন্য ৭৮ লাখ ৫০ হাজার, কুলাউড়ায় ১ হাজার ৪৫০ জনের জন্য ৭২ লাখ ৫০ হাজার এবং মৌলভীবাজার জেলা সদরে ২শ’  জনের জন্য ১০ লাখ টাকা।

/এসএনএইচ/টিএন/

/আপ: এইচকে/

samsung ad on Bangla Tribune

লাইভ

টপ