behind the news
 
Vision  ad on bangla Tribune

এবার গাইবান্ধায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শৌচাগারে রডের বদলে বাঁশ!

তাজুল ইসলাম রেজা, গাইবান্ধা০৩:৩৫, এপ্রিল ১১, ২০১৬

চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের প্রকল্পাধীন ভবনে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের ঘটনা ঝড় তোলার পর পর এবার গাইবান্ধা সদর উপজেলার মেঘডুমুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শৌচাগার নির্মাণকাজে লোহার রডের পরিবর্তে চিকন বাঁশ ও স্কুলের বেঞ্চের পুরাতন ফ্রেমের রড ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গাইবান্ধা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আরিফ বিল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এ ঘটনা তদন্তের ভার নিয়েছেন সাত সদস্যের একটি কমিটি।ভাঙলেই মিলছে বাশের অস্তিত্ব

গাইবান্ধা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের এই উপ-সহকারী প্রকৌশলী জানান, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে মেঘডুমুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শৌচাগার (ওয়াশব্লক) নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় সাড়ে আট লাখ টাকা। গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ঠিকাদার আব্দুল খালেক ওই নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পান। গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত ওই বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের ব্যবহারের জন্য এটির নির্মাণ কাজ চলছিল। নীতিমালা অনুযায়ী বিভিন্ন ঢালাইয়ের কাজে ১০ থেকে ১২ মি.মি. লোহার রড ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু রডের পরিবর্তে ঢালাই কাজে চিকন বাঁশ ব্যবহার করার অভিযোগ পাওয়া যায়। এর প্রেক্ষিতে অধিদফতর থেকে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা মেলে।

গাইবান্ধা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের একটি সূত্র জানান,  গাইবান্ধা জেলার সাত উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৭৬টি ওয়াশব্লক নির্মাণের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ওয়াশ ব্লক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় সাড়ে আট লাখ টাকা। এসব ওয়াশব্লক নির্মাণে ঠিকাদার ও প্রকৌশলী সিন্ডিকেট দরপত্র আহ্বান থেকে শুরু করে নির্মাণ কাজে দুর্নীতির আশ্রয় নেন। গোপন দরপত্র ও নির্মাণ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। কিন্তু ওই সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে ও ভয়ভীতির কারণে তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে পারেনি। সূত্রটি আরও বলেন, ২৭৬টি ওয়াশব্লক নির্মাণের কাজে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও প্রকৌশলীরা আঙুল ফুলে কলা গাছ হয়ে গেছেন।  

রবিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শৌচাগারের ছাদ ভাঙার কাজ চলছে। শনিবার দুপুর পর্যন্ত ছাদের অর্ধেক অংশ ভাঙা হয়েছে। এরপাশেই ভাঙচুর করা শৌচাগারের একটি জানালা ও একটি দরজার উপরের অংশে লোহার রডের পরিবর্তে চিকন বাঁশ বেড়িয়ে আছে।

শৌচাগার নির্মাণে রডের বদলে বাঁশ

মেঘডুমুর গ্রামের একাধিক ব্যক্তি জানান, এ ধরনের কাজ দিনে করার কথা। কিন্তু ঠিকাদার চিকন বাঁশ ব্যবহারের জন্য রাতের অন্ধকারে ঢালাইয়ের কাজ করেন। রাতে কাজ করার কারণে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। তাই ঘটনাটি  রামচ›ন্দ্রপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরকে জানানো হয়। তাদের উপস্থিতিতে গত ৮ এপ্রিল শৌচাগারের ঢালাই করা একটি জানালা ও একটি দরজার ওপরের অংশ (লিনটন) ভাঙা হলে চিকন বাঁশ পাওয়া যায়। এতে উত্তেজিত লোকজন চড়াও হলে ঠিকাদারের লোকজন ও মিস্ত্রিরা পালিয়ে যান।

মেঘডুমুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. তরিকুল ইসলাম জানান, ঠিকাদার আমার কাছ থেকে একটি শ্রেণিকক্ষ খুলে নিয়েছিলেন মিস্ত্রিদের থাকার জন্য। তারা ছুটির দিনে ও রাতে কাজ করেন বেশি। সেই সুযোগে তারা কক্ষের বেঞ্চ ভেঙে পুরাতন লোহার ফ্রেমও ঢালাইয়ের কাজে ব্যবহার করেন।

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শাহিন মিয়া বলেন, বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এসব বিষয়ে গাইবান্ধা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম চৌধুরী রবিবার বিকেলে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ওই ঠিকাদার মেঘডুমুরসহ মোট আটটি বিদ্যালয়ের কাজ পেয়েছেন। কিন্তু চিকন বাঁশ ব্যবহারের কারণে তার আটটি বিদ্যালয়ের কাজই বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামকে (নলকূপ মেকানিক) কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

শৌচাগারের বিম নির্মাণে রডের বদলে বাঁশ

তিনি আরও বলেন, এই ঘটনায় রামচন্দ্রপুর  ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে ওই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক রামচন্দ্রপুর ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, দরজা ও জানালার উপরের অংশে চিকন বাঁশ পাওয়া গেছে। তবে আর কোথাও চিকন বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে কিনা সেজন্য পুরো ছাদ ভেঙে দেখতে সুপারিশ করা হয়েছে।

কাজের তদারকি কমকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ছুটির দিনে কাজ করে নির্মাণ মিস্ত্রিরা এই ঘটনা ঘটান।

ঠিকাদার আব্দুল খালেক জানান, তার অনুপস্থিতিতে মিস্ত্রিরা এই কাজ করেছে।

গাইবান্ধা জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষ জানান, জেলায় ২৭৬টি বিদ্যালয়ে ওয়াশব্লক নির্মাণ কাজ নিয়ে গঠিত প্রকৌশলী ও ঠিকাদার সিন্ডিকেট প্রত্যেকটিতে এ রকম দুর্নীতি ও অনিয়ম করেছে। তাই প্রত্যেকটি কাজ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা দরকার।

এদিকে, গাইবান্ধায় অবশিষ্ট ২৭৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্মিত ওয়াশব্লকের কাজও খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি উঠেছে।

/বিটি/এইচকে/

Global Brand  ad on Bangla Tribune

লাইভ

IPDC  ad on bangla Tribune
টপ