নিষিদ্ধ প্রসূন আজাদ ‘চাল নিয়ে টেনশন করি না তাই তেল দেওয়ার সুযোগ নেই’

Send
ওয়ালিউল মুক্তা
প্রকাশিত : ১৪:০০, অক্টোবর ৩০, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৪৮, অক্টোবর ৩১, ২০১৬

প্রসূন আজাদ। ছবি: সাজ্জাদ হোসেনরোকেয়া প্রাচী এবং প্রসূন আজাদ। দু’জনেই অভিনেত্রী। পরিচালকও বটে! প্রাচী পরিচালনা করছেন আর প্রসূন সিনেমা নির্মাণের খবর দিচ্ছেন অনেক দিন ধরেই। দু’জন দুই প্রজন্মের তবে গতিপথটা তো একই। অথচ সেই দুজনই জড়ালেন মল্লযুদ্ধে।
যদিও সেটাকে ‘নোংরাযুদ্ধ’ বলাটাই সমীচীন হবে। যার মধ্যদিয়ে তারা পৌঁছালেন শুটিং ইউনিট থেকে শুরু করে ফেসবুক হয়ে নাট্যসংগঠনের রুদ্ধদ্বার বৈঠক পর্যন্ত। হেরেছেন প্রসূন। হয়েছেন এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ! এমন খবরে তিনি খোলেননি মুখ। শুধু গেল রাতে চোখ বোজার আগে ফেসবুকে মিডল ফিঙ্গার সম্বলিত একটি ছাতার ছবি পোস্ট করেছেন! যার ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘গুড নাইট লাভলি হিপোক্রেট সোসাইটি’। তারপর আজ রবিবার দুপুরে অনেক কথাই বললেন বাংলা ট্রিবিউনের কাছে, তার ‘নিষিদ্ধ’ ইস্তেহার প্রসঙ্গে।  

বাংলা ট্রিবিউন: নিষিদ্ধ করা হয়েছে আপনাকে।
প্রসূন আজাদ: কারা আসলে নিষিদ্ধ করেছে! তারা আসলে কারা?
বাংলা ট্রিবিউন: আপনি কি কিছুই শুনেননি? প্রযোজক ও অভিনয়শিল্পী সংগঠনের সম্মতিতে পরিচালকদের সংগঠন ডিরেক্টরস গিল্ড আপনাকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে।
প্রসূন আজাদ: আসলে আমি বলতে চাই একটা দেশে এত পরিচালক হয় কীভাবে! ‘ডিরেক্টরস গিল্ডস’-এ নাকি সাড়ে ৩ শ পরিচালক আছেন। এতো! কীভাবে সম্ভব। আর তারা নিষিদ্ধ করলেই বা আমার কী!
বাংলা ট্রিবিউন: তাহলে আপনি কাজের বিষয়ে কী ভাবছেন?
প্রসূন আজাদ: আমি তো তাদের সঙ্গে কাজই করতে চাই না। তারা নিষিদ্ধ করলো না রাখলো সেটা তাদের বিষয়। তারাই তাদের তেল দেবে যাদের চালের চিন্তা আছে। তারা এভাবেই বেঁচে থাকার চিন্তা করবে। আমি নই।
বাংলা ট্রিবিউন: আপনি অস্ট্রেলিয়া চলে যেতে চাইছিলেন। এটার জন্যই এভাবে বলছেন?
প্রসূন আজাদ: না, ঐটা তো প্রেমের জন্য। আমি যাকে ভালোবাসি তার জন্য আমি যাবোই। আমাকে যেতে হবে। তবে আমি বোধহয় সেখানে গেলেও থাকতে পারবো না। এটা আমার পক্ষে সম্ভব না।
প্রসূন আজাদ/ ছবি: সাজ্জাদ হোসেন।বাংলা ট্রিবিউন: আর নিজে নির্মাণে আসার কথা বলেছিলেন। সেক্ষেত্রে কী করবেন, অস্ট্রেলিয়ায় বানাবেন?
প্রসূন আজাদ: না, আমি তো ফ্রিল্যান্সার নির্মাতা হতে চাই। স্বাধীন নির্মাতা। এক্ষেত্রে আমার কাজের মুক্তি হবে ইউটিউবে। এটা শুধু বাংলাদেশ বা অস্ট্রেলিয়ার জন্য না। সারাবিশ্বের জন্য।
বাংলা ট্রিবিউন: কিন্তু অনেকে আপনাকে অনুরোধও করে কাজ করাতে পারে। সেক্ষেত্রে তো প্রচারের সময় সমস্যা হতে পারে!
প্রসূন আজাদ: আমি আর অনুরোধে ঢেঁকি গিলতে চাই না। এটা অনেক করেছি, আর না।
বাংলা ট্রিবিউন: শেষ ঘটনায় আবার ফেরা যাক। সে ঘটনা সম্পর্কে আপনি কী বলবেন?
প্রসূন আজাদ: আমি রোকেয়া প্রাচীর কাছে একজন ‌‘মানুষ’ হিসেবে সম্মান পাইনি। আমার কষ্ট এখানেই। তিনি তো অনেক বড় অভিনেত্রী। আমি তার ভক্ত ছিলাম। এখন আর নেই। তিনি তার একজন ভক্তকে হারালেন।
বাংলা ট্রিবিউন: নাকি কিছুদিন পর আবার সবাই মান-অভিমান ভুলে এক হবেন! মিডিয়াতে এমন ঘটনা হরহামেশাই হচ্ছে।
প্রসূন আজাদ: ঐ যে বললাম, আমি চাল নিয়ে টেনশন করি না। তাই তেল দেওয়ার সুযোগ নেই। তাই আমি তাদের কোনও সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দিচ্ছি না। আমি কাজ করবো কী করবো না- সেটা তো আমার বিষয়। তাই আগ বাড়িয়ে তাদের কথা শোনার প্রশ্নই আসে না। আমি আমার মতো থাকবো। আমার পাগলামিও হয়তো থাকবে।
বাংলা ট্রিবিউন: কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, আপনার ফেসবুক দেওয়ালে সেই স্ট্যাটাসটি এখন আর নেই! অথচ ডিরেক্টরস গিল্ড বলছে, চরম আপত্তিকর স্ট্যাটাসটি প্রত্যাহার করার বিনীত অনুরোধ করার পরেও আপনি তা শোনেননি। মূলত এই অপরাধের জন্যই ‘নিষিদ্ধ’ করা হয়েছে আপনাকে...
প্রসূন আজাদ: আমি এখনও আমার কথায় অটল আছি। এটি আমি প্রত্যাহার করিনি, করবোও না। তবে আব্বুর বকা খেয়ে সেটি আমার ওয়াল থেকে হাইড করে রেখেছি। স্ট্যাটাস ঠিকই ভাসমাস আছে ফেসবুকে। নো অ্যরি।   
বাংলা ট্রিবিউন: কিন্তু এর আগেও চিত্রপরিচালক-অভিনেতা কাজী হায়াতের সঙ্গে আপনার একটা ঝামেলা হয়েছিল। পরে সেটা আপোসও করেছিলেন!
প্রসূন আজাদ: না, আমি আপোস করতে যাব কেন! তারা ‘কী কী’ যেন করলো। তারপর খবর ছড়িয়ে পড়লো। আমি তখনও কিছুই করিনি।
বাংলা ট্রিবিউন: তাহলে তখন আপনার ‘সরি’ বলার বিষয়টি ছিল সাজানো!
প্রসূন আজাদ: এর আমি কিছুই জানি না!
প্রসূন আজাদ। ছবি: সাজ্জাদ হোসেনবাংলা ট্রিবিউন: যদি বলি আপনার সঙ্গেই ঝামেলাগুলো কেন হয়?
প্রসূন আজাদ: কারণ, আমি ঠোঁটকাটা। ভাতের চালের চিন্তা করি না।
বাংলা ট্রিবিউন: কমন পড়েছে। অন্যরাও তাই বলেন, আপনি ‘ঠোঁটকাটা’!
প্রসূন আজাদ: আমি ভালোকে ভালো আর কালোকে কালো বলি। এটা বলবোই।
বাংলা ট্রিবিউন: নতুন কিংবা চলমান কাজগুলোর কী হবে?
প্রসূন আজাদ: আমি আসলে হাঁপিয়ে উঠেছি। একই ধরনের গল্প আর চরিত্র। ভালো লাগে না। ‘মৃত্যুপুরী’ ছবির একটু কাজ বাকি আছে। এর জন্য নভেম্বরে আমি অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছি।
বাংলা ট্রিবিউন: সেটা ঠিক আছে। তবে রোকেয়া প্রাচীকে উদ্দেশ্য করে আপনার দেওয়া স্ট্যাটাসটি সত্যিই আপত্তিকর ছিলো।
প্রসূন আজাদ: হ্যাঁ, তা ছিলো। টিট ফর ট্যাট বলে একটা কথা আছে। সেই ছোটবেলা থেকে ওটা মাথায় রেখেছি। আমাকে নিয়ে উনিও আপত্তিকর স্ট্যাটাস দেন। আমি তো শুধু জবাবটা দিয়েছি।
বাংলা ট্রিবিউন: তাহলে সাম্প্রতিক ‘নিষিদ্ধ’ ইস্যুতে আর কিছু বলার নেই?

প্রসূন আজাদ: বলেছিই তো। আমি এসব নিয়ে মাথাই ঘামাচ্ছি না।
প্রসূন আজাদ/ ছবি: সাজ্জাদ হোসেনপ্রসঙ্গত, সম্প্রতি রোকেয়া প্রাচীর পরিচালনা ও প্রযোজনায় ‘স্বপ্ন সত্যি হতে পারে’ নামে একটি নাটকে অভিনয় করার কথা ছিল প্রসূনের। শুটিংয়ের দিন রোকেয়া প্রাচীর সঙ্গে প্রসূনের কথাকাটাকাটি হয় । সেদিন শুটিং না করেই প্রসূন বাসায় ফেরেন এবং ফেসবুকে বিষয়টি নিয়ে একটা স্ট্যাটাস দেন।  যেখানে প্রসূনের ভাষা প্রায় অপ্রকাশযোগ্য!  এদিকে প্রসূনের স্ট্যাটাসের পর রোকেয়া প্রাচীও ফেসবুকে পাল্টা অভিযোগ করে  একটি স্ট্যাটাস দেন। এরপর নাটকের তিন সংগঠন ‘ডিরেক্টরস গিল্ড’, ‘টেলিভিশন প্রোগ্রাম প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ ও ‘নাট্য সংঘ’-এর কাছে প্রসূন সম্পর্কে অভিযোগ করেন রোকেয়া প্রাচী।
/এমএম/

লাইভ

টপ