সেরা মুঠোফোন চলচ্চিত্র ‘সিপনোবিচ্চে ইক্কো দিন’

Send
সাদ্দিফ অভি
প্রকাশিত : ১৪:৪২, জানুয়ারি ২৯, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৪১, জানুয়ারি ২৯, ২০১৭

মোবাইলস্মার্টফোনে সেলফি-ছবি কিংবা টুকটাক ভিডিও ছাড়া তেমন কোনও বিশেষ কাজে ব্যবহার সাধারণত হয় না। তবে সেই ধারা থেকে বেরিয়ে এবার একদল তরুণ সেটিকে কাজে লাগিয়েছে চলচ্চিত্র নির্মাণে। তাদেরকে সেই সুযোগ করে দিয়েছে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) এর সিনেমাস্কোপ।
বিগত দু’বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও বাংলাদেশে তৃতীয়বারের মতো আয়োজন করা হলো ‘ইউল্যাব সিনেমাস্কোপ আন্তর্জাতিক মোবাইল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’(সিএমএফসি ২০১৭)। মুঠোফোনে নির্মিত মোট ৮টি দেশের ২৮টি চলচ্চিত্র থেকে ৬টি বাছাই করে এই ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শনের জন্য নির্ধারণ করেছিলেন বিচারকরা। চলচ্চিত্রগুলো হলো ইতালির টমাসো একুয়ারনি’র ‘ম্যাক্স’, যুক্তরাষ্ট্রের জন ভন ব্লাঙ্ককেনসিপ-এর ‘নন ভায়োলেন্ট ক্রিমিনাল’ ও বাংলাদেশের চারটি চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে আরিফ আরমান বাদলের ‘সিপনোবিচ্চে ইক্কো দিন’, জাহিদ হাসান ও শাহনেওয়াজ আহমেদের ‘নির্বাণ’, ‍আল আমিন সায়মনের ‘ফিশ বোন’ এবং মেহরাব জাহিদের ‘সিনেমা’।
গতকাল (২৮ জানুয়ারি) এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাজধানীতে ইউল্যাবের প্রধান ক্যাম্পাসের অডিটরিয়ামে এই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রগুলো প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ইমরান রহমান। অতিথিদের মধ্যে ছিলেন গাজী টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক ইকবাল করিম নিশান, প্রযোজক ও পরিচালক ফুয়াদ চৌধুরী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের প্রধান অধ্যাপক জুড উইলিয়াম হেনিলো,সিএমএফসির উপদেষ্টা মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন এবং সিনেমাস্কোপের অন্যান্য সদস্যরা।
আরিফ আরমান বাদলের ‘সিপনোবিচ্চে ইক্কো দিন’উদ্বোধনী বক্তব্য শেষে পুরো প্রতিযোগিতার ব্যাপারে পরিচিতি বক্তব্য রাখেন ফেস্টিভ্যাল প্রধান মহিম আহমেদ নাঈম।
সিনেমাস্কোপের উপদেষ্টা এবং ইউল্যাব মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক মোহাম্মাদ সাজ্জাদ হোসেন আগামি বছর একটি সিনেমা উৎসব করার ঘোষণা দেন এবং চতুর্থ আসরের তারিখ ঘোষণার পাশাপাশি পুরস্কারের অর্থের পরিমাণ বাড়ানোর কথাও তুলে ধরেন।

প্রদর্শনী শেষে সেরা চলচ্চিত্র নির্মাতাকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। এতে প্রথম স্থান লাভ করে বাংলাদেশের ‘সিপনোবিচ্চে ইক্কো দিন’। এছাড়াও প্রদর্শিত চলচ্চিত্রগুলোর পরিচালকদের সবার হাতে সনদ তুলে দেন অতিথিরা।

এর আগে ডিসেম্বরের ১৫ তারিখ পর্যন্ত সিএমএফসি ২০১৭ এর জন্য চলচ্চিত্র জমা নেয়া হয়। যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে নয়টি এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উনিশটি চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। ইউল্যাব মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের অ্যাপ্রেন্টিসশিপ প্রোগ্রাম ‘সিনেমাস্কোপ’ প্রথমবারের মতো ২০১৫ সালে বাংলাদেশে মোবাইলে নির্মিত চলচ্চিত্র উৎসবের সূচনা করে। অনুষ্ঠানে বিচারক হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশের খ্যাতনামা তিন চলচ্চিত্রকার, সমালোচক এবং লেখক মতিন রহমান, প্রসুন রহমান ও বিধান রিবেরু।

সিএমএফসি’র এই কর্মসূচিতে সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে ইউল্যাব টিভি, রেডিও ক্যাম্পবাজ, ইউল্যাব ফিল্ম ক্লাব,  দ্যা ইউল্যাবিয়ান এবং পিআর-ফর-ইউ। এছাড়া মিডিয়া পার্টনার হিসেবে সহযোগিতা করছে গাজী টিভি,  দৈনিক বণিকবার্তা, বাংলা ট্রিবিউন, দি এশিয়ান এজ, কালার্স এফএম এবং মাল্টি সফট। অনুষ্ঠানটির স্পন্সর হিসেবে ছিলো আইপিডিসি।

আরিফ আরমান বাদলের ‘সিপনোবিচ্চে ইক্কো দিন’/এসও/এমএম/ 

লাইভ

টপ