behind the news
Vision  ad on bangla Tribune

যাই যাই বলে চাচা আজ সত্যি সত্যি নাই!

ফাহমিদা নবী, সংগীতশিল্পী২০:৩২, এপ্রিল ২১, ২০১৭

লাকী আখন্দ ও ফাহমিদা নবীঅনেক দিন ধরে চাচা আমাদেরকে যাই যাই বলছিলেন। আর আজ এই মেঘলা সন্ধ্যায় কিছু না বলেই সত্যি সত্যি চলে গেলেন! অথচ দু’দিন আগেও জেনেছি, চাচা এখন ভালো আছেন। হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন।

একটু আগে চাচার মৃত্যুর খবর পেয়ে যে অবস্থায় ছিলাম, এক মুহূর্ত না ভেবে, চিৎকার করে না কেঁদে নির্বিকার ভঙিতে এখন ছুটে যাচ্ছি আরমানিটোলার দিকে। এখন (রাত সোয়া আটটা নাগাদ) গুলিস্তান অতিক্রম করছি। চাচা নেই, একবারও মনে হচ্ছে না। উল্টো মনে ভেসে ভেসে উঠছে চাচার স্মৃতি, গান, সরলতা আর অভিমানের গল্পগুলো।
এমন প্রাণশক্তিতে ভরা আপাদমস্তক শিল্পী আমি খুব কম দেখেছি। বিস্ময়ের বিষয় চাচার ডায়রিতে একটা খারাপ গানও কেউ খুঁজে পাবেন না। অথচ তিনি আজীবন গানই করেছেন। চাচার গান আমিসহ অনেকেই গেয়েছেন। অনেক হিট হয়েছি আমরা। আমাদের অনেক অহংকার হয়েছে। কিন্তু চাচা ছিলেন তার মতোই, একই- নির্মোহ।
লাকী চাচা সবসময় চেষ্টা করেছেন ভালো গান করার। এমনকি শেষ এক দেড় বছরের হাসপাতাল জীবনেও তিনি প্রচণ্ড স্বপ্ন দেখতেন ফিরে গিয়ে কিবোর্ড নিয়ে বসার। মাঝে মাঝে ফিরে গিয়ে বসেছেন ও।
হাসপাতালে গেলে, উনাকে দেখলে খুবই কষ্ট হতো। কিন্তু উনি চিনে নিতেন ঠিকই, হেসে দিতেন আমাদের দিকে হাত বাড়িয়ে। খুশি হতেন। এই তো সেদিনও আমাকে আর সোমাকে (সামিনা চৌধুরী) কথায় কথায় বললেন, ‘তোরা আমার সব গান গেয়ে ফেলিস। আমার কোনও আপত্তি থাকবে না।’
তবে এটা ঠিক, আজ তিনি মুক্তি পেয়েছেন। মনে মনে তাঁর এই মুক্তির প্রত্যাশা করছিলাম আমরাও। কারণ, চাচাকে এমন রূপে দেখতে আর ইচ্ছে করছিলো না। তিনি যে কষ্ট পেয়েছেন শেষ ক’টা মাস- সেটা নিজ চোখে না দেখলে অনুভব করা যাবে না। তাই প্রায়ই ভাবতাম- আল্লাহকে বলতাম, তাঁকে যেন এই কষ্ট থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। আজ চাচা সেই মুক্তি পেয়েছেন। তাঁর অসহ্য কষ্ট আমাদের আর দেখতে হবে না।
আমি বিশ্বাস করতে চাই, তিনি পরপারে সুখে থাকবেন। কারণ, এই মানুষটা এক জীবনে মুখ বুজে শুধু দিয়েছেন। প্রাপ্তির আশা করেননি কখনও।  আমরাও তাকে সেই মূল্যায়ন করতে পারিনি। তাই সৃষ্টিকর্তা চাচাকে নিশ্চয় ভালো রাখবেন। এই দোয়া করি মনভরে।
অনুলিখন: মাহমুদ মানজুর
/এমএম/

সংগীত ব্যক্তিত্ব লাকী আখন্দ আর নেই

Global Brand  ad on Bangla Tribune

লাইভ

টপ