কানের ডায়েরি- দুইউইল স্মিথের সঙ্গে সেলফি এবং...

Send
জনি হক, কান (ফ্রান্স) থেকে
প্রকাশিত : ১৯:১৭, মে ২০, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:০৯, মে ২০, ২০১৭

সেন্ট রাফায়েল স্টেশনটাও গার দি কানের মতো মনে হলো ট্রেন থেকে নেমে। তবে এই শহরে জনবসতি খুব কম। এখানে উচ্চবিত্তদের বসবাস বেশি। মধ্যবিত্ত নেই বললেই চলে। কানের মতো এখানেও রেস্তোরাঁ আর বারের অভাব নেই। ফরাসিরা ঘরে রান্না করে কম। তবে খায় বেশি।
সেন্ট রাফায়েলেও আছে ক্যাসিনো। পাসপোর্ট দেখিয়ে ভেতরে ঢুকে দেখলাম সবাই খেলায় ব্যস্ত। এই শহরের সৈকতেও মানুষের আনাগোনা কমবেশি থাকে দিনভর। রাতেও দেখলাম অনেককে। ঘুরে বেড়ানোর পর নৈশভোজ করলাম ভারতীয় রেস্তোরাঁ লে কাশ্মিরে। বাসমতি চালের ভাত, সঙ্গে মুরগির মাংস। রেস্তোরাঁর ম্যানেজার মাহবুবুর রহমান জানালেন, তাদের এখানকার বাবুর্চি পাকিস্তানি। কর্মীদের প্রায় সবার বাড়িই পাকিস্তানে।
কানের চেয়ে সেন্ট রাফায়েলে ঠান্ডা একটু বেশি। বিশেষ করে রাতে। লোকজন কম বলেই হয়তো। পরদিন (১৭ মে) সকালে উঠেই রওনা দিলাম ট্রেনে। রাতে খুব একটা বোঝা যায়নি। দিনের আলোয় মুগ্ধ দৃষ্টিতে দেখলাম সব। সাগরের নীল রঙে চোখ আটকে গেলো। সেন্ট রাফায়েল থেকে মান্দালিউ লা ন্যাপোল ও কান লা বক্কা স্টেশন পেরিয়ে কান। লা বক্কায় সমুদ্র লাগোয়া উঁচু -নিচু সড়ক ভালোভাবে দেখা যায়। এই ল্যান্ডস্কেপ ভোলার নয়।
গার দি কান থেকে পালে দো ফেস্টিভাল ভবনে যেতে হাঁটতে হয় ৫ মিনিট। তার আগে ম্যাকডোনাল্ডসে নাস্তা পর্ব সেরে নিলাম। ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিকেন নাগেট, এক গ্লাস কোমল পানীয়, কেচাপ, মেয়নেজ, আপেল কিনলাম। মূল্য ৪ ইউরো। মাত্র ৪ টাকায় খাবারটা ভালোই। বাংলাদেশি মুদ্রায় যদিও অঙ্কটা প্রায় ৪০০ টাকা। তাই কানে এলে নিজের দেশের মুদ্রা ভুলে থাকি।
উৎসবের প্রথম দিন হওয়ায় পালে দো ফেস্টিভাল ভবনের সামনে আমন্ত্রিত সাংবাদিক ও মার্শে দ্যু ফিল্মে অংশগ্রহণকারীদের বিশাল সারি। তার ওপর তিন স্তরের নিরাপত্তার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হচ্ছে প্রত্যেককে। এ কারণে প্রচুর সময় লাগলো ঢুকতে।
প্রথমেই এসকেলেটরে দোতলায় উঠে প্রেস প্রটোকল বিভাগে গিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দেখতে ইনভাইটেশনের জন্য আবেদন করলাম। তারপর তিনতলায় উঠে ওয়াইফাই শাখায় গিয়ে কার্ড ও পাসওয়ার্ড নিতে হলো। সেখান থেকে ব্যাজ দিয়ে প্রেস লকার খুলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে গেলাম সংবাদ সম্মেলনে ঢোকার সারিতে।
বামে হলিউড তারকা উইল স্মিথ, ডানে মার্কিন অভিনেত্রী জেসিকা চ্যাস্টেইনের সঙ্গে সেলফিসেদিনই (১৭ মে) মনে মনে ইচ্ছে ছিল হলিউড অভিনেতা উইল স্মিথের সঙ্গে ক্যামেরাবন্দি হওয়ার। তবে তার আগে ফরাসি অভিনেত্রী মারিয়ন কঁতিয়া সেলফিতে ধরা দিলেন। নিরাশ করেননি উইল স্মিথও। স্বতস্ফূর্তভাবে মোবাইলের ফ্রন্ট ক্যামেরায় তাকালেন হাসিমুখে।
তাকে ধন্যবাদ দিয়ে বললাম, বাংলাদেশ থেকে এসেছি। আফ্রো-আমেরিকান এই তারকা বললেন, ‘গুড।’
সংবাদ সম্মেলন থেকে বাইরে বেরিয়ে প্রতিযোগিতা বিভাগের আরেক বিচারক মার্কিন অভিনেত্রী জেসিকা চ্যাস্টেইনকে দেখে ডাকতেই এগিয়ে এসে হেসে তাকালেন মোবাইল ফোনের লেন্সের দিকে।
চলবে...
/জেএইচ/এমএম/

* অসহায় হয়ে বসে রইলাম করিডোরে

লাইভ

টপ