শুভ জন্মদিন লাকী আখান্দ মৃত্যুর পর আয়োজনহীন প্রথম জন্মদিন

Send
সুধাময় সরকার
প্রকাশিত : ১৪:১৪, জুন ০৭, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৪০, জুন ০৭, ২০১৭

লাকী আখন্দএই তো সেদিন (২১ এপ্রিল) কিংবদন্তি লাকী আখান্দ না ফেরার দেশে চলে গেছেন। আজ তার জন্মদিন। ১৯৫৬ সালের এই দিনে (৭ জুন) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তবে মৃত্যুর পর তার প্রথম জন্মদিনটিকে ঘিরে এই শহরে কোনও আয়োজন নেই! মুক্তিযোদ্ধা লাকী আখান্দ কিংবা তার গান নিয়ে আজ কোথাও কোনও স্মরণ সভায় বসছেন না কেউ। এমনটাই জানান তার মেয়ে মাম্মিন্তি।

তিনি জানান, জন্মদিন উপলক্ষে পরিবার থেকে আজ (বুধবার) দুপুরে কবর জিয়ারত করা হয়েছে। এর বাইরে অন্য কোনও সংগঠন কিংবা প্রতিষ্ঠান থেকে কোনও আনুষ্ঠানিকতার খবর নেই তাদের কাছে।
তবে এই অনানুষ্ঠানিকতার বিষয়ে ‘তথ্য বিভ্রাট’ বড় একটি কারণ বলে মনে করছেন লাকী আখান্দের নিকটজন মিডিয়াকর্মী এরশাদুল হক টিংকু। তিনি বলেন, ‘লাকী ভাইয়ের নামের বানান নিয়ে যেমন বিভ্রান্তি আছে তেমনি তার জন্মদিন নিয়েও তথ্য বিভ্রাট রয়েছে। উইকিপিডিয়াসহ বিভিন্ন সূত্র বলছে তার জন্মদিন ১৯৫৬ সালের ১৮ জুন। কিন্তু কেউ কেউ আবার বলছেন তার জন্ম ৭ জুন। অন্যদিকে লাকী ভাইয়ের পাসপোর্টে আছে একই সালের ৩১ জানুয়ারি! ফলে কোনটা আসল সেটি নিশ্চিত করা একটু কষ্টকর।’

এদিকে এমন বিভ্রাটের জবাব দিলেন লাকী আখান্দের মেয়ে মাম্মিন্তি। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেই বলেন, ‘আজই (৭ জুন) বাবার জন্মদিন। এ নিয়ে সংশয় প্রকাশের জায়গা নেই। এতদিন যারা ১৮ জুন জানতেন, তারা ভুল জানতেন।’
লাকী আখন্দউল্লেখ্য, গুণী সংগীতজ্ঞ লাকী আখান্দ চলে যাওয়ার আগে অনেক দিন ধরেই মরণব্যাধী ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন।
অসুস্থতার প্রথম থেকেই লাকী আখন্দ ও তার পরিবার কোনও রকম আর্থিক সহযোগিতা গ্রহণের বিষয়ে বেশ কঠোর ছিলেন। দেশের শীর্ষ শিল্পীদের উদ্যোগে সহযোগিতা করতে চাইলেও বিনয়ের সঙ্গে লাকী আখান্দ সেটি গ্রহণে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। অভিমানী এই মানুষটি অন্যের সাহায্য-সহযোগিতায় নিজের চিকিৎসা চালাতে মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন না। তবে ব্যাংককে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় এই সংগীতকারের চিকিৎসার জন্য পাঁচ লাখ টাকা সহায়তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাষ্ট্রীয় ভালোবাসা হিসেবে সেটি তিনি গ্রহণ করেছেন স্বাচ্ছন্দে।
চলতি বছর ২১ এপ্রিল সন্ধ্যায় পুরান ঢাকার নিজ বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি। ২২ এপ্রিল রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরশায়িত করা হয় এই  সংগীতশিল্পী-মুক্তিযোদ্ধাকে।
লাকী আখান্দের উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে— ‘এই নীল মনিহার’, ‘আমায় ডেকো না’, ‘কবিতা পড়ার প্রহর এসেছে’, ‘যেখানে সীমান্ত তোমার’, ‘মামনিয়া, ‘বিতৃষ্ণা জীবনে আমার’, ‘কি করে বললে তুমি’ ‘লিখতে পারি না কোনও গান, ‘ভালোবেসে চলে যেও না’ প্রভৃতি।
লাকী আখান্দ, আধুনিক বাংলা সংগীতের খ্যাতিমান শিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক। ৫ বছর বয়সেই তিনি তার বাবার কাছ থেকে সংগীত বিষয়ে হাতেখড়ি নেন। শৈশব কেটেছে ঐতিহ্যবাহী পুরান ঢাকার পাতলা খান লেনে। মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সে এইচএমভি পাকিস্তানে সুরকার হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। সুরকার হিসেবে আরো কাজ করেছেন এইচএমভি ভারত এবং স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রেও।
স্বাধীনতার পর পর নতুন উদ্যমে বাংলা গান নিয়ে কাজ শুরু করেন। তার নিজের সুর করা গানের সংখ্যা দেড় হাজারেরও বেশি। শিল্পীর সহোদর ক্ষণজন্মা হ্যাপী আখান্দের সঙ্গে ছিলো তার আত্মার সম্পর্ক। ভাইয়ের মৃত্যুর পর দীর্ঘকাল তিনি নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিলেন। তারও আগে দু’জনের যৌথ প্রয়াসে সূচিত হয়েছিলো বাংলা গানের এক নতুন ধারা।
/এমএম/

লাইভ

টপ