রাজনীতি: শাকিব নয়, গল্পই এ ছবির হিরো

Send
রায়ান খান
প্রকাশিত : ০৯:২৮, জুলাই ০৫, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:১০, জুলাই ০৬, ২০১৭

রাজনীতি

রেটিং: ৩.৫/ ৫

শিল্পী: শাকিব খান, অপু বিশ্বাস, আনিসুর রহমান মিলন, অমিত হাসান প্রমুখ।

প্রযোজনা: আশফাক আহমেদ, অ্যারো মোশন আর্টস
পরিচালক: বুলবুল বিশ্বাস
গল্পকার: বুলবুল বিশ্বাস

রাজনীতি’র পোস্টারমানতে কষ্ট হয়েছে, শাকিব খান-অপু বিশ্বাসের মতো সফল জুটির একমাত্র ঈদের ছবি ঢাকায় মাত্র একটি হলে (ব্লকবাস্টার সিনেমা’স) চলছে। ব্যক্তিগতভাবে এই প্রেক্ষাগৃহে ছবি দেখার অভিজ্ঞতা আমার কখনোই সুখকর ছিল না। সাউন্ড সিস্টেম, স্ক্রিন, বসার ব্যবস্থা-সবকিছুতেই বরাবর আমার অস্বস্তি ছিল। তারপরও ঈদের ছবি তো মিস করা যায় না। ঈদের তৃতীয় দিন দেখে ফেললাম ঈদের একমাত্র দেশি ছবি ‘রাজনীতি’।

এমনিতেই অপছন্দের প্রেক্ষাগৃহ, তারপর ইতোমধ্যেই দেখে ফেলেছি যৌথ প্রযোজনার দুটি ব্যয়বহুল চলচ্চিত্র, ‘রাজনীতি’ কি আর সে তুলনায় ভালো লাগবে- এমন সন্দেহ নিয়েই শুরু করলাম ছবি দেখা। সাদেক বাচ্চু ও দেবাশীষ বিশ্বাসকে দিয়ে শুরু হলো ছবি। শুরুতেই যে বিষয়টি কানে লাগলো, তা হলো ছবির শব্দগ্রহণ। আগেই বলেছি, ব্লকবাস্টারে এর আগে যত ছবি দেখেছি, সব কটি ছবির ক্ষেত্রেই সাউন্ড সিস্টেমে অসন্তুষ্টি ছিল আমার। তবে রাজনীতি ছবির শব্দগ্রহণে রীতিমতো মুগ্ধ হলাম।

ছবির শুরুতে যদিও নেপালকে দক্ষিণ আফ্রিকা বলে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাতে অবশ্য আমরা ‘মাইন্ড’ করিনি। কারণ ততক্ষণে ছবির মধ্যে ঢুকে গিয়েছি। পুরনো ঢাকাকে কী নান্দনিকভাবে উপস্থাপন করেছেন নবাগত নির্মাতা বুলবুল বিশ্বাস! শাখারি বাজার থেকে বাকরখানি, হোলি উৎসব, বুড়িগঙ্গা-পুরনো ঢাকার পুরো একটি চিত্র তুলে ধরেছেন তিনি। এমনকি বিদেশ বিভুঁইয়ে শম্পা রেজার পিয়ানোতে দেশের সুর বাজানো থেকে শাকিবের চরিত্রের দেশপ্রেম-ছোট ছোট বিষয়গুলোও মুগ্ধ করার মতো।

শুরু থেকেই এ ছবির প্রতিটি চরিত্রের এন্ট্রি উপভোগ করছিলাম। শুধু শাকিব খানই নয়; আনিসুর রহমান মিলন, অপু বিশ্বাস, শম্পা রেজা, সাবেরী আলম, সাদেক বাচ্চু, আলীরাজ, শিবা সানু, অমিত হাসান, এমনকি চিকন আলীর এন্ট্রির প্রতিও যত্ন নিয়েছেন নির্মাতা বুলবুল।

বলা দরকার, শেষ পর্যন্ত প্রতিটি চরিত্রের চরিত্রায়ণের ব্যপারে ধ্যান দিয়েছেন তিনি। প্রায় প্রতিটি চরিত্রের ব্যকগ্রাউন্ড ও পরিণতির পেছনেও যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন তিনি। আর এখানেই তিনি সফল। সাধারণত দেখা যায়, দেশীয় বাংলা ছবিতে নায়ক কিংবা খুব বেশি হলে নায়িকার চরিত্রটিকেও ‘চরিত্র’ হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন নির্মাতারা। বাকি চরিত্রগুলো অথৈ সাগরে হাবুডুবু খেতে থাকে। কিন্তু ‘রাজনীতি’ ছবির ক্ষেত্রে তা হয়নি। এ ছবিতে শাকিব কিংবা অপু নন, গল্পই এ ছবির হিরো। প্রতিটি চরিত্র নিজেদের জায়গায় দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত; কেউ কারো চেয়ে বড় নন, ছোটও নন। অন্য অনেক ছবিতে দেখেছি, নায়ককে খুশি করার জন্য পরিচালকরা গল্পের সঙ্গে সমঝোতা করেন। কিন্তু বুলবুল বুঝেছেন, নায়ককে বড় করতে গিয়ে অন্য চরিত্রগুলোকে ছোট করলে কাহিনি রং হারাবে। আর এ কারণেই ‘রাজনীতি’র গল্প যতই এগিয়েছে, ততোই বিস্মিত হয়ে ভেবেছি- এ ছবিটি কি বাংলাদেশের কোনও নবীন পরিচালক নির্মাণ করেছেন?

একটি গানের দৃশ্যে শাকিব ও অপুনিখুঁত বলবো না, তবে প্রথম ছবিতেই তিনি যে প্রতিটি ফ্রেমের ব্যপারে সৎ ছিলেন, আন্তরিক ছিলেন, তা পর্দায় সুস্পষ্ট। এর আগেও দেখেছি অনেক গুণী নির্মাতাও দর্শকদের ‘ফর গ্র্যান্টেড’ নিয়ে নেন। দর্শক বুঝবে না/ খেয়াল করবে না- এসব কিছু মাথায় এনে যা খুশি তাই করেন। কিন্তু ‘রাজনীতি’র নবীন পরিচালক যে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, প্রযোজক যে অর্থ খরচ করেছেন, তার প্রমাণ পর্দাতেই মিলেছে। ছোট্ট দুই সেকেন্ডের দৃশ্যের জন্যও পরিচালক খেটেছেন। আলাদা করে হরতালের দৃশ্যের কথা বলতেই হয়। অসাধারণ! দুই রাজনৈতিক দলের লোগো থেকে ১০/১২টি টিভি চ্যনেলের লোগা তৈরি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে (মিছিল, মিটিং) এর ব্যবহার, টিভি চ্যনেলের সংবাদ উপস্থাপন- অন্য অনেক দেশীয় ছবির মত আরোপিত মনে হয়নি।

অপুকে আনিসুর রহমান মিলনের প্রথম দেখার দৃশ্য কিংবা মিলনের কল্পনায় তার মায়ের পাশে ডজনখানেক বাচ্চা কিংবা ছবির শেষাংশে হবু সন্তান নিয়ে শাকিব-অপুর মজার দৃশ্য এবং সবশেষে ‘রাজনীতি-টু’ ছবির ইঙ্গিত-সবকিছুই বেশ উপভোগ্য।

এই ঈদে মুক্তি পাওয়া ‘বস-টু’ ছবির সংলাপ যতটাই ক্লিশে, একঘেয়ে, ‘রাজনীতি’র বেশ কিছু সংলাপ ততটাই মুগ্ধ করেছে। ক্ষমতার লোভ যে মানুষকে কতটা নোংরা করে তুলে, তা কাহিনিকার ছবির পরতে পরতেই উপস্থাপন করেছেন। চিত্রনাট্যও টান টান। উত্তেজনা ও চমকের বুননে ঠাসা।     

অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে কেউ কারো চেয়ে কম নন। তবে একটি বিষয় ভালো লেগেছে, শাকিব খান যে ছবিতে থাকেন, সে ছবিতে অন্য কেউ দাঁড়াতে পারেন না কিংবা দাঁড়াবার সুযোগ দেওয়া হয় না। যথাযথ চরিত্র দেওয়া হয় না। ‘রাজনীতি’তে মিলন শাকিবের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অভিনয় করেছেন। একদম শুরুর ঘুড়ি ওড়াবার দৃশ্য থেকে শুরু করে শেষ দৃশ্য পর্যন্ত মিলন যে অভিনয় করেছেন, তাতে আমার পক্ষ থেকে তাকে সর্বোচ্চ পুরস্কার দেওয়ার দাবি জানাই। মিলন যে জাত অভিনেতা, তা বোঝার জন্য একটি দৃশ্যই যথেষ্ট (বিরতির ঠিক আগের দৃশ্য)। যদিও এই দৃশ্যে মিলনের চরিত্রের হঠাৎ করে প্রতিক্রিয়া দেখানোর বিষয়টি অতিরিক্ত ‘ফিল্মি’ মনে হয়েছে। এই দৃশ্যের আগে ২/১টি ক্লু দেওয়া যেতে পারতো। যদিও অভিনয় দিয়ে মিলন সব ঘাটতি ভুলিয়ে দিয়েছেন। এমনকি ছবির শেষ দিকে অপু বিশ্বাস যখন একটি কাণ্ড ঘটান, তখন শাকিব ও মিলন দুজনই অপুর চরিত্র ‘অর্ষা’ নাম ধরে ডাকেন। ঐ একটি ডাকেও পুরনো ঢাকার ভঙ্গিতে মিলন যেভাবে ‘অর্সা’ (অর্ষা নয়) বলেন, আমরা রীতিমতো মুগ্ধ। পুরো ছবিতে আনিসুর রহমান মিলনের অভিনয়ের একটি ভুল নোটও আমরা খুঁজে পাইনি।

নাচের দৃশ্যেও সাবলীল তিনি। ছোট পর্দা থেকে বড় পর্দায় আসা অভিনেতাদের মধ্যে যে ক’জনের মধ্যে প্রয়াত হুমায়ূন ফরীদির ছায়া দেখি, মিলন তাদের একজন। চলচ্চিত্রে তাকে পুরো মাত্রায় ব্যবহার করার এখনই বোধহয় সময়।

অভিনয়ে তাক লাগালেন মিলন (বামে)অপুকে দীর্ঘদিন পর বড় পর্দায় পেলাম এবং এক কথায় বললে মুগ্ধ হলাম। বাংলা ছবিতে নায়িকারা বরাবরই নিগৃহীত। অপু বিশ্বাসও এর আগে অসংখ্য ছবিতে অভিনয় করেছেন। তার ঝুলিতে সুপারহিট ছবির সংখ্যাও অগণিত। তবে ১০/২০ বছর পর গর্ব করার মতো ছবি ও চরিত্র অপু বিশ্বাস তার ক্যরিয়ারে খুব কমই পেয়েছেন। কারণ বরাবরই অপুর সুপারহিট ছবিগুলোতে শাকিব খান মুখ্য হয়ে থাকতেন। অপুর প্রতি যেকোনও কারণেই হোক বরাবরই নির্মাতারা ধ্যান দিতেন না। তবে অপু যে মেধাবী, সুযোগ পেলে যে প্রতিভার স্ফূরণ দেখাতে পারেন, ‘রাজনীতি’ ছবির অর্ষা চরিত্রই তার প্রমাণ। যদিও এ ছবিতেও তার চরিত্রের ব্যাপ্তি আরেকটু বেশি হলে ভালো হতো, আরও ভালো হতো যদি তিনি ডাবিং করতেন।

আমি এখনও বুঝি না, অপু এত সুন্দর করে কথা বলেন, তাও কেন নির্মাতারা এখনও তাকে দিয়ে ডাবিং করান না। অবশ্য ‘রাজনীতি’ ছবিতে অপু বিশ্বাসকে যতটা সুন্দরী লেগেছে, তা অতীতে আর কোনও ছবিতে লেগেছে কিনা মনে পড়ছে না। ইদানীং অনেক লাবণ্যহীন/ দেহসর্বস্ব নায়িকাদের ভিড়ে অপুকে দেখে চোখ জুড়িয়েছে। যদিও ছবির শেষদিকে অপু নিজের মাথায় গুলি না করে শরীরের অন্য কোনও অঙ্গে গুলি করলে আরেকটু বিশ্বাসযোগ্য হতো দৃশ্যটি। 

সাবেরী আলম ছোট পর্দার গুণী অভিনেত্রী। তবে ‘রাজনীতি’ ছবি দেখে মনে হয়েছে, মূলধারার বাণিজ্যিক ছবিতে তিনি নিয়মিত হতে পারেন। যদিও ২/১বার পুরনো ঢাকার ভাষার পরিবর্তে চলিত ভাষা চলে এসেছিল তার মুখে। সাদেক বাচ্চু, আলীরাজরা সব ছবিতে তাদের প্রতিভা দেখাবার সুযোগ পান না। এ ছবিতে পেরেছেন। এমনকি শিবা শানুর মতো অভিনেতাকে প্রায় সব ছবিতে একরকম মনে হলেও এ ছবিতে ভিন্নভাবে পাওয়া গেছে। অমিত হাসানকে ‘বস-টু’ ও ‘নবাব’ ছবিতে প্রায় পুতুল মনে হলেও ‘রাজনীতি’ ছবির শেষাংশে তার ক্যরিয়ারের অন্যতম সেরা অভিনয় করেছেন তিনি। বিপাশা কবিরের আইটেম গান না থাকলেও পারতো। বিশেষ করে আগাগোড়া পরিচ্ছন্ন ছবিতে এই গানের কিছু অংশ অশ্লীলই ঠেকেছে।

তবে বাংলা ছবির একক প্রেক্ষাগৃহগুলোর নিয়মিত দর্শকদের ‘নির্মল’ বিনোদন দেওয়ার জন্য যে গানটির সংযুক্তি, তা বুঝে মেনে নিয়েছি।

এবার আসি শাকিব খানের প্রসঙ্গে। ছবির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অভিনয়ে তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তার চোখের অভিব্যক্তি অতুলনীয়। তবে আফসোস, ছবির বাকি অভিনয়শিল্পীদের লুকের কন্টিনিউটি ঠিক থাকলেও শাকিব খানের লুকের কন্টিনিউটি ছিলনা। এ ক্ষেত্রে তিনি ও নির্মাতারা যদি আরেকটু যত্নশীল হতেন! তবে অয়ন চরিত্রটি তার ক্যরিয়ারের অন্যতম সেরা চরিত্র হতে পারতো। ছবির শুরুতে তার এক লুক। দুই দিনের মাথায় দেশে ফিরে আরেক লুক। এরপর পর্যায়ক্রমে দুটি লুকই ঘুরে ফিরে বারবার এসেছে। একটি গানে তো আবার দুটি লুক-ই বিদ্যমান। বলা বাহুল্য, ছোট চুলে তিনি যতটা সুদর্শন, লম্বা চুলে ঠিক তার উল্টোটা। নবাব ছবিতে শাকিব খানকে দেখে মনে হয়েছিল, তার মত সুদর্শন নায়ক এ মুহূর্তে বাংলাদেশে তো নয়ই, ভারতের বাংলা ছবিতেও নেই। তবে রাজনীতি’তে তাকে দেখে মনে হয়েছে, যে কটি ছবিতে তাকে দেখতে বাজে লেগেছে, তার একটি এই ‘রাজনীতি’। যদিও অভিনয় দিয়ে বাজে লুককে প্রায়ই ভুলিয়ে দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে কিছু দৃশ্যে তার কোনও সংলাপ ছিল না। স্রেফ দাঁড়িয়ে অভিব্যক্তি দিয়ে শাকিব খান অভিনয় করে গেছেন। বলতেই হবে, শাকিব খান-অপু বিশ্বাস জুটির হয়তো অনেক সুপারহিট ছবি আছে; তবে এই জুটির মানসম্পন্ন, ভালো ছবির তালিকায় প্রথম ৫টি ছবির একটি হিসেবে ‘রাজনীতি’ থাকবে। সেই সঙ্গে এটিও বলবো, দর্শকরা ওপার বাংলার শ্রাবন্তী-শুভশ্রী এমনকি এপার বাংলার বুবলীর তুলনায় অপু বিশ্বাসকেই শাকিব খানের পাশে বেশি দেখতে চান। কারণ তাদেরকেই একসঙ্গে বেশি মানায়, এখনও।

‘রাজনীতি’ ছবির আরও যে বিষয়টি মুগ্ধ করেছে, তা হলো উত্তম গুহের শিল্প নির্দেশনা। বাংলা ছবির সেটের ব্যপারে বরাবরই অভিযোগ ছিল আমাদের। তবে ‘রাজনীতি’ ছবির সেট এবং সামগ্রিক শিল্প নির্দেশনা দেখে মুগ্ধ হয়েছি। কবরস্থান থেকে শুরু করে শাকিব খানের বাড়ি, ‘ও আকাশ বলে দে না’ গানের দৃশ্যায়নে অপুর বাড়ি- সবকিছুই খুব সুন্দর। ইমন সাহার আবহ সংগীত বরাবরের মতই হৃদয়গ্রাহী। পরিকল্পনা কার জানি না, তবে আনিসুর রহমান মিলনের ওপর সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের বহুশ্রুত ‘মধুমালতী ডাকে আয়’ গানের ব্যবহার অদ্ভুত ভালো লেগেছে। ‘রাজনীতি’র সম্পাদনা ও চিত্রগ্রহণও লেটার মার্কসসহ পাশ। কিছু কিছু দৃশ্যে রূপসজ্জা আরও ভালো হতে পারতো। শিবা শানু ও অমিত হাসানের বডি মাসাজ নেওয়ার দৃশ্যে শিবার মুখের মেকআপ সাদা তোয়ালেতে মাখামাখি করছিল। গানের মধ্যে কবির বকুলের লেখা, হাবিব ওয়াহিদের সুরে খেয়ার গান ‘ও আকাশ বলে দে না’ সেরা। গানের চিত্রায়ণে স্কুলের খুদে শিক্ষার্থীদের থেকে শুরু করে নারী-পুরুষ-আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা এমনকি ‘হিজড়া’ সম্প্রদায়কেও সঙ্গে রাখার বিষয়টি প্রশংসনীয়। তবে গানের চিত্রায়ণে জ্যকলিনের ‘রয়’ ছবির ‘চিতিয়াকালাইয়া’ গানের একটি ছায়া আছে, যা ভালো লাগেনি।

এ ছবির গল্পেও বলিউডের ‘রাজনীতি’ ও ‘গোলিও কি রাসলীলা-রামলীলা’ ছবির ছায়া চলে আসছিল বেশ কয়েকবার। তবে ছবি শেষে আমরা বুঝেছি, বাংলাদেশের ‘রাজনীতি’ মোটেই নকল নয়। সম্পূর্ণ মৌলিক ছবি। এই বাজেটে ঈদের সেরা ছবি। কারণ ‘নবাব’ দেখেও আমি মুগ্ধ হয়েছি। তবে ৫/৬ কোটি টাকায় নির্মিত ২/৩টি হিন্দি ছবির ককটেল ‘নবাব’ আমি দ্বিতীয়বার দেখবো না। ‘রাজনীতি’ একাধিকবার দেখবো। এ ছবিটি বারবার দেখার মতই ছবি।

ছবির প্রযোজক আশফাক আহমেদকে ধন্যবাদ, এই বাজারে এতটা ঝুঁকি নেবার জন্য। তিনি যে ব্যর্থ হননি, তার প্রমাণ মাল্টিপ্লেক্স দর্শকদের মুহুর্মুহু তালি। তবে এ ছবির প্রচার ও প্রচারণা যথেষ্ট হয়নি। যা হয়েছে, তাও কোনও আধুনিক পরিকল্পনা করে হয়নি। এটি ‘রাজনীতি’র অন্যতম মন্দ দিক। তবে ভালো দিক হলো, দীর্ঘদিন পর দেশের কোনও নির্মাতার কাছ থেকে সুনির্মিত কোনো বাণিজ্যিক ছবি পেলাম আমরা। আর বুঝলাম বুলবুল বিশ্বাস চলচ্চিত্রে থাকতে এসেছেন। অবশ্য প্রথম ছবির জন্য এমন প্রশংসা পেয়ে পরবর্তী ছবিতে দর্শকদের ‘ফর গ্র্যান্টেড’ না নিয়ে বুলবুল এগিয়ে যাবেন, এই প্রত্যাশা করছি।

যৌথ প্রযোজনার নামে ৫-৬ কোটি টাকা খরচ করে নকল/ককটেল কাহিনি নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ না করে মৌলিক কাহিনি নিয়ে আরও কম খরচে মানসম্পন্ন দেশীয় ছবি নির্মাণ করলে দর্শক থেকে প্রদর্শক, হল মালিক সবারই আখেরে মঙ্গল। ‘সম্রাট’, ‘রানা পাগলা’, ‘ধুমকেতু’, ‘রাজা ৪২০’, ‘ডেয়ারিং লাভার’ ইত্যাদির মতো মানহীন ছবি নির্মিত হলে শাকিব খানের মতো তারকারা ভালো কিছু পাওয়ার আশায় ওপারে পাড়ি জমাবেনই। ‘শিকারী’, ‘নবাব’-এর মতো চলচ্চিত্র নির্মিত হলে দর্শক যৌথ প্রতারণা আর নকল ছবির অভিযোগ জেনেও প্রেক্ষাগৃহে ভিড় জমাবেনই। তারকা এবং দর্শকদের ‘রাজনীতি’র মতো ছবি দিয়ে দেশের প্রেক্ষাগৃহে ফিরিয়ে আনতে হবে। কাজটা খুব একটা কঠিন কিছু না। এজন্য হল মালিক থেকে চলচ্চিত্র সাংবাদিক ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের উচিত দেশের ছবিকে আরও পৃষ্ঠপোষকতা করা। ‘রাজনীতি’ যদি ফ্লপ হয়, হেরে যাবে দেশীয় ছবি। জেঁকে বসবে ভিনদেশিরা। আমরা সবাই কি তাই চাই?

‘রাজনীতি’র পরিচালকের সঙ্গে দুই অভিনেত্রী বিপাশা ও অপুলেখক: সাংবাদিক, চলচ্চিত্র সমালোচক

/এমএম/
*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের লেখার বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না

লাইভ

টপ