ঈদের ছবির সমালোচনারংবাজ: বলিউডের চিত্রনাট্য, তবুও ছন্দপতন

Send
মোস্তাফিজুর রহমান মানিক
প্রকাশিত : ১৮:৫৯, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৪৩, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৭

‘রংবাজ’ পুরোপুরি ব্যতিক্রম চলচ্চিত্র। আমার মনে হয় না এমন বিষয় নিয়ে খুব একটা কাজ হয় বড় পর্দায়। প্রায় অধিকাংশ বাঙালি মা-বাবার স্বপ্ন থাকে তার ছেলে মানুষের মতো মানুষ হবে। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যবসায়ী বা বড় কোনও চাকরি করে বাবা-মায়ের মুখ উজ্জ্বল করবে।

কিন্তু ‘রংবাজ’-এ আম্মাজানরূপি নূতন চান তার ছেলে বড় হয়ে জাতীয় রংবাজ হবে, প্রয়াত বাবা কাল্লু রংবাজ ও তার বংশের মুখ উজ্জ্বল করবে। এই রংবাজের নামও ব্যতিক্রম— সাল্লু রংবাজ। তার বেশভূষাও আলাদা। প্রায় পুরো ছবিটি সাল্লু রংবাজ থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট দিয়ে পার করে দিয়েছেন।শাকিব ও বুবলী




ছবির শুরুই হয় একটি অন্যরকম দৃশ্য দিয়ে। দেখা যায়— আম্মাজান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ধাওয়া করছেন এবং ধরে ধরে বেদম পিটুনি দিচ্ছেন। এরপর গল্প এগোনোর সঙ্গে পরিষ্কার হচ্ছিল ‘রংবাজ’ আদতে বলিউডের ‘হাম কিসিসে কম নেহি’ ছবিতে অনুপ্রাণিত। যেখানে ঐশ্বরিয়া রাই অভিনীত চরিত্রে দেখা গেছে বুবলীকে। আর কাজী হায়াৎ আছেন অমিতাভ বচ্চনের ভূমিকায়।

রংবাজের রংবাজির ছন্দপতন ঘটে বুবলীর চরিত্রটি এন্ট্রি নেওয়ার পর। রংবাজ কাউকে মারতে গেলেই সামনে এসে পড়েন বুবলী এবং রংবাজের কাজে ব্যাঘাত ঘটে। রংবাজ তখন না মেরে উল্টো সরি বলে বিদায় নেন। এ অংশটি দর্শক উপভোগ করেছেন।

ছন্দপতন পছন্দ না করা অমিত হাসানের আগমন ছবিটিকে কিছুটা গতি দিয়েছে। কিন্তু সবশেষে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিল চূড়ান্ত টুইস্ট। জানা গেলো, অমিত হাসান হলেন সাদেক বাচ্চুর ছেলে এবং সাল্লু রংবাজের বাবা কাল্লু রংবাজের খুনি তিনিই। কিন্তু এর আগে আম্মাজান জানতেন কাল্লু রংবাজের বন্ধু বুবলীর বাবা কাজী হায়াৎই খুনি।

বাবার খুনের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্যই ছেলেকে বড় রংবাজ করতে চেয়েছেন আম্মাজান। ফ্ল্যাশব্যাকের মাধ্যমে এসব ঘটনা কতোটা বোঝানো গেলো তা কাহিনিকার ও পরিচালক ভালো বলতে পারবেন। সুপারস্টার শাকিব খানের সাল্লু রংবাজের হয়ে পর্দায় আসা উচিত ছিল কিনা সেই বিতর্কে যাচ্ছি না। যেহেতু সব ধরনের চরিত্রকেই তিনি অভিনয় প্রতিভার মাধ্যমে ধারণ করতে পারেন, তাই সাল্লু রংবাজের ভূমিকায়ও তিনি ভালোভাবে উতরে গেছেন।


 

রংবাজ শাকিব, সঙ্গে বুবলীরংবাজ
রেটিং: ৪.৫/১০
পরিচালক: আবদুল মান্নান
প্রযোজক: রূপরং ফিল্মস লিমিটেড
গল্পকার ও সংলাপ রচয়িতা: আব্দুল্লাহ জহির বাবু
চিত্রনাট্যকার: শামীম আহমেদ রনি
অভিনয়ে: শাকিব খান, বুবলী, নূতন, অমিত হাসান, কাজী হায়াৎ, সাদেক বাচ্চু
আবহ সংগীত: আলী আকরাম শুভ
চিত্রগ্রাহক: রাজু রাজ
সম্পাদক: তৌহিদ হোসেন চৌধুরী
মুক্তি: ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
দৈর্ঘ্য: ১২৬ মিনিট

বুবলীকে অনেক গ্ল্যামারাস লেগেছে এবং তিনি খারাপ করেননি। বিদঘুটে মেকাপের কারণে নূতন ম্যাডামকে ভয়ঙ্কর লেগেছে। মনে হয় পরিচালক তার কাছে যেমন লাউড অ্যাক্টিং চেয়েছেন তা তিনি পেরেছেন। সাদেক বাচ্চু ও অমিত হাসান ভালো অভিনয় করেছেন, কাজী হায়াৎ ছিলেন মোটামুটি।
এছাড়া সাল্লু রংবাজের আশেপাশের চরিত্রগুলো কেন এসেছে তা বোধগম্য হয়নি। চিত্রনাট্য অগোছালো এবং কখনও কখনও অবিশ্বাসযোগ্য। ‘না উড়াইয়া, না নাচাইয়া, না কাপাইয়া, অনলি ফাটাইয়া’— এ ধরনের সংলাপ তেমন ছাপ ফেলতে পারেনি দর্শকদের মধ্যে। গানগুলো ভালো, গানে ব্যবহৃত লোকেশনও দৃষ্টিনন্দন। তবে যথাস্থানে সংযোগ করতে পারলে গানগুলো গল্পকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারতো।
গল্পটি পুরান ঢাকাকেন্দ্রিক। সেজন্য লোকশেন হিসেবে পাবনার বিভিন্ন স্থান বিশ্বাসযোগ্য হয়নি। নৃত্য পরিচালনা, অ্যাকশন, আবহ সংগীত মোটামুটি। চিত্রগ্রহণ ও কালার কারেকশন ভালো। সব মিলিয়ে কাহিনিতে ‘রংবাজ’ টিম ছন্দপতন পছন্দ না করলেও শেষ পর্যন্ত কিন্তু ঠিকই ছবিটির ছন্দপতন হয়েছে।
লেখক: চলচ্চিত্র পরিচালক


*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতে পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের দায় নেবে না।

/জেএইচ/এম/

লাইভ

টপ