অকারণে কিছু করার সময়ই তো নেই: শবনম ফারিয়া

Send
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৭:০২, মার্চ ০৩, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:১২, মার্চ ০৪, ২০১৮

শবনম ফারিয়া। ছবি: ওয়ালিউল বিশ্বাসনাটক-বিজ্ঞাপনের প্রিয়মুখ শবনম ফারিয়া। সেদিন এসেছিলেন বাংলা ট্রিবিউনের ফেসবুকভিত্তিক অনুষ্ঠান ‘সেলিব্রেটি শো’তে। কথা বলেছেন নিজের কাজ নিয়ে। তবে কথা প্রসঙ্গে কাজের বাইরের ঘটনা ও চিত্রই বেশি উঠে এসেছে তার মুখে। যা অনেকটাই অজানা। এই যেমন তিনি জানালেন, বাসায় তার ডাকনাম তৃপ্তি!
বাংলা ট্রিবিউনের মার্কেটিং হেড অভিনেত্রী বন্যা মির্জার প্রশ্নের যেমন উত্তর দিয়েছেন তেমনি ফেসবুক লাইভের কমেন্ট বক্সে জমা হওয়া নানা প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।

নিজের বর্তমান কাজ নিয়ে এই তারকা বলেন, ‘গত বছর প্রচুর কাজ করেছি। তবে এ বছর সিদ্ধান্ত নিয়েছি, মাসে ২০ দিনের বেশি কাজ করবো না। মাঝে মাঝে ঘুম থেকে ওঠে মনে হয়, আজ শুটিংয়ে না গেলে হয় না? এখানে আমার একটি ডিজ অ্যাডভানটেজ আছে। আমার বাসা শান্তিনগরে, শুটিং স্পট উত্তরায়। তাই প্রতিদিন চার ঘণ্টা করে জার্নি করতে হয়। তাই কিছুটা তো অনীহা তৈরি হবেই।’
শবনম ফারিয়া। ছবি: ওয়ালিউল বিশ্বাসতার কথা শুনতে শুনতেই বন্যা মির্জা যোগ করেন তারকাদের নিয়ে মিডিয়ায় কিছু গুজব-গুঞ্জন নিয়ে।
বিষয়টি নিয়ে ফারিয়ার ভাষ্য, ‘আমি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে। আমার বাবা-মা দুজনই চাকরিজীবী। মা বলতেন, কোনও ভদ্র ঘরের মেয়েরা মিডিয়ায় কাজ করে না! অন্যদিকে, বড় বোনের বয়সের দূরত্ব ১৬, মেজ বোনের ১৩ বছর। তাই বিশাল গ্যাপ ছিল তাদের সঙ্গেও। তারাও বলতেন, হায়, হায় সে এটা কী করছে!’
‘আমার যখন অনার্স পরীক্ষার রেজাল্ট হলো, তখন মাকে বললাম, এবার কাজ করি। বাসা থেকে চাপ ছিল, রেজাল্ট খারাপ হবে। তবে আমি প্রমাণ করেছি কাজ করেও রেজাল্ট ভালো করা যায়। এত কিছু সামলে অন্যকিছু করার সময়টা কই? আমাদের কাজ সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হয়। হ্যাঁ, কারো দাওয়াত থাকলে, কাজ শেষে হয়তো যাই। তখন রাত ১১-১২টা বেজে যায়। কিন্তু অকারণে কিছু করার সময়ই তো নেই।’ অভিনয় নিয়ে নিজের স্ট্র্যাগলের কথা বললেন শবনম।
সম্প্রতি পরপারে পাড়ি জমানো কিংবদন্তি ভারতীয় অভিনেত্রী শ্রীদেবীকেও স্মরণ করেন ফারিয়া। বলেন, ‌‘ভারতের মিডিয়া তো অনেক বড়। তারা অনেক বড় বড় কাজও যেমন করে, আবার দৃষ্টিকটু কাজও করে। শ্রীদেবী মারা যাওয়ার পর তারা নিজেরা বাথটাবে শুয়ে দেখিয়েছে, কীভাবে তিনি মারা গেছেন! আবার স্বামী বনি কাপুর শ্রীদেবীকে মেরেছেন- এমন প্রমাণও করতে চেয়েছে তাদের মিডিয়া। বুঝতে হবে, সবার পারসোনাল জীবন আছে। আমার বাবা মারা যাওয়ার পর যেমন লেগেছে, শ্রীদেবীর মেয়েরও তেমন লেগেছে বলে আমি অনুভব করি। সেই কষ্ট থেকে ফেসবুকে লিখেছি, আমি মারা গেলে কেউ যেন আমার সংবাদ না করে। অনেকটা ক্ষোভ থেকেই বলেছি।’
প্রসঙ্গক্রমেই এসেছিল ফারিয়ার বাবা চলে যাওয়ার ঘটনাটিও। বাবা ও ফারিয়া ছিলেন বন্ধুর মতো। তার কথাতেও সেটা ফুটে উঠল, ‘বড় বোন আমার থেকে ১৬ বছরের বড়। আমার বয়স এখন ২৬। মানে আমার বড় বোন প্রায় ৪০ বছর বাবাকে পেয়েছেন। আমি মনে মনে ভাবতাম, এত অল্প সময় বাবাকে আমি পেলাম!
কিন্তু পরে ভেবে দেখলাম, তাদের চেয়ে বাবাকে নিয়ে আমার স্মৃতি অনেক বেশি। কারণ আমার বোনরা আরলি বিয়ে করেছেন। আবার বাবা-মায়ের বিয়েও ছিল আরলি। মা সেসময় শিক্ষার্থী ছিলেন। বোনেরা ছোটবেলায় নানার বাসায় থেকেছে। কিন্তু আমি সবসময় বাবার সঙ্গেই থেকেছি। তাই বাবার সঙ্গে আমার যে কানেকশন তা তাদের ছিল না।’
চরিত্র বা নিজেকে কীভাবে আপডেট করে নেন, এ বিষয়েও ফারিয়া কথা বলেন। তার ভাষ্য, ‘নাটকে আমি আরেকজন মানুষ সেজে থাকি। এটা অনেক চাপের। মাঝে মধ্যে মাথার মধ্যে চরিত্র থেকে যায়। তখন সেই ট্রেস থেকে বের হতে হয়। বই পড়ে বা সিনেমা দেখে আমি এগুলো কাটিয়ে উঠি। অবশ্য বাসায় ঢুকলে আমি আর শবনম ফারিয়া থাকি না, হয়ে যাই আদরের তৃপ্তি। ওটাই আমার ডাকনাম।’
‘সেলিব্রেটি শো’ সরাসরি প্রচার হয়েছে ২৮ ফেব্রুয়ারি। পুরো অনুষ্ঠানটি দেখতে পারবেন বাংলা ট্রিবিউনের ইউটিউব চ্যানেলে, এই লিংকে:

/এম/এমএম/

লাইভ

টপ