মঞ্চে অপু বিশ্বাস, সামনে ১৬ হাজার জামাই!

Send
আলমগীর চৌধূরী, জয়পুরহাট
প্রকাশিত : ২১:০৫, এপ্রিল ১৫, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৪৭, এপ্রিল ১৬, ২০১৮

১৬ হাজার জামাইকে হাতনেড়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন অপু। ছবি: বাংলা ট্রিবিউনমঞ্চে তখন অপু বিশ্বাস। তার সামনে লাল গামছা মাথায় দিয়ে উন্মুখ হয়ে বসে আছেন ১৬ হাজার জামাই। যারা প্রত্যেকেই বিয়ে করেছেন জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নের মেয়েকে!
পহেলা বৈশাখ একসঙ্গে উদযাপনের জন্য মাত্রাই ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজনে নিমন্ত্রণ পেয়েছেন সেই গ্রামে বিয়ে করা ১৬ হাজার জামাই। স্বামীকে একা ছাড়েননি, সঙ্গে এসেছেন সেই গ্রামের মেয়েরাও। মূলত সেই গ্রামের মেয়ের জামাইদের বরণ করে নিতেই অনুষ্ঠানে হাজির হলেন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস।
অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন মাত্রাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আ.ন.ম শওকত হাবিব তালুকদার লজিক। ১৪ এপ্রিল বেলা আড়াইটায় মাত্রাই উচ্চবিদ্যালয় মাঠের বিশাল মঞ্চে উপস্থিত হয়ে অপু বিশ্বাস মাত্রাই ইউনিয়নের সকল জামাই ও মেয়েদের পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছা জানান। এ সময় মাঠে উপস্থিত জামাই-মেয়ে ছাড়াও হাজার হাজার দর্শক করতালি ও হাত নেড়ে প্রিয় নায়িকাকে পাল্টা শুভেচ্ছা জানান।
পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করার লক্ষ্যে পহেলা বৈশাখে মাত্রাই ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ব্যতিক্রমী এ আয়োজনে প্রধান অতিথি করা হয় অপু বিশ্বাসকে। হেলিকপ্টারযোগে তিনি মাত্রাই আসেন বেলা দেড়টায়। আর মঞ্চে প্রবেশ করেন বেলা আড়াইটায়। সেখানে আধা ঘণ্টা জামাই মেয়ে ও দর্শকদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ছাড়াও জনপ্রিয় একটি গানের সঙ্গে ঠোঁট মিলিয়ে অভিনয় করে মুগ্ধ করেন মাত্রাই স্কুল মাঠের হাজার হাজার জামাই-মেয়ে ও দর্শকদের।
উপহারের লাল গামছা মাথায় দিয়ে বসে আছেন ১৬ হাজার জামাই। ছবি: বাংলা ট্রিবিউনঅনুষ্ঠান শুরুর আগে আয়োজকদের পক্ষ থেকে ইউনিয়নের জামাইদের পান্তা পরিবেশনের পর প্রত্যেককে একটি করে লাল রঙের গামছা বিতরণ করা হয়। সম্মানিত করতে মঞ্চের সামনে জামাইদের জন্য আলাদাভাবে প্যান্ডেল নির্মাণ করে সেখানে তাদের বসার ব্যবস্থা করা হয়। মাত্রাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ.ন.ম শওকত হাবিব তালুকদার লজিক জানান, তিনি এ আয়োজনে মাত্রাই ইউনিয়নের ১৬ হাজার ৮০৩ জন জামাই-মেয়েসহ ৩৩ হাজার ২০৮ জন স্বজনদের নামে দাওয়াতপত্র পাঠিয়েছেন। যাদের আপ্যায়নে ‘কুটুমবাড়ি’ নামের একটি আলাদা প্যান্ডেল নির্মাণ করে শনিবার সকাল ন’টা থেকে পান্তাভাতের আপ্যায়ন করা হয়।
কামদিয়া গ্রাম থেকে আসা মাত্রাই গ্রামের মেয়ে পঞ্চাশোর্ধ বয়সের উমিছা বেগম বলেন, ‘ইচ্ছে থাকলেও সংসারের ঝামেলায় বাবার বাড়ি আসা হতো না। এই অনুষ্ঠানের দাওয়াত পেয়ে শত ব্যস্ততা ফেলে ছুটে এসেছি। অনুষ্ঠানে আয়োজকদের আচরণে মনে হচ্ছে তারা সকলেই আমার ভাই। আমি খুবই খুশি হয়েছি এমন আয়োজনে।’ একই অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অন্য জামাই ও মেয়েরা।

/এমএম/

লাইভ

টপ