হাসপাতাল থেকে এক সপ্তাহের ছুটি নিয়েছি: আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল

Send
মাহমুদ মানজুর
প্রকাশিত : ১৮:৩১, মে ১৬, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৫, মে ১৭, ২০১৮

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলকিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল শারীরিকভাবে বেশ অসুস্থ। এরমধ্যে সবার অগোচরে ৪ দিন রাজধানীর ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি  ছিলেন। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান তার হার্টে ৮টি ব্লক ধরা পড়েছে!
১৫ মে রাতে ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে এসব তথ্য জানান আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল নিজেই। একই পোস্টে তিনি অভিমান প্রকাশ করেন সরকারের প্রতি। অন্যদিকে এই পোস্ট প্রকাশের পর থেকে মিডিয়ায় তৈরি হয়েছে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া। দেশের বেশিরভাগ শিল্পীই প্রকাশ করছেন ক্ষোভ, জানাচ্ছেন এই কিংবদন্তির প্রতি শ্রদ্ধা-সহমর্মিতা।
আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল এখন তার বাসায় অবস্থান করছেন। আজ (১৬ মে) বিকালে অসুস্থতার বিষয়ে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘৪ দিন হাসপাতালে থাকার পর প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে এক সপ্তাহের ছুটি নিয়েছি। বাসায় এসেছি। হাতে কিছু গানের কাজ আছে, সেগুলো গুছাতে হবে। আমি তো আর জানতাম না, হার্টের এই অবস্থা হয়ে আছে। যাইহোক, হাতের কাজ শেষ করে আশা করছি আগামী সপ্তাহে বাইপাস সার্জারির জন্য হাসপাতালে যাবো। সবার কাছে দোয়া চাই। আর কিছুই চাওয়ার নেই।’
এই কিংবদন্তির প্রতি ফের জিজ্ঞাসা ছিল, যেহেতু হার্টে ৮টি ব্লক। নিশ্চয়ই বিষয়টি বেশ গুরুতর। উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার কোনও পরিকল্পনা আছে কি? জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার তেমন কোনও ইচ্ছে নেই। ইব্রাহিম কার্ডিয়াকের চিকিৎসকরাও আমাকে স্বাধীনতা দিয়েছেন। বলেছেন, আমি চাইলে তাদের কাছেও করতে পারি। চাইলে বিদেশেও যেতে পারি। কিন্তু বিদেশে আমার মন টানে না। কারণ, এই চিকৎসকরাই তো আমার সম্পর্কে বেশি জানেন, বোঝেন। তাই উনাদের কাছেই যেতে চাই।’   
আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের ফেসবুক পোস্টের লেখাটি হুবহু তুলে ধরা হলো-
সরকারের নির্দেশেই ২০১২-তে আমাকে যুদ্ধাপরাধীর ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় সাক্ষী হিসেবে দাঁড়াতে হয়েছিল। সাহসিকতার সঙ্গে সাক্ষ্যপ্রমাণ দিতে হয়েছিল ১৯৭১-এ ঘটে যাওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলখানার গণহত্যার সম্পূর্ণ ইতিহাস। আর, ওই গণহত্যা থেকে বেঁচে যাওয়া ৫ জনের মধ্যে আমিও একজন। হত্যা করা হয়েছিল একসঙ্গে ৪৯ জন মুক্তিযোদ্ধাকে। কিন্তু, এই সাক্ষীর কারণে আমার নিরপরাধী ছোটভাই মিরাজ খুন হয়ে যাবে এ আমি কখনোই বিশ্বাস করতে পারিনি। সরকারের কাছে বিচার চেয়েছি, বিচার পাইনি। আমি এখন ২৪ ঘণ্টা পুলিশ পাহারায় গৃহবন্দি থাকি, একমাত্র সন্তানকে নিয়ে। এ এক অভূতপূর্ব করুণ অধ্যায়। একটি ঘরে ৬ বছর গৃহবন্দি থাকতে থাকতে আমি আজ উল্লেখযোগ্যভাবে অসুস্থ। আমার হার্টে ৮টা ব্লক ধরা পড়েছে। বাইপাস সার্জারি ছাড়া চিকিৎসা সম্ভব না। এরই মাঝে কাউকে না জানিয়ে আমি ইব্রাহিম কার্ডিয়াক এ সিসিইউতে চারদিন ভর্তি ছিলাম।
প্রিয় বন্ধুরা, আগামী ১০ দিনের মধ্যে আমি আমার হার্টের বাইপাস সার্জারি করাতে প্রস্তুত রয়েছি। কোনও সরকারী সাহায্য বা শিল্পী, বন্ধুবান্ধবের সাহায্য আমার দরকার নেই, আমি একাই যথেষ্ট (শুধু অপারেশনের আগে ১০ সেকেন্ডের জন্য বুকের মাঝে বাংলাদেশ এর পতাকা এবং কোরআন শরিফ রাখতে চাই)। আর, তোমরা আমার জন্য শুধু দোয়া করবে। কোনও ভয় নেই।

/এমএম/

লাইভ

টপ