নাচে-গানে-আলাপে মাতিয়ে দিলো ‘বনি এম’

Send
বিনোদন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০০:২১, জুলাই ১৪, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:০৭, জুলাই ১৪, ২০১৮

মঞ্চে বনি এম-এর চার সদস্যনাচে-গানে আর আলাপে ঢাকার মঞ্চ মাতিয়ে দিলেন লিজ মিচেল তথা গানের দল বনি এম। নিজেদের জনপ্রিয় গানের পাশাপাশি তারা কণ্ঠে তুলে নিলো বিটলস-এর বিখ্যাত গান ‌‘লেট ইট বি’। গানটি পরিবেশনের আগে দলের প্রধান কণ্ঠশিল্পী লিজ মিচেল বললেন, ‘বিশ্বের সকল মানুষের শান্তি কামনা করে বিটলস-এর বিখ্যাত এই গানটি করছি।’

শুক্রবার (১৩ জুলাই) রাতে সত্তর দশকের তুমুল জনপ্রিয় হিপহপ গানের আসর বসেছে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেম-এ। ‘বনি এম ফিচারিং লিজ মিচেল লাইভ ইন ঢাকা’ শিরোনামের এই কনসার্টটির আয়োজক ক্রেইন্স লিমিটেড।
মঞ্চে বনি এম-এর চার সদস্যডিসকো সুরে সাজানো জনপ্রিয় গানগুলোর পরিবেশনা যখন শুরু হলো, তখন আর কেউ বসে থাকতে পারলেন না নিজ নিজ আসনে। গানের তালে তালে কণ্ঠ মিলিয়ে করতালি আর নেচে-গেয়ে মেতে উঠলেন সবাই। বিশ্বসেরা ডিসকো, আরএন্ডবি ও রেগে ধারার গানের দল বনি এম-এর এই কনসার্টে এমন উন্মাদনায় ভরে উঠবে- এটাই স্বাভাবিক। এই আসরে বনি এম টানা দুই ঘণ্টারও বেশি সময় গান পরিবেশন করে ছড়িয়ে গেল রাশি রাশি মুগ্ধতা।
শুক্রবার রাত সাড়ে সাতটায় মিলনায়তনজুড়ে করতালির মধ্য দিয়ে মঞ্চে আসেন লিজ মিচেল ও বনি এমের অন্য তিন তরুণ সদস্য।
শুভেচ্ছা জানিয়েই লিজ মিচেল শুরু করেন তাদের তুমুল জনপ্রিয় গান ‘সানি’ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। এরপর গাইতে থাকলেন তাদের বিখ্যাত সব গান- ‘ডেডি কুল’, ‘মামা বেকার’, ‘হুররে হুররে ইটস আ হলি ডে’, ‌‘ব্রাউন গার্ল ইন দ্য রেইন’, ‘রাসপুটিন’, ‘বাই দ্য রিভাব অব ব্যাবিলন’ প্রভৃতি।
আলিফ আলাউদ্দীন গাইছেন লিজ মিচেলের সঙ্গেএক পর্যায়ে এসে লিজ মিচেল বাংলায় কথা বলে চমকে দিলেন উপস্থিত সবাইকে। ভাঙা ভাঙা কণ্ঠে হাতে ধরা চিরকুট দেখে বললেন, ‘তোমাদের ভালোবাসি’! এরপর জানালেন ১১ জুলাই ছিল তার জন্মদিন। এ কথা শুনে উপস্থিত দর্শকরা তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ‘হ্যাপি বার্থডে’ গানটি গাইলো সম্মেলক কণ্ঠে। গান শেষে লিজ জানালেন, তার বয়স এখন ৬৬। যদিও দর্শক সারি থেকে তখন কেউ কেউ বলছিলেন- তার বয়স এখনও ১৬, ১৭ কিংবা ১৮...। লিজ এসব শুনে বেশ উচ্ছ্বসিত হন। বললেন, ‌‘থ্যাংকস। আই লাভ দিস নাম্বারস!’
পুরো আয়োজনের শেষের দিকে এসে লিজ মিচেল দর্শকদের চমকে দিলেন আরেকবার। মঞ্চে ডেকে নিলেন বাংলাদেশের কণ্ঠশিল্পী আলিফ আলাউদ্দীনকে! এরপর একই মঞ্চে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে দুজনে গেয়ে শোনান বনি এম-এর দুটো গান। একটি ‌‘রিভার্স অব বেবিলন’ অন্যটি ‘ক্যালেন্ডার সং- জানুয়ারি ফেব্রুয়ারি মার্চ’।
একই মঞ্চে বনি এম সদস্যদের সঙ্গে বাংলাদেশের আলিফ (মাঝে)প্রসঙ্গত, বনি এম সত্তরের দশকের আলোড়ন তোলা ডিসকো গানের দল। ইউরো-ক্যারিবিয়ান চারজন কণ্ঠশিল্পীর এই গানের দলটির সৃষ্টি করেছিলেন জার্মান সঙ্গীত প্রযোজক ফ্রাঙ্ক ফ্যারিয়ার। বনি এমের প্রথম চার সদস্য হলেন লিজ মিচেল, মারিয়া ব্যারেট, মেইজি উইলিয়ামস ও ববি ফারেল। বর্তমানে দলের প্রধান গায়িকা লিজ মিচেল ছাড়া বাকি তিনজনই বেশ তরুণ।
বনি এম-এর প্রথম অ্যালবাম ‘টেক দ্য হিট অব মি’ প্রকাশ হয় ১৯৭৬ সালে। প্রথম অ্যালবামে ‘ডেডি কুল’, ‘সানি’, টেক দ্য হিট ফর মি’, ‘বেবি ডু ইউ ওয়ানা বাম্প’, ‘নো ওমেন নো ক্রাই’ ও ‘ফিভার’ গানগুলো রয়েছে। অ্যালবামের প্রথম হিট সিঙ্গেল ‘ডেডি কুল’ যুক্তরাজ্যের টপ চার্টে স্থান করে নেয়। ডিসকো গানের এ অ্যালবামটি ইউরোপের নানা দেশের টপ চার্টের সেরা অবস্থান অর্জন করে। এরপর তাদেরকে আর পেছেনে তাকাতে হয়নি। সারা বিশ্বে ডিসকো গানের দল হিসেবে তারা ট্যুর করতে থাকে।
দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘লাভ ফর সেল’ বের করে ১৯৭৭ সালে। ‘মা বেকার’, ‘বেলফাস্ট’, ‌‘মাদারলেস চাইল্ড’ গানগুলো জনপ্রিয়তা পায়।
১৯৭৮ সালে প্রকাশ পায় অ্যালবাম ‘নাইটফ্লাইট টু ভেনাস’। এই অ্যালবাম তাদেরকে এনে দেয় ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সফলতা। ‘রিভার অব ব্যবিলন’, ‘রাসপুটিন’, ‘ব্রাউন গার্ল ইন দ্য রেইন’ গানগুলো অসম্ভব জনপ্রিয়তা পায়। যুক্তরাষ্ট্রেও তারা ব্যাপক সাড়া পায়। পরের অ্যালবাম ‘ওশেনস অব ফ্যান্টাসি’ প্রকাশ পায় ১৯৭৯ সালে। সেখানে স্থান পায় তাদের ক্যারিয়ারের আরেক তুমুল জনপ্রিয় গান ‘হুররে হুররে ইটস আ হলি হলি ডে’।

বনি এম-এর পুরনো পরিবেশনা:

১৯৮০ সালে প্রকাশ পায় তাদের প্রথম সংকলন অ্যালবাম ‘দ্য ম্যাজিক অব বনি এম-টোয়েন্টি গোল্ডেন হিটস’।
‘বুনুনুজ’ শিরোনামের পঞ্চম অ্যালবামটি আসে ১৯৮১ সালে। এক পর্যায়ে দলের সদস্যদের মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না। বর্তমানে লিজ মিচেল নতুন সদস্যদের নিয়ে সারা বিশ্ব ঘুরে ঘুরে গান গেয়ে মাতিয়ে চলেছেন, বাঁচিয়ে রেখেছেন সত্তর দশকের ব্যান্ড বনি এম-এর নামটাও।

এমএম

লাইভ

টপ