আমি ওদের মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনাতাম: ঐশী

Send
ওয়ালিউল বিশ্বাস
প্রকাশিত : ১৮:০৫, ডিসেম্বর ১১, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৪৮, ডিসেম্বর ১১, ২০১৮

খেলার মাঠে সতীর্থদের সঙ্গে ঐশীমিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ শেষে চীন ছেড়েছেন জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী। গতকাল ১০ ডিসেম্বর রাতে দেশে এসেছেন এই তারকা।
জানালেন, শুধু মঞ্চেই নয়, লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব করা এই মডেল মহান মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনিয়েছেন অন্য প্রতিযোগীদের।
বিশেষ করে ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ মেক্সিকান ভ্যানেসা পন্তে, নেপালের শৃঙ্খলা খাড়িওয়া ছিল তার সবচেয়ে ভালো বন্ধু। আর গতবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতের মানুসি চিল্লারের চোখের মণি ছিলেন ঐশী। তাদের সঙ্গেই বেশি সময় কাটতো তার।
প্রতিযোগিতায় নামার আগে হালকা অনুশীলনঐশী বলেন, ‌‘আমার রুমমেট ছিল নেপালের শৃঙ্খলা খাড়িওয়া। সে আমার দেশ সম্পর্কে জানত। কিন্তু ৩০ লাখ শহীদের বিনিময়ে এ দেশ পেয়েছি, তা জানতো না। তার সঙ্গে আমার এ নিয়েই গল্প হতো। আর এবারের প্রতিযোগিতায় সে বেশ শক্ত প্রতিযোগী ছিল। ভোটিংয়ে দেখা গেছে মিস নেপালের সম্ভাবনা বেশি। শুনেছি, মিস ওয়ার্ল্ডের ইতিহাসে নাকি সে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাকি ওর থেকে বেশি আলোচিত আর কেউ ছিল না।’
আর ভ্যানেসার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মেধা, যোগ্যতার পাশাপাশি মিস ওয়ার্ল্ড কর্তৃপক্ষ একজন ভালো মনের মানুষ খোঁজেন। সে কারণেই ভ্যানেসা এগিয়ে যায়। আমি ওর সঙ্গে যখন গল্প করতাম তখন টের পেতাম সে কতটা ভালো মনের মানুষ। তার কথার মধ্যে মনে হতো জাদু আছে। চারদিকে সে ইতিবাচক মনোভাব ছড়িয়ে দিতে পারত। আর সে আসলেই খুব ভালো। তাকে আমি বাংলাদেশের গল্প শোনাতাম। আগে বাংলাদেশের নাম শুধু জানতো। আমার কাছে গল্প শুনে আমাদের দেশ সম্পর্কে তার ভালো ধারণা তৈরি হয়ে গেছে। এ জন্য সে এদেশে আসবে বলেও জানিয়েছে। আমি বলেছি, তুমি বাংলাদেশে এলে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সমুদ্রসৈকত দেখাবো। এটা আমাদের কক্সবাজারে অবস্থিত।’
প্রতিযোগীদের সঙ্গে খুনসুটিঐশী জানান, হেড টু হেড চ্যালেঞ্জ পর্বে অনেক নার্ভাসনেস নিয়েই শুরু করেন। কারণ, এ গ্রুপে ছিলেন নাইজেরিয়ান অনিতা উকাহ। তিনি যেমন উচ্চতায় (৬ ফিট ২ ইঞ্চি) সবার চেয়ে এগিয়ে ছিলেন, তেমনি পড়াশোনাতেও সবার চেয়ে ভালো। তিনি পেশায় ছিলেন বিজ্ঞানী। অন্যদিকে ঐশী মাত্র এইচএসসি পাস করেছেন। তবে প্রশ্ন-উত্তর পর্বে ঐশীর জবাবে মুগ্ধ হন বিচারকরা। অনিতা উকাহকে হারিয়ে গ্র্যান্ড ফিনালেতে পৌঁছে যান ঐশী।
ঐশীকে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করতেন গতবারের মুকুট জয়ী ভারতের মানুসি চিল্লার। প্রতিবেশী দেশের মেয়ে বলেই হয়তো এই আদর তার কাছ থেকে আসতো বলে মনে করেন ঐশী।
মানুসি চিল্লার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘আমি তাকে দিদি বলে ডাকতাম। প্রতিযোগিতার শেষ ১৬ দিন আমি তাকে কাছে পেয়েছি। প্রতিযোগীরা বলতো মানুসি চিল্লার তোমাকে বেশি আদর করে। আমার প্রতি মানুসির কেয়ারিং দেখে শৃঙ্খলা তো বলেই ফেলল, ‘ও শুধু তোমাকে পছন্দই করেন, খুব ভালোবাসেন।’ সবাই আমাকে মানুসির ছোট বোন বলে ডাকত।’’
আপাতত ঐশীর ইচ্ছে পড়াশোনায় মন দেওয়া। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন ভর্তির সুযোগ নেই। তাই বেসরকারি কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করবেন তিনি। পাশাপাশি শোবিজেও তাকে দেখা যাবে বলে জানালেন ১৮ বছর বয়সী এই তারকা।
উল্লেখ্য, ৮ ডিসেম্বর রাতে চীনের হাইনান প্রদেশের সানাইয়া সিটি এরেনায় অনুষ্ঠিত হয় প্রতিযোগিতাটির ফাইনাল আসর। ৬৮তম এই আসরে ১১৭ দেশের সুন্দরীরা অংশ নেন। ঐশী সেরা ৩০ প্রতিযোগী হিসেবে গ্র্যান্ড ফিনালেতে অংশ নেন।চীনের রাস্তায় ঐশী

/এমএম/এমওএফ/

লাইভ

টপ