আমরা কাদা ছোড়াছুড়ি করবো না, তবে জবাব দেবো: তানযীর তুহীন

Send
ওয়ালিউল বিশ্বাস
প্রকাশিত : ১৭:০৪, জানুয়ারি ২৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৫৪, জানুয়ারি ২৯, ২০১৯

তানযীর তুহীন২৭ জানুয়ারি ইউটিউবে এসেছে ‘আভাস’ নামের একটি গান। এক বছর ধরে নিয়মিত কনসার্ট করলেও মূলত এ গানচিত্রের মাধ্যমেই ব্যান্ড ‘আভাস’ শ্রোতা-দর্শকদের কানে-চোখে পৌঁছালো নতুন আবহের ইঙ্গিত নিয়ে।
তার ওপর এর সঙ্গে যুক্ত হলো শিরোনামহীন-ছুট জনপ্রিয় মুখ তানযীর তুহীনের নামটিও। ফলে গানচিত্রটি প্রকাশের পর ইউটিউব ভিউও জানান দিচ্ছে, গানটি বেশ ভালোভাবে গ্রহণ করছেন দর্শকরা। ‘আভাস’ ব্যান্ড ও গান, সঙ্গে পুরনো যোগসূত্রতার সবকিছুরই উত্তর বাংলা ট্রিবিউনের কাছে মেলে ধরলেন আভাস-নেতা তানযীর তুহীন—


বাংলা ট্রিবিউন: গানটা কেমন যেন, একটু যেন এলোমেলো করে দেয়। পুরনো সুবাস, তুহীনের পরিবেশনা—কেমন পাচ্ছেন রেসপন্স?
তানযীর তুহীন: আমি যেমন, ঠিক তেমন করেই গাওয়ার চেষ্টা করেছি। আর রেসপন্স মাশাল্লাহ, ভালো পাচ্ছি। খুবই ভালো পাচ্ছি। অনেক বড়মাপের মানুষের কাছ থেকে সাড়া পেয়েছি। যা হয়তো সেভাবে ভাবিনি। কিন্তু পাচ্ছি। আর বাকিটা শ্রোতারা বলতে পারবেন।
ট্রিবিউন: একটা সময় শিরোনামহীনে ছিলেন। অনেক দিনের বন্ধুত্ব আপনাদের। পুরনো ব্যান্ড সদস্যরা কি গানটা নিয়ে কোনও শুভকামনা জানিয়েছেন?
তুহীন: তারা শুনেছেন কিনা আমি জানি না। আমার কাছে এখনও কোনও রেসপন্স আসেনি। এটা হয়তো তাদের ব্যাপার। তবে জিয়া (জিয়া রহমান, শিরোনামহীন) অনেক আগে আভাস ব্যান্ড প্রসঙ্গে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আমাদের। যে যেখানেই থাকি, আমরা তো মিউজিশিয়ান। সবাই মূলত কাছের। ভালো কিছু হলে অবশ্যই সাধুবাদ জানাবো একে অপরকে। এটাই স্বাভাবিক।
ট্রিবিউন: বছরের প্রথম মাসেই এলো প্রথম আনুষ্ঠানিক গান। এর পরের গানটি কবে আসছে। সামনের মাসেই? প্রকাশনা নিয়ে আপনাদের পরিকল্পনা কী?
তুহীন: না না, প্রতি মাসেই গান প্রকাশ করবো না। আবার হয়তো তিন চার মাস পর একটি অবমুক্ত করবো।

গান তৈরি করা খুব সহজ, কিন্তু মানুষকে সন্তুষ্ট করাটা কঠিন। কারণ, এখনকার শ্রোতাদের কান আরও শক্তিশালী। বিশেষ করে বাংলা গানে মানুষকে তৃপ্ত করাটা আসলেই কঠিন। আর একটা কথা, যে মানুষগুলো চলে যাচ্ছেন, বুলবুল ভাই, আইয়ুব বাচ্চু ভাই; তাদের তো আমরা শিক্ষক মানি। তাই গান শুধু প্রকাশ নয়, আরও শিখে শিখে কাজ করতে চাই। দুই তিনটা গান পাইপলাইনে আছে। তবে ধীরে ধীরে এগুলো আনতে চাই।
মঞ্চে ‘আভাস’ সদস্যরাট্রিবিউন: প্রথমেই বলেছি, গানটির মধ্যে পুরনো সুবাস পেলাম। আরও স্পষ্ট করে বললে, শিরোনামহীনের ধাঁচটি পাওয়া গেল...।
তুহীন: আসলে আমি চাইলেই তো খোলনলচে সব পাল্টে দিতে পারবো না। সেটা চাইও না। শিরোনামহীনে যেভাবে সুর করেছি, বড় হয়েছি- সেটাই রেখেছি। চাইলেই তো কাওয়ালি গাইতে পারবো না এখন। আমার ভয়েস যেমন ঠিক সেভাবেই করেছি। চেঞ্জ করতে চাইনি।
ট্রিবিউন: তাহলে এখন ‘আভাস’ নিয়ে পরিকল্পনা কী?

তুহীন: বেশ কিছু লাইভ কনসার্ট করলাম। ঈদের আগে কিছু কনসার্ট করবো। এছাড়া বাকিটা সময় স্টুডিওতে কাটবে।
ট্রিবিউন: কনসার্টে তো শিরোনামহীনের গান গাইতে পারবেন না। কিছু দিন আগেই তা বেআইনি ঘোষণা করেছে কপিরাইট বোর্ড। শিরোনামহীনের সদস্যরা অভিযোগ করেছিলেন, দলটির জনপ্রিয় গানগুলোকে বাণিজ্যিকভাবে মঞ্চে পরিবেশন করে অর্থনৈতিক সুবিধা নিচ্ছেন আপনি।
তুহীন: আমি নিজেও শুনানিতে উপস্থিত ছিলাম। কিন্তু রায় আমার পছন্দ হয়নি। ডিসেম্বরের সে ঘটনার পরপরই আপিল করেছি। নতুন বোর্ড গঠন হবে। দেখি তারা কী করেন! দরকার হয় উচ্চ আদালতে যাবো। দেখুন, আমাদের এখানে কপিরাইটের যে আইন আছে তা ব্রিটিশ সময়কার। এটা ভারত হয়ে বাংলাদেশে এসেছে। একক গান নিয়ে আইনটি করা। কিন্তু ব্যান্ড তো সম্মিলিত প্রচেষ্টা। এখানে ভোকালেরও অধিকার থাকে। আমি চাই একক গানের মতোই ব্যান্ডের একটা আইন হোক। আমি মূলত আমার ভোকাল রাইট নিয়ে লড়ছি। আর তারা (শিরোনামহীন) কাদা ছোড়াছুড়ি করছে করুক। আমরা এসব করবো না, তবে আইনিভাবে এগুলোর জবাব অবশ্যই দেবো। মঞ্চের বাইরে ‘আভাস’ সদস্যরাপ্রসঙ্গত, নানা ঘটনার পর ‘শিরোনামহীন’ ছেড়ে গত বছর ফেব্রুয়ারিতে নতুন ব্যান্ড গড়েছেন তানযীর তুহীন। ‘আভাস’ নামের এই ব্যান্ডের সদস্য পাঁচজন। ব্যান্ডের লাইনআপ হলো: লিড গিটার- সুমন, বেস গিটার- রাজু, ড্রামস- রিঙ্কু, কিবোর্ডস- শাওন, ভোকাল- তুহীন।

/এমএম/এমওএফ/

লাইভ

টপ