গ্র্যামিতে র‌্যাপারদের অবজ্ঞা করার শোধ!

Send
জনি হক
প্রকাশিত : ১৯:৩৯, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৫৮, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৯

চাইল্ডিস গ্যামবিনো। মিউজিক ভিডিওর চিত্রপুলিশি নৃশংসতা ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে বিদ্রুপাত্মক গান ‘দিস ইজ আমেরিকা’র সুবাদে সংগীতের সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার গ্র্যামিতে ইতিহাস গড়লেন মার্কিন সংগীতশিল্পী চাইল্ডিশ গ্যামবিনো। রেকর্ড অব দ্য ইয়ার ও সং অব দ্য ইয়ার সম্মান পেয়েছে এটি।
গ্র্যামির ৬১ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনও র‌্যাপ গান এই দুটি বিভাগে পুরস্কার পেলো। এছাড়া সেরা মিউজিক ভিডিও ও সেরা র‌্যাপ/সাং পারফরম্যান্স পুরস্কার দুটিও জিতেছে গানটি। বলা যায়, গ্র্যামিতে র‌্যাপারদের উপেক্ষা করার শোধ নিলেন ৩৫ বছর বয়সী এই তারকা।


যদিও যুক্তরাষ্ট্রে লস অ্যাঞ্জেলেসের স্ট্যাপলস সেন্টারে ১০ ফেব্রুয়ারি (বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী ১১ ফেব্রুয়ারি সকাল) অনুষ্ঠিত গ্র্যামির ৬১তম আসরে উপস্থিত ছিলেন না চাইল্ডিশ গ্যামবিনো। তার প্রকৃত নাম ডোনাল্ড গ্লোভার। তিনি একাধারে অভিনেতা, কমেডিয়ান, লেখক, র‍্যাপার, ডিস্কো জকি। ‘দিস ইজ আমেরিকা’ গানের ভিডিওতে উদাম গায়ে অস্বাভাবিক দেহভঙ্গিতে অতিরঞ্জিত মুদ্রায় নেচে সাড়া ফেলে দেন চাইল্ডিশ গ্যামবিনো। মিনিট চারেকের এই ভিডিওতে তার গান ও দৃষ্টিনন্দন আফ্রিকান নাচের পেছনে আমেরিকার সামাজিক অস্থিরতার চিত্র ফুটে উঠেছে। আমেরিকায় জীবনের চেয়ে বন্দুকের মূল্য বেশি আর দেশটিতে খুব সহজেই যেকোনও মাত্রার অস্ত্র কেনা যায়, ভিডিওটিতে সেইসবের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
চাইল্ডিশ গ্যামবিনোর স্বদেশি কেন্ড্রিক ল্যামারও ছিলেন না অনুষ্ঠানে। কারণ গ্র্যামিতে মনোনয়ন উজাড় করে দিলেও পুরস্কারের বেলায় সাধারণত র‌্যাপারদের অবজ্ঞা করা হয়। পপ ও রিদমঅ্যান্ডব্লুজ গানের শিল্পীরাই মূলত শেষ হাসি হাসেন। তবে এবার মিললো অন্য ছবি।
চাইল্ডিশ গ্যামবিনোর পক্ষে মঞ্চে পুরস্কারগুলো গ্রহণ করেন ‘দিস ইজ আমেরিকা’ গানে তার সঙ্গে কাজ করা ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ ছবির আবহ সংগীতকার লুডউইগ গোরানসন। র‌্যাপ পারফরম্যান্স বিভাগে যৌথভাবে সেরা হয়েছে কিং’স ডেড (কেন্ড্রিক ল্যামার, জেই রক, ফিউচার ও জেমস ব্লেক) ও বাবলিন (অ্যান্ডারসন. পাক)।

কানাডিয়ার র‌্যাপার ড্রেকেরও আসার কথা ছিল না অনুষ্ঠানে। তবে ‘গডস প্ল্যান’ গানের সুবাদে সেরা র‌্যাপ সং পুরস্কার নিতে মঞ্চে এসে সবাইকে চমকে দেন তিনি।
ড্রেকসংগীতশিল্পীদের পুরস্কার জয় নিয়ে দুশ্চিন্তা না করার আহ্বান জানিয়েছেন ৩২ বছর বয়সী এই তারকা। তার কথায়, ‘মানুষের মুখে মুখে যদি গান থাকে আর নিজের শহরে সুনাম কুড়াতে পারার মতো বড় পুরস্কার আর হয় না। বৃষ্টিতে ও তুষারে ভিজে কঠোর পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করা মানুষ যদি কারও কনসার্টের টিকিট কেনে তাহলে পুরস্কার মুখ্য থাকে না।’

‘গোল্ডেন আওয়ার’-এর সুবাদে গ্র্যামির এবারের আসরের সর্বোচ্চ পুরস্কার অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার পেয়েছেন কান্ট্রি শিল্পী ক্যাসি মাসগ্রেভস। সেরা কান্ট্রি অ্যালবাম সম্মানও পেয়েছে এটি। সেরা কান্ট্রি সলো পারফরম্যান্স হয়েছে তার ‘বাটারফ্লাইস’। সেরা কান্ট্রি সং স্বীকৃতি পেয়েছে এই গায়িকার ‘স্পেস কাউবয়’।ক্যাসি মাসগ্রেভস

জনপ্রিয় র‌্যাপার কার্ডি বি’র ‘ইনভেশন অব প্রাইভেসি’ সেরা র‌্যাপ অ্যালবাম হয়েছে। এটাই তার প্রথম গ্র্যামি জয়। এবারই প্রথম কোনও নারী র‌্যাপার পুরস্কারটি পেলেন। পুরুষশাসিত হিপ-হপ দুনিয়ায় অন্য নজির স্থাপন করলেন ২৬ বছর বয়সী এই র‌্যাপের রানি।কার্ডি বি

মার্কিন গায়িকা লেডি গাগার হাতে উঠেছে তিনটি ট্রফি। এর মধ্যে সেরা পপ দ্বৈত/দলীয় পারফরম্যান্স ও সেরা সংরাইটার ফর ভিজ্যুয়াল মিডিয়া পুরস্কার দুটি তাকে এনে দিয়েছে ‘অ্যা স্টার ইজ বর্ন’ ছবির গান ‘শ্যালো’। এছাড়া গাগার ‘জোয়েন’ অ্যালবামের ‘হোয়্যার ডু ইউ থিঙ্ক ইউ আর গোইন?’ সেরা পপ সলো পারফরম্যান্স স্বীকৃতি পেয়েছে।লেডি গাগা

ব্রিটিশ পপ গায়িকা দুয়া লিপা গ্র্যামির সেরা নতুন সংগীতশিল্পী সম্মান পেয়েছেন। সেরা ড্যান্স রেকর্ডিং পুরস্কার পেয়েছে ডিপ্লো ও মার্ক রনসনের সংগীতায়োজনে সিল্ক সিটির সঙ্গে দুয়া লিপার গাওয়া ‘ইলেক্ট্রিসিটি’।

সেরা পপ ভোকাল অ্যালবাম হয়েছে আরিয়ানা গ্র্যান্ডের ‘সুইটেনার’। এটাই তার প্রথম গ্র্যামি জয়। চাইল্ডিশ গ্যামবিনো ও কেন্ড্রিক ল্যামারের মতো বিজয়ীদের মধ্যে তিনিও ছিলেন না অনুষ্ঠানে। রেকর্ডিং অ্যাকাডেমির সঙ্গে বনিবনা না হওয়াই এর কারণ।

লেডি গাগা, জাডা পিঙ্কেট স্মিথ, অ্যালিসিয়া কিস, মিশেল ওবামা ও জেনিফার লোপেজএ আয়োজন উপস্থাপনা করেন ১৫ বার গ্র্যামিজয়ী মার্কিন গায়িকা অ্যালিসিয়া কিস। উদ্বোধনের পরপরই তিনি মঞ্চে আমন্ত্রণ জানান যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা ও মার্কিন গায়িকা জেনিফার লোপেজ, লেডি গাগা ও অভিনেত্রী জাডা পিঙ্কেট স্মিথ।

কেটি পেরি, ডলি পার্টন ও ক্যাসি মাসগ্রেভসপুরস্কার বিতরণীর ফাঁকে ফাঁকে ছিল বিখ্যাত তারকাদের পরিবেশনা। তাদের সুরের মাধুর্য আর বর্ণিল পরিবেশনায় বিমোহিত হয়েছেন অতিথিরা। সাড়ে তিন ঘণ্টার এই আয়োজনে মঞ্চ মাতিয়েছেন লেডি গাগা, রিকি মার্টিন, কার্ডি বি, ডায়ান রস, ক্যামিলা কাবেলো, ডলি পার্টন, মাইলি সাইরাস, জানেল মোনাই, কেটি পেরি, পিঙ্ক, ট্রাভিস স্কট, হার, পোস্ট ম্যালোন, শন মেন্ডেস। প্রয়াত অ্যারেথা ফ্রাঙ্কলিনকে গান গেয়ে স্মরণ করেন আন্ড্রা ডে, ফ্যান্টাসিয়া ও ইওল্যান্ডা অ্যাডামস।

২০১৭ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সময়ে প্রকাশিত গান ও সংগীতের মধ্য থেকে সেরাদের পুরস্কৃত করা হয়েছে এবার। ১৯৫৯ সালের ৪ মে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস।
***দেখুন ৬১তম গ্র্যামিজয়ীর তালিকা

/জেডএল/এম/

লাইভ

টপ