যেভাবে চলছে ‘মিশন এক্সট্রিম’-এর রিহার্সেল

Send
ওয়ালিউল বিশ্বাস
প্রকাশিত : ১৫:৪৮, মার্চ ১৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৩০, মার্চ ১৭, ২০১৯

ডানে রিহার্সেলের একাংশভেতরে পিনপতন নীরবতা। কান উঁচিয়ে থাকলেও বোঝার উপায় নেই রুমের ভেতরে যজ্ঞের মানুষ। তবে দরজার বাইরে জমা থাকা বাহারি জুতো-হিল জানান দিচ্ছিল ভেতরে বিরাট কাণ্ড চলছে।
কথা অনুযায়ী ভিজিয়ে থাকা দরজা ধরে নিজের মাথাটা গলিয়ে দিতেই দূর থেকে চোখে পড়ল ঐশী আর সাদিয়া। পাশেই বসে আছেন আরিফিন শুভ। নিমগ্ন শ্রোতা তারা। শুধু এ কজনই নন। মেঝেতে গোল হয়ে বসে আছেন তাসকিন আহমেদ, মাজনুন মিজান, আরেফ সৈয়দ, ইরেশ যাকের, কেমিক্যাল ইকরাম, মনোজ কুমার, সেঁওতি, রাশেদ মামুন অপুসহ বেশ কয়েকজন। তারা শুনছিলেন ‌‘মিশন এক্সট্রিম’-এর পরিচালক সানী সানোয়ার ও ফয়সাল আহমেদের কথা। আর মন্তব্যগুলো শুধরে দিচ্ছেন বরেণ্য অভিনেতা তারিক আনাম খান।
ঠিক এভাবেই গত তিন দিন (১৪, ১৫ ও ১৬ মার্চ) ধরে চলছে ‘মিশন এক্সট্রিম’ চলচ্চিত্রের প্রস্তুতি ও অনুশীলন পর্ব।
সবার এ গোল আলোচনা পর্বের বিরতিতে বাংলা ট্রিবিউন প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বললেন ছবির নায়ক আরিফিন শুভ। কেন ‘মিশন এক্সট্রিম’- এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘এটা বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ বাহিনীর অভিযান নিয়ে চলচ্চিত্র। তবে এক্সট্রিম বলতেই যে বড় আক্রমণ, যুদ্ধাস্ত্র তা নয়। বরং বলা যায়, মিশনের পরের যে ইফেক্ট তাই তুলে ধরা হবে। এখানে থাকছে কাহিনির গভীরতা ও ভার। মূলত এ দুটি কারণে ছবির নাম ‘মিশন এক্সট্রিম’।’’
ছবিতে শুভ একজন স্পেশাল ফোর্সের প্রধান। আরেক পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে থাকছেন সাদিয়া আন্দালিব নাবিলা। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বললেন, ‘ছবিতে আমার চরিত্রটিও পুলিশের। দীর্ঘদিন ধরে চরিত্রটি নিয়ে কাজ করছি। আমি গত ১১ মার্চ দেশে আসার পর পুরোদমে প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
তবে শুধুই কি আইনি চরিত্রে নাকি নায়িকা হিসেবেও দেখা যাবে সাদিয়াকে- এমন প্রশ্নের উত্তরটা রেখে দিলেন পর্দার জন্য।
অন্যদিকে ছবির প্রধান নায়িকা হিসেবে দেখা যাবে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ-২০১৮ জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশীকে। এখানে তিনি একজন পেশাজীবী মেয়ের চরিত্রে হাজির হচ্ছেন। ছবিটির সঙ্গে তার যোগসূত্রটাও অন্যভাবে। তার ভাষ্য, ‘আমি আসলে ভিন্ন এক পেশার মেয়ে। কিন্তু ঘটনাক্রমে পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাব। শুভ ভাইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক দেখানো হবে।’
সবই তো নায়ক-নায়িকার গল্প শোনা গেল। তাহলে খলনায়ক কে? বাঘা বাঘা সব অভিনেতা এবার এই ভূমিকায় থাকছেন। তবে প্রধান দুই খলনায়ক ‘ঢাকা অ্যাটাক’-এর তাসকিন রহমান ও ইরেশ যাকের। তার সঙ্গে সহযোগী হিসেবে থাকছেন ‘অনিল বাগচির একদিন’ চলচ্চিত্রের নায়ক আরেফ সৈয়দ, অভিনেতা মনোজ কুমার ও রাশেদ মামুন অপু।
ছবির নায়ক-নায়িকাদের নিয়ে যখন শিল্পকলা একাডেমির চিলেকোঠায় কথা হচ্ছিল, তখন সময় বেলা পাঁচটা, ১৬ মার্চ। সেদিনের পর্ব শেষ হতে আরও এক ঘণ্টা বাকি। তাই অন্যদিকে তারিক আনাম খান বসে গেছেন রিহার্সেলে। মূলত তিনিই অভিনয় ও গ্রুমিংয়ের অংশটা দেখছেন। পরিচালক সানী সানোয়ার জানালেন, গত তিন দিন ধরে এখানেই চলেছে তাদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। আজই শেষ দিন- তাই তারিক আনাম খানও চাইছেন শেষের এক ঘণ্টায় নিজেদের আরও শানিয়ে নিতে।
শিল্পীদের মন্তব্য ও রিহার্সেলের কয়েক ঝলক:

অনুশীলন ঘরে চলছে দৃশ্য। মূলত চার যুবক অনুশীলনে। দুই জন আগন্তুক, এক সিএনজিওয়ালা ও ছবির অন্যতম এডি অরূপ রতন। রতন হেলে দুলে এসে সিএনজিওয়ালাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘মামা যাবেন? জিগাতলা?’
- না যামু না।
- চল যাই, বাড়াইয়া দিবনি।
- না, আমি উল্টা দিকে যামু।
অরূপের চলে যাওয়ার পরই সিএনজির কাছে এসে দাঁড়ালেন মনোজ কুমার ও রাশেদ মামুন অপু।
আগ বাড়িয়ে সিএনজিচালক বলে উঠলেন, ‘আকাশের রং কি আঁখি!’
মনোজ নিচু গলায় বললেন, ‘লাল!’
অমনি তারিক আনাম খান মেঝে থেকে উঠে হাত নাড়িয়ে বললেন, ‘ভালো হয়েছে। আরও সাবলীল লাগবে। আবার করো!’
দৃশ্য আবার শুরু হলো। কিন্তু একটা প্রশ্ন মাথায় ঘুরছে, ‘আকাশের রং কী আঁখি!’- এটা কেমন প্রশ্ন?
ঐ দৃশ্যে কোনও নারী চরিত্র নেই, কিন্তু ‘আঁখি’ নামটি কেন এলো!
পাঠক, আপনিও খুঁজতে পারেন, ‘মিশন এক্সট্রিম’ ছবির এই রহস্যময় ডায়লগের তল!
প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কপ ক্রিয়েশনস জানায়, ছবিটির মূল শুটিং শুরু হচ্ছে ২০ মার্চ থেকে।
প্রসঙ্গত, ‘ঢাকা অ্যাটাক’ দেশের প্রথম পুলিশ অ্যাকশন থ্রিলার। সে হিসেবে ‘মিশন এক্সট্রিম’ হতে যাচ্ছে পুলিশ অ্যাকশন থ্রিলার ঘরানার দ্বিতীয় ছবি।চলছে রিহার্সেল

/এমএম/

লাইভ

টপ