‘আমরা সংবাদে প্রমাণ করেছি সততা, অনুষ্ঠানে রেখেছি বৈচিত্র্যের ছাপ’

Send
সুধাময় সরকার
প্রকাশিত : ০০:০৫, মার্চ ৩১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:১৭, মার্চ ৩১, ২০১৯

দেশের অন্যতম জনপ্রিয় বেসরকারি টিভি চ্যানেল বাংলাভিশন। গেল ১৩ বছরে বাংলাদেশে প্রায় দুই ডজন টিভি চ্যানেলের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে, তবে সবার ভিড়ে বাংলাভিশন আলাদা প্রমাণ করেছে নিজেকে। সংবাদ ও সংবাদভিত্তিক পর্যালোচনা ছাড়াও চ্যানেলটির বেশিরভাগ নাটক ও অনুষ্ঠান জনপ্রিয়তা পেয়েছে ধারাবাহিকভাবে। এমন ধারাবাহিকতা দেশের অন্য কোনও চ্যানেলে পাওয়া যায়নি বলেই মত প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।  
আজ, ৩১ মার্চ ১৩ বছর পেরিয়ে ১৪ বছরে পদার্পণ করলো বাংলাভিশন। এমন বিশেষ দিন উপলক্ষে বাংলা ট্রিবিউন-এর মুখোমুখি হলেন চ্যানেলটির অনুষ্ঠান প্রধান তারেক আখন্দ।

তারেক আখন্দবাংলা ট্রিবিউন: আপনার মাধ্যমে বাংলাভিশন পরিবারের প্রতি জন্মদিনের শুভেচ্ছা...।
তারেক আখন্দ: ধন্যবাদ। সবসময় আপনারা এই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আছেন, এটাই আমাদের বড় উৎসাহের বিষয়। এর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
বাংলা ট্রিবিউন: ১৩ বছর একটি টিভি চ্যানেলের জন্য খুব বেশি সময় নয়, আবার কমও বলা যাবে না। শুরু থেকেই এই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আপনি যুক্ত আছেন। আপনার মূল্যায়ন কেমন। আপনাদের অর্জন কতটুকু?
তারেক আখন্দ: আপনার কথার রেশ ধরেই বলতে চাই, ১৩ বছরে আমাদের অর্জন খুব বেশি নয়, আবার কমও নয়। এই সময়টুকুর মধ্যে আমরা দর্শকের মনে আলাদা করে জায়গা করে নিতে পেরেছি বলেই মনে হচ্ছে। আমাদের সংবাদে নিরপেক্ষতার বিশ্বাস তৈরি হয়েছে। এটা অনেক বড় একটা বিষয়। আমাদের বলার মতো বেশ কিছু বৈচিত্র্যপূর্ণ অনুষ্ঠান তৈরি হয়েছে। জনপ্রিয় নাটকের একটি বড় তালিকাও তৈরি হয়েছে। এগুলো আমাদের বড় অর্জন।
বাংলাভিশনের লগোবাংলা ট্রিবিউন: বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আজ (৩১ মার্চ) কী কী আয়োজন থাকছে আপনাদের টিভি পর্দায় ও অফিসে?
তারেক আখন্দ:
দেখুন আমাদের দেশে এতগুলো চ্যানেল, সবার এত এত দৈনিক আয়োজন। তবুও বিশেষ এই দিনটিতে বরাবরের মতো এবারও আমরা চেষ্টা করবো দর্শক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্য বিশেষ কিছু আয়োজন করার। আমাদের শিল্পী-কলাকুশলী, ক্যাবল অপারেটর, বিজ্ঞাপনদাতারা আছেন, তারা নিশ্চয়ই আমাদের শুভেচ্ছা জানাতে অফিসে আসবেন। আমরা সবার অপেক্ষায় থাকবো। মিষ্টিমুখ করবো। তাদের জন্য দিনব্যাপী বাংলাভিশন দফতরে বিশেষ আয়োজন থাকবে। আর পর্দায় দুদিনব্যাপী বিশেষ আয়োজন থাকছে। দর্শকরা নিশ্চয়ই সেগুলো দেখে তৃপ্ত হবেন।
বাংলা ট্রিবিউন:
বাংলাভিশনের শুরু থেকে আপনি আছেন। শুরুর সময়টা কেমন ছিল?
তারেক আখন্দ: আমাদের স্লোগান- দৃষ্টিজুড়ে দেশ। দৃষ্টিজুড়ে একটা সমৃদ্ধ দেশ দেখার স্বপ্ন নিয়ে বাংলাভিশনের যাত্রা শুরু। সত্যি সত্যি প্রচণ্ড উন্মাদনা নিয়ে বাংলাভিশনের শুরুটা হয়েছিল। ক্রমশ অনুষ্ঠান ও নিউজের সংখ্যা ও মান বাড়তে থাকে। সাথে বাড়তে থাকে আমাদের স্টুডিও এবং শুটিং কার্যক্রম। তবে এই কাজগুলো চিরন্তন। চলতেই থাকবে। বাংলাভিশনকে আমরা সব সময় দর্শকপ্রিয় চ্যানেল হিসাবে ধরে রাখার চেষ্টা করছি। আমি বাংলাভিশনের সূচনালগ্ন থেকে যুক্ত আছি বলেই কথাটি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে পারি। আমরা প্রতিটি মানুষ উদয়-অস্ত নিরলস মেধা ও শ্রম ব্যয় করে যাচ্ছি, একটা সুন্দর বাংলাদেশের ছবি তুলে ধারার জন্য। দর্শকদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য।
বাংলা ট্রিবিউন: অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, এখন আর দেশের চ্যানেল দর্শকরা দেখে না। সব দর্শক আটকে গেছেন ভারতীয় চ্যানেলে! আপনি কি মনে করেন?
তারেক আখন্দ: দেখুন, একজন বাংলাদেশি পৃথিবীর যে কোনও স্থানেই থাকুক না কেন, প্রথমে বাংলাদেশের চ্যানেল দেখতে চায়। না পেলে সহজলভ্য অন্য দেশের বাংলা চ্যানেলগুলো দেখার চেষ্টা করে। তাও না পেলে তখন অন্য ভাষার চ্যানেল দেখে। ফলে এটা নিশ্চিন্তে বলা যায়, দেখার উপযোগী মানসম্মত, নতুন কিছু থাকলে সবাই সেই চ্যানেল দেখবে। এর জন্য জরিপ করার দরকার পড়ে না।

আমাদের দেশের অনুষ্ঠান ও নাটকের খরচের তুলনায় পার্শ্ববর্তী দেশের বাজেট অনেক বেশি। পার্শ্ববর্তী দেশের তারকারাও আমাদের দেশে জনপ্রিয়। আমাদের টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এখন প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রগুলো ভিন্ন। আট বছর আগেও টেলিভিশনের সংখ্যা কম ছিল, এখন চারগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কম বাজেট, কম তারকা নিয়েও পার্শ্ববর্তী দেশের টেলিভিশনের সাথে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে আমাদের। সাথে যুক্ত হয়েছে অনলাইন, সোশ্যাল মিডিয়া, নেটফ্লিক্স, ইউটিউব ইত্যাদি।
এসব কারণে টিভি’র কনটেন্ট প্রভাবিত হচ্ছে। এসব কারণে বিজ্ঞাপন বাজেটও ক্রমশ টিভি থেকে সরে যাচ্ছে। দেশি বা বিদেশি চ্যানেলে অনেক সময় পিকআওয়ারে খেলা প্রচার হচ্ছে। এসব লিমিটেশন আমাদের আছে। দর্শকবিমুখতাও আছে। মানছি। তবে এসব কথা এবং চ্যালেঞ্জ মাথায় নিয়েই আমরা কাজ করে চলেছি গত ১৩ বছর ধরে। এবং দর্শকরা আমাদের সঙ্গেই আছেন। কারণ, আমরা সংবাদে প্রমাণ করেছি সততা আর অনুষ্ঠানে রেখেছি বৈচিত্র্যের ছাপ।
জন্মদিনের বিশেষ নাটকে শবনম ফারিয়াবাংলা ট্রিবিউন: যেমন?
তারেক আখন্দ: আমি মনে করি বাংলাভিশন অনেকের কাছেই জনপ্রিয়। যেমন, কয়েকটি নাটক আর অনুষ্ঠানের নাম বলছি, শুনলেই আপনি আমার দৃঢ়তার জায়গাটা বুঝতে পারবেন। যেমন, নাটকে ‘আরমান ভাই’, ‘সিকান্দার বক্স’, ‘ফরমালিন’, ‘অ-এর গল্প’, ‘হাড়কিপ্টে’। এমন অসংখ্য অসাধারণ জনপ্রিয় নাটক আমরা উপহার দিয়েছি। এরপর অনুষ্ঠানের মধ্যে ‘আমি এখন কী করবো’, ‘বিপাশার অতিথি’, ‘আমার আমি’, ‘মনের কথা’ প্রভৃতি। এই অনুষ্ঠানের নামগুলো আমাদের শক্তি জোগায় প্রতিনিয়ত। এজন্যই আমরা জোর দিয়ে বলতে পারি, বাংলাভিশন কিছুটা হলেও অন্যদের চেয়ে আলাদা।
বাংলা ট্রিবিউন: সামনে এমন আর কী কী পরিকল্পনা আছে আপনাদের?

তারেক আখন্দ: আমরা প্রতিনিয়ত চেষ্টা আর নতুন নতুন পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছি। এই সময়ে আমরা ভাবছি পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধনগুলো কেমন হওয়া উচিত- এই আইডিয়ার ওপর ভিত্তি করে অনুষ্ঠান সাজানোর। পাশাপাশি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ, সংবাদের পর্যালোচনা, রম্য এবং অন্যান্য নিয়মিত আয়োজনগুলো তো থাকবেই।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনাদের পরিকল্পনা সফল হোক। আবারও অভিনন্দন বাংলা ভিশন পরিবারের সব সদস্যদের।
তারেক আখন্দ: বাংলা ট্রিবিউন পরিবারের প্রতিও রইলো আমাদের কৃতজ্ঞতা। নিশ্চয়ই আমরা সম্মিলিতভাবে একটা সুন্দর বাংলাদেশের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এগিয়ে যাবো।জন্মদিনের বিশেষ অনুষ্ঠানে জুয়েল আইচ

/এমএম/এমওএফ/

লাইভ

টপ