অবশেষে সম্মানসূচক স্বর্ণ পাম নিতে রাজি

Send
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত : ১০:০০, এপ্রিল ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:০৬, এপ্রিল ২২, ২০১৯

আলা দ্যুলোকান চলচ্চিত্র উৎসবের স্বর্ণ পাম আরাধ্য একটি পুরস্কার। তামাম দুনিয়ার নির্মাতারা এটি ঘরে আনার স্বপ্ন দেখেন। সম্মানসূচক পাম দ’রও অনেক মর্যাদার। ক্লিন্ট ইস্টউড, উডি অ্যালেন, জেন ফন্ডা, বার্নার্দো বার্তোলুচ্চি, আনিয়েস ভারদার মতো কিংবদন্তিরা এই সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। এ তালিকায় এতদিনে ঢুকে যেতো ফরাসি অভিনেতা আলা দ্যুলোর নাম। আয়োজকরা তাকে অনেক সময় ধরে সম্মানসূচক পাম দ’র দিতে চেয়েছেনও। কিন্তু তিনি সংকোচ বোধ করে রাজি হননি। তার যুক্তি, কান হলো সিনেমা উদযাপনের বৈশ্বিক মঞ্চ। এই আয়োজনে এমনিতেই আসা যায়। পুরস্কারের দরকার কী!

অবশেষে আলা দ্যুলোকে রাজি করানো গেছে। রূপালি পর্দায় তার অসাধারণ কাজগুলোর প্রতি সম্মান জানাতে ৭২তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে তাকে দেওয়া হচ্ছে সম্মানসূচক পাম দ’র। এ প্রসঙ্গে কান উৎসবের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, তিনি পুরোপুরি সিনেমার মানুষ। তিনি একজন কিংবদন্তি।

উৎসবের পরিচালক থিয়েরি ফ্রেমো বলেন, “আলা দ্যুলো সম্মানসূচক পাম দ’র গ্রহণে সম্মতি জানিয়েছেন। এজন্য পিয়ের লেসকিউর (উৎসবের সভাপতি) ও আমি আনন্দিত। তিনি শক্তিমান মানুষ, জীবন্ত কিংবদন্তি ও গ্লোবাল আইকন। জাপানে তাকে পরম শ্রদ্ধার চোখে দেখা হয়। সেখানে তিনি স্প্রিং সামুরাই হিসেবে পরিচিত।’

চলচ্চিত্র ইতিহাসে হাতেগোনা কয়েকজন অভিনেতা সারাজীবন চমৎকার নৈপুণ্য দেখিয়েছেন, ফরাসি অভিনেতা আলা দ্যুলো তাদের অন্যতম। ১৯৬০ সালে রেনে ক্লেমো পরিচালিত ‘পারপাল নুন’ ছবির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খ্যাতি পান তিনি। তখন তার বয়স মাত্র ২৫ বছর। এরপর ধ্রুপদী অনেক ছবিতে দেখা গেছে তাকে। ৮০টিরও বেশি ছবি আছে তার ঝুলিতে। এর মধ্যে মাস্টারপিস অসংখ্য।

মিকেলাঞ্জেলো আন্তোনিওনি, লুকিনো ভিসকন্তি, জ্যঁ-পিয়ের মেলভিল, জোসেফ লসি, জ্যঁ-লুক গদার, জ্যাক দ্যুরের মতো মাস্টার ফিল্মমেকারদের সঙ্গে নিয়মিত কাজ করেছেন আলা দ্যুলো। সেলুলয়েডে শৈল্পিক মুগ্ধতা ও বাণিজ্যিক সাফল্য উভয়ই উপহার দিয়েছেন তিনি। তাকে বলা যায় বক্স অফিস চ্যাম্পিয়ন।

আলা দ্যুলোড্যাশিং হিরো থেকে শুরু করে জটিল, দোদুল্যমান, ট্র্যাজিক, কর্কশ, পুলিশ কর্মকর্তাসহ নানান চরিত্রে বড় পর্দায় দর্শক মাতিয়েছেন আলা দ্যুলো। চোখের কারিশমায় টেনশনের অভিব্যক্তিতে তিনি অতুলনীয়।

১৯৬৪ সালে আলা ক্যাভালিয়ের পরিচালিত ‘দ্য আনভ্যানকুইশড’ ছবির মাধ্যমে প্রযোজনায় নাম লেখান আলা দ্যুলো। এরপর ক্রাইম থ্রিলার ধাঁচের দুটি ছবি (দ্য ফাইটার, ফর অ্যা কপ’স হাইড) পরিচালনা করেন তিনি। জ্যঁ-প্যাট্রিক মোঁশেতের উপন্যাস অবলম্বনে এগুলোর চিত্রনাট্য সাজানো হয়। ১৯৬৭ সালে মুক্তি পাওয়া তার ‘লে সামুরাই’ পরবর্তী সময়ে বিখ্যাত দুই নির্মাতা জন উ ও কোয়েন্টিন টারান্টিনোকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই কান উৎসবের সঙ্গে আলা দ্যুলোর সম্পর্ক নিবিড়। ১৯৬১ সালের ১৩ মে প্রথমবার কানসৈকতে লালগালিচায় হেঁটেছিলেন তিনি। ওই বছর অফিসিয়াল সিলেকশনে নির্বাচিত হয় তার ‘দ্য জয় অব লিভিং’।

১৯৬২ সালে আলা দ্যুলোর ‘দ্য এক্লিপস’ কানে বিশেষ জুরি প্রাইজ জেতে। এটি পরিচালনা করেন ইতালির মিকেলাঞ্জেলো আন্তোনিওনি। ১৯৬৩ সালে কান উৎসবে স্বর্ণ পাম জেতে লুকিনো ভিসকন্তি পরিচালিত ‘দ্য লিওপার্ড’। ১৯৭৬ সালে তার আরেক ছবি ‘মিস্টার ক্লেইন’ জায়গা পায় কানের প্রতিযোগিতা বিভাগে। কানের ৬০তম বর্ষপূর্তিসহ আরও কয়েকবার নিজের কয়েকটি ধ্রুপদী ছবি পুনরুদ্ধারে সহযোগিতার জন্য এসেছেন তিনি।

অভিনয় নিয়ে এখন আর ভাবেন না আলা দ্যুলো। সেই সময় পেরিয়ে গেছে বলে মনে করেন তিনি। তবে একটা অতৃপ্তি কাজ করে তার মধ্যে। এক সাক্ষাৎকারে সেটা জানিয়েছেনও, ‘একটা শূন্যতা অনুভব করি, এটি সবসময় আমাকে তাড়িত করে। কখনও নারী পরিচালকের সঙ্গে কাজ করা হয়নি। তাই মৃত্যুর আগে একবার হলেও একজন নারী নির্মাতার ছবিতে অভিনয় করতে চাই।’

আগামী ১৪ মে শুরু হবে কান চলচ্চিত্র উৎসবের ৭২তম আসর। ওইদিন দেখানো হবে মার্কিন নির্মাতা জিম জারমাশের জম্বি কমেডি ‘দ্য ডেড ডোন্ট ডাই’। এটি আছে স্বর্ণ পামের দৌড়ে। বাকিগুলোর নাম ঘোষণা করা হবে আজ বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল)। এবার প্রতিযোগিতা বিভাগে বিচারকদের প্রধান থাকছেন মেক্সিকান নির্মাতা আলেহান্দ্রো গঞ্জালেজ ইনারিতু। উৎসব চলবে ২৫ মে পর্যন্ত।

/জেএইচ/এমএম/

লাইভ

টপ