ঢাকা মেট্রো: আত্মপরিচয় খুঁজে ফেরার গল্প

Send
সুধাময় সরকার
প্রকাশিত : ১৮:৩৫, এপ্রিল ২৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৩৬, এপ্রিল ২৩, ২০১৯

সিরিজে অপি ও নেভিল

বিদেশি ডিগ্রি, সফল ক্যারিয়ার, বিলাসবহুল ফ্ল্যাট-গাড়ি আর সঙ্গে আধুনিক স্ত্রী। সব মিলিয়ে সাদা চোখে সফল একজন মানুষ কুদ্দুস।
সফল হওয়ার ইঁদুর দৌড়ে ছুটতে থাকা অবস্থায় হুট করেই কুদ্দুস উপলব্ধি করেন, সফলতার সব মাপকাঠি কাছে থাকা সত্ত্বেও তার আপনসত্তা ক্রমশই ক্ষয়ে যাচ্ছে!
এ উপলব্ধি থেকেই সব ছেড়ে পালাতে চাওয়ার এক গন্তব্যহীন অভিযানের গল্প উঠে এসেছে অমিতাভ রেজার প্রথম ওয়েব সিরিজ ‘ঢাকা মেট্রো’তে।
কিছুটা ভিন্নধর্মী অথবা রোড ট্রিপ ধাঁচের একটি গল্প মনে হলেও এর শ্বাসরুদ্ধকর নয়টি পর্বে বিচিত্র সব চরিত্রের আগমন আর উদ্ভট ঘটনার মিশ্রণে মানুষের আত্মোপলব্ধির বিষয়টিই উঠে এসেছে ঘুরেফিরে।
শুরুতেই দেখা যায় সফল আর ঈর্ষণীয় সংসার জীবনের আড়ালে লুকিয়ে থাকা কুদ্দুসের একাকিত্ব আর নিজের আপনসত্তা হারিয়ে ফেলার গল্প। নিজেকে খুঁজে ফিরতেই কুদ্দুস সিদ্ধান্ত নেন ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ার। নিজের পুরনো স্টেশন ওয়াগন গাড়িটি নিয়ে এক গন্তব্যহীন অভিযানে বেরিয়ে পড়েন কুদ্দুস। জাগতিক সব সম্পর্কের দায়বদ্ধতার সাথে যোগাযোগের সব উপায় ছিন্ন করে শুরু করা এই যাত্রায় কুদ্দুসের সাথে যুক্ত হতে থাকে বিচিত্র সব চরিত্র আর তার জীবনে ঘটতে থাকে অদ্ভুত সব ঘটনা।
গল্পের মূল চরিত্র কুদ্দুসের সাথে রীতিমতো জোর করেই যুক্ত হয়ে যায় অদ্ভুত এক কিশোর চরিত্র ‘রহমান’। অকপটে গভীর জীবনবোধের বুলি আওড়ানো সেই কিশোর প্রচ্ছন্নভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে কুদ্দুসকে।
এরপর যুক্ত হয় জবা কিংবা জয়গুণ! যাকে কখনও মনে হয় পতিহন্তারক নির্যাতিতা গৃহবধূ, আবার কখনও সন্তানত্যাগী সুখের সন্ধানে পালিয়ে যাওয়া অতৃপ্ত এক গৃহিণী। কখনোবা সন্তানের মঙ্গল কামনায় মাতৃশক্তির অনন্য রূপ হিসেবেও দেখা যায় জয়গুণকে।
দৃশ্যপটে ট্রাকচালক হাসান চরিত্রটির আগমনের মাধ্যমে অতীত জীবনের সাথে সংযোগ ঘটে কুদ্দুসের। কিন্তু এখানেই দারুণ ভেলকি দেখিয়েছেন নির্মাতা অমিতাভ। কোনও চরিত্রই প্রকৃতপক্ষে কুদ্দুসের সংকট সমাধানে সূত্রধরের ভূমিকা পালন করেনি।
এ তো গেলো বিভিন্ন চরিত্রকথন। পুরো সিরিজেই ঘটে অদ্ভুত সব ঘটনা। ট্রাফিক জ্যামে পরাবাস্তব দৃশ্যায়ন, মুক্তবাজার অর্থনীতি নিয়ে ভিন্নধারার দৃষ্টিভঙ্গি আর সেই আলোকে বিচিত্র এক বিপ্লবের স্বরূপ দেখবার সুযোগ, এক ‘আমেরিকান ড্রিম’ জ্বরে আক্রান্ত জনপদে ভিন্ন জীবনবোধের স্বাদ পাওয়া কিংবা গাড়ি ডাকাতি এবং এর ব্যাপারে থানায় মামলা করতে গিয়ে পাওয়া বিচিত্রসব অভিজ্ঞতার মিশেলে পুরো গল্পটি যেন বারবার মনে করিয়ে দেয় চে’র সেই বিখ্যাত মোটরসাইকেল ডায়েরির কথা।
গন্তব্যহীন এ যাত্রায় প্রতিটি চরিত্র, প্রতিটি ঘটনাই যেন আত্মোপলব্ধির মাধ্যমে নিজের সত্তাটিকেই অল্প অল্প করে ফিরিয়ে নিয়ে আসে কুদ্দুসের জীবনে।
‘ঢাকা মেট্রো’র অন্তহীন এ গল্পে রহমান, জবা, হাসান, সিদ্দিক কিংবা বব ডিলানপ্রেমী সেই বৃদ্ধার জীবনের অদ্ভুত সব ঘটনার সাথে ভাগ্য, দুর্ভাগ্য কিংবা হন্তারক নিয়তির জটিলতায় জড়িয়ে যাওয়া থেকেই কুদ্দুসের উপলব্ধি ঘটে, জীবনে যা-ই ঘটুক না কেন সবাইকে সহজভাবে গ্রহণ করতে হবে। আর এই উপলব্ধিতেই যেন খুঁজে পাওয়া যায় সত্তাসন্ধানীদের অমোঘ সেই মূলমন্ত্র- ‘মনেরে আজ কহ যে, ভালো-মন্দ যাহাই আসুক সত্যেরে লও সহজে’।


সিরিজটি প্রকাশনা অনুষ্ঠানে নেভিল, অমিতাভ রেজা ও অপি করিমঢাকা মেট্রো

গল্প: অমিতাভ রেজা চৌধুরী ও আদিত্য কবীর
চিত্রনাট্য ও সংলাপ: নাসিফ আমিন
পরিচালক: অমিতাভ রেজা চৌধুরী
মূল চরিত্র: অপি করিম ও নেভিল
পর্ব: ৯টি
প্রকাশ: ১১ এপ্রিল
মাধ্যম: হৈচৈ অ্যাপ

/এমএম/এমওএফ/

লাইভ

টপ