বর্ষপূর্তি বিশেষ: আজকের কাগজের সেই সাক্ষাৎকার...

Send
চঞ্চল চৌধুরী, অভিনেতা
প্রকাশিত : ১৪:৪৪, মে ১৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৫৮, মে ১৪, ২০১৯

সাংবাদিকের মূল কাজ শিল্পীদের রোজকার প্রাসঙ্গিক খবরাখবর জনসম্মুখে তুলে ধরা। শুধু কর্মের প্রচারণাই নয়, প্রয়োজন পড়ে শিল্পকর্মের গঠনমূলক সমালোচনারও। এ ক্ষেত্রে শিল্পীদের ভূমিকা বেশ সীমিত; সহযোগিতা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ। বিশ্ব বিনোদন মিডিয়া ঠিক এই ভাবধারাতেই চলছে- তা হলফ করে বলা যাবে না। তবে অনেকাংশে এই ধারাটি এখনও বলবৎ রয়েছে- বাংলাদেশের মিডিয়ায়। এ নিয়ে স্বস্তি রয়েছে দুই শিবিরেই। এর মাঝেও শিল্পী আর সাংবাদিক প্রতিপক্ষের ভূমিকায় দাঁড়ান। শিল্পীদের প্রতি সাংবাদিকদের এন্তার অভিযোগ, মাঝে মাঝে যার বহিঃপ্রকাশ ঘটে সংবাদমাধ্যমেও। শিল্পীরাও আজকাল আর মুখে কুলুপ এঁটে বসে নেই। যার কিছুটা ভেসে ওঠে সোশ্যাল মিডিয়ায়, বাকিটুকু শিল্পীমনে জমে থাকে স্বস্তি অথবা বেদনার বুদবুদ হয়ে। মিডিয়া নিয়ে শিল্পীমনে জমে থাকা তেমনই কিছু অপ্রকাশিত ‘বুদবুদ’ তুলে আনার চেষ্টা ছিল বাংলা ট্রিবিউন-এর পঞ্চম বর্ষপূর্তির এই বিশেষ আয়োজনে।

চঞ্চল চৌধুরী, ছবি: বাংলা ট্রিবিউনআমি প্রথম দশ বছর মঞ্চের পেছনে কাজ করেছিলাম। বলা যায় এটা আমার জন্য ছিল ভিত গড়ার সময়। তারপর সামনে আসার পর আমার এই শেখার অভিজ্ঞতা আমাকে শক্ত একটা জায়গায় আসার জন্য সাহায্য করেছে। পরবর্তী সময়ে যে কাজগুলোই করেছি এগুলোতে তার প্রভাব আছে।  
যেমন, আমার মনে পড়ে গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘সূর্যের হাসি’, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ‘তালপাতার সেপাই’ অথবা ‘নিখোঁজ সংবাদ’ কিংবা ‘মায়ের জন্য মোবাইল’-এর বিজ্ঞাপন- সবটাতে এই প্রভাব ছিল। এটা মূলত ২০০৫ সালের পরের সময়টার কথাটা বলছি। ওই সময়টাতে তাদের মতো নির্মাতার সঙ্গে কাজ করতে পারাটা ছিল একজন অভিনেতা বা অভিনেত্রীর জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। সালাউদ্দিন লাভলুর সঙ্গে কাজ করার মতো অভিজ্ঞতাও ছিল।
সে বছর ঈদে প্রথম আলোতে একটা রিভিউ হয়েছিল। তখন লেখক বলেছিলেন, আমরা একজন আস্থাবান অভিনেতাকে পাচ্ছি। এটা কিন্তু চরম একটা প্রশংসা। সে সময় ৮-১০টি ভালো কাজ করেছি। এরপর এমন একটা মন্তব্য কাজের স্পৃহাকে আরও শানিত করে।
এবার আসি সংবাদমাধ্যমে বিষয়ে।
আমি যখন কাজ শুরু করেছিলাম অনেক সাংবাদিক তখন  নবীন। এখন তারা অনেক ভালো পত্রিকায় ভালো পজিশনে কাজ করছেন। তাই তাদের সঙ্গে বা সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আমার ভালো একটা সম্পর্ক শুরু থেকেই ছিল। এখনও আছে। আরও একটি বিষয় আমি খুব মেনে চলার চেষ্টা করি। যখন কোনও ভালো কাজ করা হয় না, তখন কোনও সাংবাদিক ফোন করলে আমি সরাসরি বলে দেই, এখন তেমন কোনও ভালো কাজ করছি না। কিছুদিন পরে জানাতে পারবো। কারণ, আমি মনে করি এটা আমার দায়বদ্ধতা। কারণ, যখন খারাপ কাজকে ভালো বলবো, সেটা সংবাদমাধ্যমে ছাপা হবে, এতে করে আমি ও সংবাদমাধ্যম দুজনই দর্শকের কাছে আস্থা হারাবো। আবার ভালো কোনও কাজ করলে আমি নিজ থেকেই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়ে দিই। যদি মনে করি এ কাজটি দর্শকদের জানানো দরকার। তখন সংবাদমাধ্যমের সহযোগিতা নেওয়ার চেষ্টা করি।
নিজের কাজের জন্য অনেক সাক্ষাৎকার পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। তবে দুটি সাক্ষাৎকার এখনও আমার কাছে অন্যরকম। একটা একেবারে ক্যারিয়ার শুরু দিকের ঘটনা। তখন মিডিয়ায় কাজ করি না। মঞ্চনাটকের দল ‘আরণ্যক’-এর হয়ে ‘সংক্রান্তি’ নাটক নিয়ে ছোট একটা সাক্ষাৎকার ছাপা হয় আজকের কাগজ পত্রিকায়। তারা ব্যাক পেজে এটা ছাপিয়েছিলেন।
তখন আমার কোনও ইন্টারভিউ বা কিছুই পত্রিকায় আসেননি। ওই পত্রিকার কোনও একজন সাংবাদিক মঞ্চনাটকটি দেখে সেই সাক্ষাৎকারটি ছাপিয়েছিলেন। সেই সাংবাদিকের নামটি আমার মনে নেই। তবে কী যে আনন্দ আমি পেয়েছিলাম তা বলে বোঝানোর মতো নয়। আজকের কাগজের সেই সাক্ষাৎকারের অংশটুকু আমি আজও সংগ্রহ করে রেখেছি।
এরপর ২০০৯ সালে যখন সন্তান শুদ্ধের বাবা হলাম তখনও একটি খবর প্রকাশ হয়েছিল। সেটিও সংগ্রহ করে রেখেছি। সংবাদমাধ্যমের কাছে এ দুটি সংবাদ আমার জন্য বিশেষ প্রাপ্তি।
অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীর কণ্ঠ থেকে লেখাটি গ্রন্থনা করেছেন ওয়ালিউল বিশ্বাস।

/এম/এমএম/

লাইভ

টপ