কান কথা-১ সাগরপাড়ে বাংলাদেশি আতিথেয়তা

Send
জনি হক, কান (ফ্রান্স) থেকে
প্রকাশিত : ১১:৩৬, মে ১৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:৪৮, মে ১৪, ২০১৯

ঘড়ির কাঁটা সন্ধ্যা ৭টার ঘরে। তবুও ঝকঝকে রোদের মেলা ফ্রান্সের নিসে। বিমানবন্দরের সঙ্গে লাগোয়া বাসের টিকিট কাউন্টার। ২২ ইউরো দিয়ে নিস থেকে কানে যাওয়ার টিকিট কাটলাম। কিন্তু ৪ নম্বর স্ট্যান্ড থেকে বাস ততক্ষণে ছেড়ে গেছে। পরেরটা রাত ৮টায়। একঘণ্টা কে বসে থাকে!

কাউন্টারে এসে ভদ্রমহিলাকে ঘটনাটা বলার পর তিনি টিকিট নিয়ে ২২ ইউরো ফিরিয়ে দিলেন। ট্যাক্সিতে ভাড়া কমপক্ষে ৮০-৯০ ইউরো আসবে জানি। তবুও ঢাকা থেকে ইস্তানবুল হয়ে নিস ভ্রমণের ক্লান্তিতে আর বসে থাকার ইচ্ছে হলো না। গন্তব্য কানের মেজন দো কারি রেস্তোরাঁ। এর গল্প পরে করছি।
ট্যাক্সি চালক চিবুর সঙ্গে লেখকট্যাক্সি চলছে। চালকের নাম চিবু। বেশ তরুণ। জাতীয়তা ফরাসি। তার সঙ্গে অনেক আড্ডা হলো যেতে যেতে। কান উৎসবে এবার অফিসিয়াল সিলেকশনে বাংলাদেশের কোনও ছবি আছে কিনা বেশ আগ্রহ নিয়ে জানতে চাইলেন তিনি। মন দিয়ে লোকটা শুনলেন, ২০০২ সালে প্যারালাল বিভাগ ডিরেক্টরস ফোর্টনাইটে নির্বাচিত তারেক মাসুদের ‘মাটির ময়না’ ফিপরেস্কি পুরস্কার জিতেছিল। এছাড়া আমাদের আর কান জয়ের পুনরাবৃত্তি হয়নি।
মেজন দো কারি রেস্তোরাঁটি একটু সরু গলিতে। সেখানে ট্যাক্সি নিয়ে যাওয়া যায় না। চিবু অবাক করে আমার লাগেজ হাতে নিয়ে বললেন, ‘চলুন দেখিয়ে দিই। নো প্রবলেম!’ তার সঙ্গে সেলফি তুললাম। কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পৌঁছে তার সঙ্গে ফোন নম্বর বিনিময় করলাম।
রেস্তোরাঁটির মালিক সেজান। তার বাড়ি চট্টগ্রাম। বহু বছর ধরে তিনি প্রবাসী। আমার কান বন্ধু মাহবুবুর রহমানের পরিচিত এই ব্যবসায়ী। মাহবুব ভাই এখন প্যারিসে চাকরি করেন। ২০১৭ সালে বড় বিপদ থেকে বাঁচিয়েছিলেন তিনি। সেজান ভাইকে তার কথা উল্লেখ করে আতিথেয়তা পেলাম। কানের মোজা এলাকায় ভদ্রলোকের আরেকটি রেস্তোরাঁ আছে।
মেজন দো কারির ব্যস্ত কর্মী আওরঙ্গ। চিবু বিদায় নেওয়ার পর তিনি লাগেজ টেনে নিলেন। অবাক হলাম আরেকবার। তার সঙ্গে পূর্বপরিচয় নেই। তবুও মনে হলো চেনা কোনও ভাই। এই রেস্তোরাঁর কিচেন সামলান গোপালগঞ্জের লিটু ও চাঁদপুরের রুবেল। সবাই বাংলাদেশি। কিছুক্ষণ পর এসে গল্প জুড়ে দিলেন সেজান ভাই। খানাপিনার অভাব হলো না। জুস, ভাত, গরু, মুরগি মিললো। বেশ খাতিরদারি করলেন তিনি।
রেস্তোরাাঁর মালিক সেজানের সঙ্গে লেখকমূলত ১৫ মে অন্তিবে একটি অ্যাপার্টমেন্টে উঠবো। তার আগে চার রাত কোথাও হুট করে বুকিং মিলছিল না। রুই দো ফ্লতের ১০ নম্বর বাড়িতে সেজান ভাইয়ের বাসা সব সমাধান করে দিলো। পুরোপুরি নিরিবিল একটি এলাকা। মূল সড়ক থেকে কিছুটা উঁচু জায়গায় বাড়িটি। সেখান থেকে রাতে ও সকালে চারপাশে মনোরম দৃশ্য দারুণ উপভোগ্য। সাগরপাড়ে বাংলাদেশি আতিথেয়তা পেয়ে মন জুড়ালো।
* ফ্রান্সের সময়ের সঙ্গে বাংলাদেশের পাঠকদের চার ঘণ্টা যোগ করে নিতে হবে।
/জেএইচ/

/এমএম/

লাইভ

টপ