বিচারক হওয়ার আমন্ত্রণ পেয়ে হতবাক!

Send
বিনোদন রিপোর্ট, কান (ফ্রান্স) থেকে
প্রকাশিত : ০০:৫৩, মে ১৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৪:২২, মে ১৫, ২০১৯


সংবাদ সম্মেলনে কান উৎসবের ৭২তম আসরের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগের বিচারকরাস্বর্ণকেশী এল ফ্যানিংয়ের মধ্যে স্নিগ্ধতা ঠিকরে পড়ে। দেখে বোঝা যায়, তার ভেতর প্রাণোচ্ছ্বল একটা পাখি উড়ে বেড়ায়। বয়স সবে ২১ বছর। কিন্তু এখন অনেক বড় গুরুদায়িত্ব আমেরিকান এই তরুণীর কাঁধে। বিশ্ব চলচ্চিত্রের সম্মানজনক আয়োজন কান উৎসবের ৭২তম আসরে প্রতিযোগিতা বিভাগের বিচারকদের একজন তিনি।

আয়োজকদের কাছ থেকে মোবাইল ফোনে বিচারক আমন্ত্রণ পাওয়ার পর হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন এল ফ্যানিং। এটাই স্বাভাবিক। কুড়ি পেরোনোর পরপরই এত বড় সম্মান পাওয়ার কথা কে ভাবে! অকপটে তা স্বীকার করেছেন তিনি। বিচারক প্যানেলে তারুণ্যের প্রতিনিধি নতুন প্রজন্মের এই তারকা।
সংবাদ সম্মেলনে এল ফ্যানিং বলেছেন, ‘এখনও কিছুটা অবাক হচ্ছি ভেবে, কানের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগের বিচারক হয়েছি। কারণ এখানে অসাধারণ শিল্পীদেরই মূলত দেখা যায়। তাই এটা আমার জন্য চমৎকার মুহূর্ত। আমি এখনও তরুণ সত্যি, তবে অভিনেত্রী হিসেবে আমার ক্যারিয়ার শুরু হয়েছে খুব ছোটবেলায়। তারুণ্যকে প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে ও নবীন অভিনেত্রী হিসেবে বিচারকদের সঙ্গে নিজের মতামত ভাগাভাগির সুযোগ পেয়ে আমি সম্মানিত ও গর্বিত।’
কানে সবচেয়ে কম বয়সে বিচারকের আসনে বসার রেকর্ডের মালকিন এখন এল ফ্যানিং। এর আগে কানাডিয়ান নির্মাতা-অভিনেতা হাভিয়ার দোলান ২০১৫ সালে ২৫ বছর বয়সে মূল প্রতিযোগিতা বিভাগের বিচারক হন। মজার বিষয় হলো, দোলানের নতুন ছবি ‘ম্যাথিয়াস অ্যান্ড ম্যাক্সিম’ এবারের প্রতিযোগিতা বিভাগে স্বর্ণ পামের জন্য লড়বে।
এবারের প্রতিযোগিতা বিভাগের মূল বিচারক মেক্সিকান নির্মাতা আলেহান্দ্রো গঞ্জালেজ ইনারিতু। তার হাত ধরেই কান উৎসবের সঙ্গে এল ফ্যানিংয়ের সম্পৃক্ততা শৈশবে। ২০০৬ সালে প্রতিযোগিতা বিভাগে থাকা ‘বাবেল’ ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেন তিনি। তখন তার বয়স ছিল মাত্র আট বছর। এই তথ্য সামনে আসতেই ইনারিতু বললেন, ‘বুঝতে পারছি আমি বুড়িয়ে গেছি!’
কান উৎসবের ফটোকলে এল ফ্যানিং২০১৬ সালে কানের প্রতিযোগিতা বিভাগে নির্বাচিত ডেনিশ নির্মাতা নিকোলাস উইন্ডিং রেফনের ‘দ্য নিয়ন ডেমন’ ছবিতে দেখা যায় এল ফ্যানিংকে। এর পরের বছর কানে পাম দ’রের দৌড়ে থাকা সোফিয়া কপোলার ‘দ্য বিগাইল্ড’ ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। একই আসরে আউট অব কম্পিটিশনে দেখানো হয় তার ‘হাউ টু টক টু গার্লস অ্যাট পার্টিস’। ছবিটি পরিচালনা করেন আমেরিকান নির্মাতা জন ক্যামেরন মিচেল।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে জন্ম এল ফ্যানিংয়ের। ইতোমধ্যে ৩০টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। এ তালিকায় রয়েছে ‘সুপার এইট’ (২০১১), ‘মেলফিসেন্ট’ (২০১৪), ‘টোয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি ওমেন’ (২০১৬) প্রভৃতি।
এবার প্রতিযোগিতা বিভাগের বিচারক দলে আছেন চার মহাদেশের সাতটি ভিন্ন দেশের চার পুরুষ ও চার নারী। তালিকায় এল ফ্যানিংয়ের পাশাপাশি অন্য নারীরা হলেন পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোর অভিনেত্রী-পরিচালক মায়মুনা এনদাই, ২০০৮ সালে আঁ সার্তে রাগারে নির্বাচিত ‘ওয়েন্ডি অ্যান্ড লুসি’র মার্কিন নির্মাতা কেলি রাইকার্ড, গত বছর ‘হ্যাপি অ্যাজ ল্যাজারো’র জন্য কানে সেরা চিত্রনাট্যের পুরস্কার জয়ী ইতালিয়ান নারী নির্মাতা অ্যালিস রোরওয়াচার।
এছাড়া আছেন অস্কার মনোনীত গ্রিসের পরিচালক ইওর্গেস লানতিমোস, কানের গত আসরে ‘কোল্ড ওয়ার’ ছবির জন্য সেরা পরিচালক হওয়া পোল্যান্ডের পাওয়েল পাওলিকস্কি, ২০১৭ সালে কানে গ্রাঁ প্রিঁ জেতা ফরাসি নির্মাতা রবিন ক্যাম্পিলো (১২০ বিপিএম-বিটস পার মিনিট) ও ফরাসি গ্রাফিক ঔপন্যাসিক-নির্মাতা এনকি বিলাল (ইমমর্টাল)।
মঙ্গলবার (১৪ মে) দুপুর আড়াইটায় পালে দে ফেস্তিভাল ভবনের তৃতীয় তলার সংবাদ সম্মেলন কক্ষে হাজির হন কানের ৭২তম আসরের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগের বিচারকরা। এবারের আসরের উদ্বোধনী ছবি মার্কিন নির্মাতা জিম জারমাশের ‘দ্য ডেড ডোন্ট ডাই’। ভূমধ্যসাগরের তীরে আগামী ২৫ মে বিজয়ীদের নাম জানাবেন প্রতিযোগিতা বিভাগের বিচারকরা।কান উৎসবের ৭২তম আসরের ফটোকলে মূল প্রতিযোগিতা বিভাগের বিচারকরা

/জেএইচ/এমএম/

লাইভ

টপ