কান কথা-৩ নিসে ট্যাক্সি ধর্মঘট, কানে বৃষ্টি ভোগান্তি!

Send
জনি হক, কান (ফ্রান্স) থেকে
প্রকাশিত : ০১:০৮, মে ১৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:১৫, মে ১৬, ২০১৯

কান উৎসব থেকে দেওয়া বাংলা ট্রিবিউন প্রতিবেদকের এবারের আইডি কার্ডফ্রান্সের নিস কোত দা’জুর বিমানবন্দরের প্রতি আলাদা একটা ভালো লাগা কাজ করে। কারণ অন্য দেশ থেকে দক্ষিণ ফ্রান্সে আসার বিকল্প রানওয়ে নেই। প্রতি বছরের মে মাসে কান চলচ্চিত্র উৎসব ও মোনাকো গ্রাঁ প্রিঁ উপলক্ষে ১৫ শতাংশ যাত্রী বেড়ে যায় সেখানে।
মঙ্গলবার (১৪ মে) বিকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে নিস বিমানবন্দরের অ্যাকাউন্টে দেখলাম, ট্যাক্সিচালকরা ধর্মঘট করছেন। অনলাইন রাইড শেয়ারিং সেবার সঙ্গে দ্বন্দ্ব তাদের। এ কারণে কান উৎসবে আসা যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন। নিসের ট্যাক্সিচালকদের ইউনিয়ন হুমকি দিয়েছে, আগামী শুক্রবার ফের নিসের টার্মিনাল দুটি অচল রাখা হবে! তাই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ একটু আগে পৌঁছার পরামর্শ দিয়েছে টুইটারে। নিস থেকে কানের দূরত্ব ৩৪ কিলোমিটার। দুটি শহরের মধ্যে চলাচলে বাসই আপাতত ভরসা।
ট্যাক্সিচালকদের ধর্মঘটে যেন সহিংসতা না ঘটে সেজন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কানেও একই চিত্র। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে সিনেমার বৈশ্বিক আসর। উৎসবের প্রাণকেন্দ্র পালে দে ফেস্তিভাল ভবনে দায়িত্ব পালন করছেন ৫০০ নিরাপত্তাকর্মী। শহরের বিভিন্ন স্থানে আছে ৫৫০টি ক্যামেরা। বিশেষ লেন্সের মাধ্যমে প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা চলছে নজরদারি। গাড়ি হামলা প্রতিরোধে ভবনের সামনে বসানো আছে ৪০০ কংক্রিটের টব। শহরের শতাধিক পুলিশ এখন বহন করছে অত্যাধুনিক অস্ত্র। ভূমধ্যসাগরের তীরে ভারী অস্ত্র নিয়ে সেনা টহল চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্রানুরাগীরা যেন সানন্দে উৎসব উপভোগ করতে পারেন সেজন্য এই নিরাপত্তা।
পালে দে ফেস্তিভাল ভবনের ভেতরে আয়োজকরা আমন্ত্রিত সাংবাদিকদের আরামে বসে কাজ করার জন্য রেখেছেন বিশেষ ব্যবস্থা। দোতলায় প্রেস রুমে ৬০টি ডেস্কটপ কম্পিউটার। প্রতিটির সঙ্গে রয়েছে হেডফোন। একঘেঁয়েমি কাটাতে প্রেস রুমের সবুজ গালিচা বিছানো ব্যালকনিতে নতুন কিছু চেয়ারে বসে বিশ্রাম নিতে পারছেন সংবাদকর্মীরা। তবে এ বছর সেখানে ধূমপান নিষিদ্ধ। প্রেস রুম থেকে আশেপাশে অনেক কিছু দেখা যায় বলে অনেকে লাইভ রিপোর্টের জন্য বেছে নেন এই ব্যালকনি। সকাল ৯টা থেকে মধ্যরাত অবধি খোলা থাকে প্রেস রুম।
গত বছর সাংবাদিকদের জন্য ভবনের চতুর্থ তলায় যুক্ত হয় তেরেস দে জার্নালিস্টস। সেটি এবার নামিয়ে আনা হয়েছে তিনতলায়। এর প্রবেশপথে, লবিতে ও খোলা আকাশের নিচে ছাদে ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করার সুব্যবস্থা আছে। পাশাপাশি সৌজন্য হিসেবে দেওয়া হয় চিপস, অরেঞ্জ জুস, পানি, বাদাম, অ্যালকোহল ও কফি। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাতে ৯টা অবধি খোলা থাকে এই ছাদ।
তিনতলার প্রায় পুরোটাই এখন সংবাদকর্মীদের জন্য। ওয়াইফাই জোনে ফরাসি টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান অরেঞ্জ বিনামূল্যে অফুরান ইন্টারনেট সুবিধা দিচ্ছে। ব্যাজধারী সংবাদকর্মীরা সেখানে গেলে ওয়াই-ফাই কার্ড দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে সাংবাদিকদের জন্য বরাদ্দ যেকোনও স্থানে ইন্টারনেট ব্যবহার করা যাচ্ছে।
প্রেস লকারে প্রতিদিনই দুই-তিনবার করে কোনও না কোনও প্রকাশনা কিংবা উৎসবের আপডেট জমা হয়। প্রেস লকারের এদিক-সেদিক কান চলচ্চিত্র উৎসবকে ঘিরে প্রকাশিত হলিউড রিপোর্টার, ভ্যারাইটি, গ্রাজিয়া, স্ক্রিনসহ বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার প্রকাশনা থাকে। ইনফরমেশন ডেস্কে পরের দিনের চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও সংবাদ সম্মেলনের শিডিউল দেওয়া হয়।
দোতলার প্রেস রুমে রঙিন প্রিন্টিং করা যায়। এখানে মোট দুটি প্রিন্টার। একটির সামনে থেকে গ্র্যান্ড থিয়েটার লুমিরে ও অন্যটি সাল দুবুসি থিয়েটারমুখী। বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা তো আছেই।
প্রেস রুমে কাজের ফাঁকে লন্ডনের দ্য টাইমস পত্রিকার সাংবাদিক ডেভিড স্যান্ডারসনের সঙ্গে দেখা হলো। গতবার তার সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল। তিনি বিয়ে করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিকে। সেই সূত্রে ডেভিড আলাদাভাবে মনে রেখেছেন বাংলা ট্রিবিউনের এই প্রতিবেদককে। একবছর পর আবার দেখা হওয়ায় আড্ডা দিলাম কিছুক্ষণ।
সন্ধ্যা গড়ানোর পর হঠাৎ বদলে গেলো আবহাওয়া। নিসে দুর্ভোগ ডেকেছেন ট্যাক্সিচালকরা, কানে ভোগান্তি হয়ে নেমেছে বৃষ্টি। তবে মুষলধারে নয়, গুঁড়ি গুঁড়ি। অথচ দিনভর সাগরপাড়ের শহরে ছিল ঝকঝকে রোদ। প্রেস রুমে কাজের শেষভাগে সেজান ভাই ফোন দিলেন। বৃষ্টিভেজা রাতে খাসির মাংসের সঙ্গে ভাতের আপ্যায়ন পেলাম মেজন দো কারিতে।

/এমএম/

লাইভ

টপ