কান কথা-৫ বৃষ্টিভেজা কানে ছাতা ছাড়া নিরুপায়

Send
জনি হক, কান (ফ্রান্স) থেকে
প্রকাশিত : ১০:৫০, মে ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:০৪, মে ১৯, ২০১৯

কান উৎসব থেকে দেওয়া প্রতিবেদকের এবারের আইডি কার্ডটিপ টিপ বৃষ্টিতে অবস্থা একেবারে কাকভেজা। অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বেরিয়ে ১০ মিনিট হাঁটলেই পালে দে ফেস্তিভাল ভবন। এটুকু আসতেই বেশ হিমশিম খেতে হলো। শনিবার (১৮ মে) সকালে ভবনের সামনে এসে দেখি ছাতার জটলা! সবাই মাথার ওপর ছাতা ধরে রেখেছে। কৃষ্ণাঙ্গ দুই বিক্রেতা ভবনের ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে দেদার ছাতা বিক্রি করছেন। প্রতিটির মূল্য ১০ ইউরো।
দোতলায় প্রেস রুমে কম্পিউটারে লেখার ফাঁকে ব্যালকনিতে চেয়ে দেখি, ছাতা দিয়ে ক্যামেরা ঢেকে কোনোরকম কাজ করছেন টিভি সংবাদকর্মীরা। প্রেস রুম থেকে উৎসবের অন্যতম জৌলুস লালগালিচার অংশ স্পষ্ট দেখা যায়। তারকারা গাড়ি থেকে নামার পর সড়ক থেকে ছাতা দিয়ে তাদের সেখানে আনা হয়েছে। তবে মূল গালিচা অতিক্রম করে গ্র্যান্ড থিয়েটার লুমিয়েরের সিঁড়ি অবধি যেতে ছাতা ধরতে হয়েছে উৎসব কর্মীদের। কারণ, তারকাদের দামি দামি পোশাক না হয় সব জলে যাবে!
বৃষ্টিস্নাত উৎসবস্থলসাধারণ মানুষ সড়কে ও পালে দে ফেস্তিভালের একপাশে ছাতা নিয়ে জড়ো হয়ে তারকাদের একনজর দেখার আশা ছাড়েনি। টিকিটপ্রত্যাশীরা বৃষ্টিতেও ক্ষান্ত থাকেনি। ছাতা মাথায় ঠিকই কাগজে ছবির নাম লিখে ধরে রেখেছে। একটা টিকিট যদি মেলে। প্রেক্ষাগৃহের বাইরে সাগরপাড়ে ছবি দেখার আয়োজন সিনেমা ডি লা প্লাজ অবশ্য সব শ্রেণির দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় তুর্কি পরিচালক হেনরি ভারনিলের ‘অ্যানি নাম্বার ক্যান উইন’ (১৯৬২) ছবির প্রদর্শনী বাতিল করতে বাধ্য হন আয়োজকরা। দক্ষিণ ফরাসি উপকূলে এদিন একবারের জন্যও সূর্যের দেখা মেলেনি।

উৎসব অতিথিদের ভিড়ে ছাতার ফেরিওয়ালাতেরেস দে জার্নালিস্টস অংশের ছাদে কোনও সংবাদবকর্মী নেই। টেবিল-চেয়ার সব ফাঁকা। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে কে বসে! কফিতে চুমুক দিয়ে এগোতে গিয়ে ওয়াইফাই জোনের সামনে ডেনিশ নির্মাতা নিকোলাস উইন্ডিং রেফনের সঙ্গে সেলফি তোলার সুযোগ মিলে গেলো। তার নতুন ছবি অ্যামাজন প্রযোজিত ‘টু ওল্ড টু ডাই ইয়াং-নর্থ অব হলিউড, ওয়েস্ট অব হেল’ সিরিজের দুটি পর্ব দেখানো হয়েছে অফিসিয়াল সিলেকশনের অংশ আউট অব কম্পিটিশনে। শনিবার বিকালে মাস্টারক্লাসেও অংশ নেন তিনি। ২০১১ সালে ‘ড্রাইভ’ ছবির জন্য কানে সেরা পরিচালকের পুরস্কার ওঠে তার হাতে।

পুরস্কারজয়ী আরেক নির্মাতা মধুর ভাণ্ডারকরের সঙ্গে ভারতীয় প্যাভিলিয়নে গিয়ে দেখা। বৃষ্টি মাথায় নিয়েই সেদিকে ঢুঁ দিতে গিয়েছিলাম। ‘চাঁদনী বার’, ‘পেজ থ্রি’, ‘ট্রাফিক সিগন্যাল’, ‘করপোরেট’, ‘ফ্যাশন’, ‘হিরোইন’ ছবিগুলো তার গুণের পরিচয় দেয়। বাংলাদেশ থেকে এসেছি জেনে চেনা মানুষের মতো জানতে চাইলেন, ‘ক্যায়সা হ্যায় তু?’ এখনও টগবগে তরুণের মতো ৫০ বছর বয়সী এই নির্মাতা।

বৃষ্টিস্নাত উৎসবস্থলপ্যাভিলিয়ন থেকে বেরোতেই চোখে পড়লো একদল তরুণী কয়েকজন আলোকচিত্রীকে একসঙ্গে পেয়ে নানান পোজ দিচ্ছে। পাশেই কান উৎসবের অফিসিয়াল বুঁটিক তাঁবু। টি-শার্ট, টুপি, ঘড়ি, ব্যাগ, ভিউকার্ড, ছাতাসহ বিভিন্ন সামগ্রী পাওয়া যায় সেখানে। সবটাতেই কানের লোগো। উৎসবের স্মৃতি ধরে রাখতে ক্রেতারা এখান থেকে দিনভর জিনিসপত্র কেনেন। কানের এমনই টান!
ছবি ও ভিডিও: লেখক

/এমএম/এমওএফ/

লাইভ

টপ