মনিকা বেলুচ্চির সামনাসামনি কিছুক্ষণ (ভিডিও)

Send
জনি হক, কান (ফ্রান্স) থেকে
প্রকাশিত : ২২:২৪, মে ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৩৩, মে ১৯, ২০১৯

সংবাদ সম্মেলনে বাংলা ট্রিবিউন প্রতিবেদকের সঙ্গে মনিকার সেলফিফ্রান্সের কানে পালে দে ফেস্তিভাল ভবনের তৃতীয় তলায় সংবাদ সম্মেলন কক্ষের একটি চেয়ারের ল্যাপটপের ব্যাগ রেখে মঞ্চেল সামনে অবস্থান নিয়েছি। এখানে যেসব কলাকুশলী সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে আসেন, তারা কে কোন চেয়ারে বসবেন তার সামনে নাম উল্লেখ থাকে। বেছে বেছে মনিকা বেলুচ্চির নামের সামনের জায়গা দখল করেছি।
রবিবার (১৯ মে) দুপুর ১টায় কান উৎসবের পরিচালক থিয়েরি ফ্রেমো এগিয়ে নিয়ে এলেন ‘দ্য বেস্ট ইয়ারস অব অ্যা লাইফ’ ছবির পরিচালক ক্লদ ল্যঁলুশসহ বাকিদের। কিন্তু মনিকা বেলুচ্চির দেখা নেই! এদিকে সাংবাদিকদের মঞ্চের সামনে থেকে সরানোর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী তার মিশন শুরু করেছেন! ভাবছি, কেউ না এলে তার নাম উল্লেখ থাকার কথা না। তিনি নিশ্চয়ই আসবেন।
ভাবতে ভাবতেই কয়েক মুহূর্ত পর চোখের সামনে হাজির মনিকা বেলুচ্চি। চুলগুলো ঢেউ খেলে নেমে এসেছে কাঁধে। ঠোঁটে গোলাপি লিপস্টিক। বাদামি চোখজোড়া দেখে যেন লেখা যায় হাজার কবিতা! কী দারুণ স্নিগ্ধ সৌন্দর্য। মার্জিত, ঝলমলে, অভিজাত, স্নিগ্ধ সৌন্দর্য; কত বিশেষণই না দেওয়া যায়।
কালো সাটিন কাপড়ের পোশাক ও ট্রাউজারে অসামান্য রূপবতী লাগছে মনিকাকে। গায়ের ফরসা রঙ বলছে, এখনও লাবণ্য ধরে রেখেছেন ৫৪ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী। সবচেয়ে বেশি বয়সী বন্ডকন্যা হিসেবে ‘স্পেক্টর’ ছবিতে তাকে দেখে কাবু হয়নি কে!‍ ইতালীয় এই রূপসীকে সামনাসামনি দেখে চোখ যেন সরে না। এই সৌন্দর্য নিরন্তর। মাথা থেকে পা অবধি সব পরিপাটি। লম্বা কী!
ফটোকলে মনিকা বেলুচ্চিএর আগে রবিবার দুপুরেই ফটোকলে যান মনিকা বেলুচ্চি। ‘দ্য বেস্ট ইয়ারস অব অ্যা লাইফ’ ছবির অতিথি চরিত্র এলেনার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন মনিকা বেলুচ্চি। এজন্য মনে পড়ে গেলো তার বিখ্যাত ছবি ‘ম্যালেনা’র কথা। এর গল্পে ইতালীয় রূপসীকে একঝলক দেখার আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে  রূপের পূজারীরা। এখনও পর্দায় একই রকম মুগ্ধতা ছড়ান তিনি।
‘দ্য বেস্ট ইয়ারস অব অ্যা লাইফ’ হলো সবশেষ উদাহরণ। ১৯৬৬ সালে মাত্র ২৭ বছর বয়সে ‘অ্যা ম্যান অ্যান্ড অ্যা ওম্যান’ ছবির জন্য স্বর্ণ পাম জেতেন ক্লদ ল্যঁলুশ। ৫৩ বছর পর এর সিক্যুয়েল হিসেবে তৈরি হয়েছে নতুন ছবিটি। আগেরটির মতো এবারের কিস্তিতেও অভিনয় করেছেন জ্যঁ-লুই ত্রাতিনিও ও আনুক এমে। গল্পে সাবেক রেস কার চালক স্মৃতির জানালায় ডুবে থাকেন। যাকে নিয়ে তিনি ভালোবাসা, ভাবনা ও স্বপ্ন সাজাতেন, সেই নারীকে খুঁজতে থাকে তার ছেলে। জ্যঁ-লুই ও অ্যান যেখানে গল্প ছেড়ে গিয়েছিলেন, সেখান থেকে ফের শুরু হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ‘দ্য বেস্ট ইয়ারস অব অ্যা লাইফ’-এর পুরো টিমকানের ৭২তম আসরে শনিবার (১৮ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় গ্র্যান্ড থিয়েটার লুমিয়েরে ছিল আউট অব কম্পিটিশনে নির্বাচিত ‘দ্য বেস্ট ইয়ারস অব অ্যা লাইফ’ ছবির উদ্বোধনী প্রদর্শনী। রবিবার (১৯ মে) সকাল ১১টায় একই ভেন্যুতে আবারও এটি দেখানো হয়। এর প্রচারণা করতেই কানসৈকতে আলো ছড়াচ্ছেন মনিকা বেলুচ্চি। শনিবার রাতে প্রেস রুমে বসে দেখেছি, কালো গাউন পরে লালগালিচায় হেঁটেছেন তিনি।
কান চলচ্চিত্র উৎসবের সঙ্গে মনিকা বেলুচ্চির সখ্য বহু বছরের। ২০০০ সালে স্টিফেন হপকিন্সের ‘আন্ডার সাসপিশান’ ছবির সুবাদে প্রথমবার দক্ষিণ ফ্রান্সের সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চলে পা রাখেন তিনি। এটি প্রদর্শিত হয় প্রতিযোগিতা বিভাগের বাইরে। এর দুই বছর পর আবারও সাগরপাড়ের শহরে আসেন ইতালিয়ান এই রূপবতী। ২০০২ সালে তার অভিনীত গ্যাসপার নো’র ‘ইরেভারসিবল’ কানের প্রতিযোগিতা বিভাগে ব্যাপক আলোচিত হয়।
‘দ্য বেস্ট ইয়ারস অব অ্যা লাইফ’ ছবিতে মনিকা বেলুচ্চি২০০৬ সালে হংকংয়ের নির্মাতা ওঙ কার-ওয়াইয়ের নেতৃত্বে মূল প্রতিযোগিতা বিভাগের বিচারকদের প্যানেলে ছিলেন মনিকা বেলুচ্চি। এর দুই বছর পর উৎসবে নির্বাচিত হয় তার অভিনীত মার্কো তুলিও গিওরদানার ‘ওয়াইল্ড ব্লাড’ ও মেরিনা ডি ভ্যানের ‘ডোন্ট লুক ব্যাক’। ২০১৪ সালে তার অভিনীত ‘ওয়ান্ডারস’ ছবির জন্য গ্রাঁ প্রিঁ পুরস্কার পান ইতালিয়ান নারী নির্মাতা অ্যালিস রোরওয়াচার। ২০১৭ সালে ৭০তম কান উৎসবের মিস্ট্রেস অব সিরিমনিস (উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানের সঞ্চালক) ছিলেন। এর আগে ২০০৩ সালে একই দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
ফটোকলে দলের মাঝে মনিকা বেলুচ্চিপ্রেমিক নিকোলাস লেফেভরেকে নিয়ে এবার কানে এসেছেন মনিকা বেলুচ্চি। ২০১৭ সালের মে থেকে প্রেম করছেন তারা। এর আগে ফ্যাশন আলোকচিত্রী ক্লদিও কার্লোস বাসোর সঙ্গে ১৯৯০ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত সংসার করেন তিনি। এরপর ফরাসি অভিনেতা ভানসেন্ত ক্যাসেলের সঙ্গে ১৯৯৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বৈবাহিক জীবন কাটান।
সংবাদ সম্মেলন শেষে অটোগ্রাফ দেওয়ার পর মুখে হাসি রেখে সেলফির জন্য মোবাইল ফোনে তাকালেন মনিকা বেলুচ্চি। ততক্ষণে অন্য সাংবাদিকদের মধ্যে কাড়াকাড়ি লেগে গেছে। এ কারণে তার সামনে থেকে আমার নোটপ্যাড নেওয়া হচ্ছিল না। পরে তিনিই আবারও হাসিমুখে নোটপ্যাডটা এগিয়ে দিলেন। চোখে লেগে আছে সেই মুহূর্তটাও।  

/এমএম/

লাইভ

টপ