‘নির্বাচন হচ্ছে, এগুলো যারা করছে তারা ভোটার নন’

Send
মাহমুদ মানজুর
প্রকাশিত : ১৯:০২, জুন ২০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:২২, জুন ২০, ২০১৯

শহীদুজ্জামান সেলিম, আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও শহীদুল আলম সাচ্চুকাল (২১ জুন) যথাসময়ে, যথাস্থানে উৎসবমুখর পরিবেশে অভিনয় শিল্পীসংঘের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন হচ্ছে। কারণ, আদালতের কোনও নিষেধাজ্ঞা তারা হাতে পাননি।
বৃহস্পতিবার (২০ জুন) সন্ধ্যায় এমনটাই জানালেন এবারের নির্বাচনের অন্যতম সভাপতি প্রার্থী শহীদুজ্জামান সেলিম। একই মত ব্যক্ত করেছেন সংঘের শেষ সভাপতি শহীদুল আলম সাচ্চুও।

১৯ জুন সংঘের তিন সদস্য শেখ মো. এহসানুর রহমান, আব্দুল্লাহ রানা ও নূর মুহাম্মদ রাজ্য বাদী হয়ে ২১ জুনের নির্বাচন স্থগিতের আবেদন করেন দ্বিতীয় সহকারী আদালতে। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওইদিনই নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সিনিয়র সহকারী জজ মোহাম্মাদ শাফি এই আদেশ দিয়েছেন। নোটিশটি প্রেরণ করা হয়েছে এই নির্বাচনের কমিশনার অভিনেতা খাইরুল আলম সবুজ বরাবর।
তবে, ২০ জুন সন্ধ্যা নাগাদ সেই নোটিশ হাতে পাননি বলে বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন নির্বাচন কমিশনারসহ সংগঠনের একাধিক নেতা ও সদস্য।
বৃহস্পতিবার (২০ জুন) সন্ধ্যায় এ প্রসঙ্গে এবারের সভাপতি প্রার্থী শহীদুজ্জামান সেলিম বলেন, ‘আমাদের কাছে এ বিষয়ে আদালতের কোনও চিঠি আসেনি। নির্বাচন কমিশন ও সংঘের অফিসেও আসেনি। তো চিঠি না পাওয়া পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনার তো নির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্যেই থাকবে। আমরা যারা নির্বাচন করছি, ভোটার যারা ভোট দেবেন, তারাও সেই প্রক্রিয়ার মধ্যেই আছি। নির্বাচন কালকে (২১ জুন) হচ্ছে। নির্বাচনের পর আইনানুগ কোনও প্রক্রিয়া থাকলে সেটা সম্পন্ন করা হবে। এটা হলো আমাদের সবার সিদ্ধান্ত, যারা নির্বাচনে প্রার্থী।’
এদিকে যাদের আবেদনে আদালত এই অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন, তাদের ‘হঠকারী লোকজন’ বলেও মত প্রকাশ করেছেন নাট্যাঙ্গনের জনপ্রিয় এই নির্মাতা-অভিনেতা। তিনি বলেন, ‘আমরা তো কাগজ হাতে পাইনি, তবে আপনাদের সংবাদে বাদীর তালিকায় যে দুই-তিন জনের নাম দেখলাম, তারা কিন্তু আমাদের এই সংগঠনের চাঁদাও হালনাগাদ করেনি, ভোটারও নন। অথচ তারাই ঝামেলাটা পাকাচ্ছে। যুগে যুগে এমন হঠকারী লোকজন ছিল, এখনও আছে। সেই হঠকারী লোকজন শিল্পীদের মধ্যেও এখন দেখছি। যাইহোক, আপনাদের সবার সহযোগিতা নিয়ে আমরা আনন্দঘন পরিবেশে কাল একটা নির্বাচন করতে চাই।’
এদিকে অনেকটা একই অভিমত ব্যক্ত করেছেন সংঘের শেষ নির্বাচিত সভাপতি শহীদুল আলম সাচ্চু। উচ্চ আদালতের কোনও চিঠি তারা পাননি, তাই এটি প্রতিপালনেরও কোনও বিষয় থাকছে না বলে মনে করেন এই শিল্পী।
বৃহস্পতিবার (২০ জুন) সন্ধ্যায় তিনি বলেন, ‌‘এখন পর্যন্ত আমাদের অফিসে কেউ আসেননি। আমি ফোনেও খোঁজ নিয়েছি। যেহেতু আমাদের কাছে কোনও চিঠি আসেনি তাই নির্বাচন বন্ধ করার কোনও প্রশ্নই আসে না। আগামীকাল (২১ জুন) নির্বাচন হবে।’


এবারের নির্বাচনে লড়াই করছেন তারা...

২০ জুন দুপুরে বাংলা ট্রিবিউন দফতরে উচ্চ আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার কাগজটি এসেছে। সেখানে দেখা যায়, সংঘেরই তিন সদস্য শেখ মো. এহসানুর রহমান, আব্দুল্লাহ রানা ও নূর মুহাম্মদ রাজ্য বাদী হয়ে একটি রিট করেছেন।
বিষয়টি নিয়ে অন্যতম বাদী শেখ এহসানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সমাজসেবা অধিদফতরের অনুমোদিত সংঘের যে গঠনতন্ত্র তা ভায়োলেশন করা হচ্ছে। চার মাস যাবৎ বিগত কমিটির সঙ্গে আলোচনা করেছি। সর্বশেষ আন্তঃবৈঠক হয়েছে। কিন্তু কোনও সমাধান হয়নি। এর ফলে আমরা আদালতের কাছে আবেদন করেছি। আমাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই অস্থায়ী স্থগিতাদেশ দেওয়া হলো।’
গঠনতন্ত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‌‘তফসিলে বলেছে ১৫-এর ৬ ধারা অনুযায়ী নির্বাচন ঘোষণা করা হয়েছে। এতে উল্লেখ আছে একটি সাধারণ সভার মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন ও নির্বাচনকালীন কমিটি গঠন হবে। অথচ সাধারণ সভা ছাড়াই আগের কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক কমিটি গঠন করেছেন। এছাড়াও তারা সমাজসেবা অধিদফতরে প্রচুর অসত্য তথ্য দিয়েছেন। তারা ফান্ডের কথা বলেছেন তিন লাখ ২৪ হাজার টাকা। কিন্তু এটি ৫০ লাখের ওপরে। তারা বলেছেন সংঘ গঠিত হয়েছে ২০১৮ সালে। কিন্তু এটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে ১৯৯৮ সালে। তারা গোপনে অধিদফতর থেকে কমিটির মেয়াদ ২০২০ পর্যন্ত বাড়িয়ে নেন। এগুলো যখন আমরা তাদের ধরি, তারা বলেন অজ্ঞতাবশত হয়েছে। কিন্তু এগুলো সবই অনিয়ম।’
শিল্পীসংঘের সর্বশেষ তালিকা থেকে জানা যায়, এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৬শ’। ৫২ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন এবার। সেখান থেকে প্রাপ্ত ভোটে নির্বাচিত হবেন ২১ জন।
নির্বাচন হওয়ার কথা ২১ জুন সকাল ৯টা থেকে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমিতে।


* ২১ জুন অভিনেতাদের ‘নেতা’ হওয়ার লড়াই

* শিল্পী সংঘের নির্বাচনে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা

/এম/এমএম/এমওএফ/

লাইভ

টপ