অভিনয় যে ‘পেশা’, সেই স্বীকৃতি চাইবো: শহীদুজ্জামান সেলিম

Send
ওয়ালিউল বিশ্বাস
প্রকাশিত : ১৬:১০, জুন ২২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:০০, জুন ২৩, ২০১৯

শহীদুজ্জামান সেলিম/ ছবি: বাংলা ট্রিবিউনঅভিনেতা-নির্মাতা শহীদুজ্জামান সেলিম এবার নেতৃত্বে এলেন অভিনয় শিল্পী সংঘের। ২১ জুন উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনের মাধ্যমে সংগঠনটির ২০১৯-২০২০ বর্ষের জন্য সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। শিল্পীদের বিভিন্ন সংকট সমাধান ও নানা কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করার ইচ্ছে আছে তার। সভাপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে সেগুলোই বাংলা ট্রিবিউনের কাছে তুলে ধরলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই নেতা-অভিনেতা−
বাংলা ট্রিবিউন: নিজে একজন ব্যস্ত অভিনয়শিল্পী। এবার সেই শিল্পীদেরই প্রধান নেতা হিসেবে নির্বাচিত হলেন−বিষয়টি কেমন লাগছে?
শহীদুজ্জামান সেলিম: ভালো।
বাংলা ট্রিবিউন: শুধুই ভালো?
শহীদুজ্জামান সেলিম: এর চেয়ে বেশি বলাটা মুশকিল।
বাংলা ট্রিবিউন: শিল্পীদের সমস্যাগুলো সম্পর্কে আপনি নিজেই যথেষ্ট অবগত। সবচেয়ে গুরুতর সমস্যা কোনগুলো বলে আপনি মনে করেন?
শহীদুজ্জামান সেলিম: শিল্পীদের নানা সমস্যা আছে। কাজের ক্ষেত্রে সম বণ্টন, পারিশ্রমিক নিশ্চিতকরণ বা কাজের সময় নির্ধারণ। কর্ম-ঘণ্টা নির্ধারণ করাটা খুব জরুরি হয়ে পড়েছে। টেলিভিশনের দিক থেকে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এই জায়গায় কাজ করতে চাই। দর্শকরা যেন আবার এদিকে দৃষ্টি ফেরান, তার জন্য যা যা করা প্রয়োজন তা অন্যান্য সংগঠনের সঙ্গে বসে অতি দ্রুত করতে চাই।
বাংলা ট্রিবিউন: সমস্যা সমাধানের বাইরে আর কী কী পদক্ষেপ নিতে চান?
শহীদুজ্জামান সেলিম: রাষ্ট্রীয়ভাবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে চাইবো, ‘শিল্পী’ যে একটা পেশা তার রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি। শিল্পীদের মর্যাদা বৃদ্ধির অফিসিয়ালি বৃদ্ধি করতে হবে। গুণী ও বয়োজ্যেষ্ঠ শিল্পীদের ‘কালচারাল ইমপরটেন্ট পারসন’ ঘোষণা করতে হবে। এসব বিষয়ে সিরিয়াসলি কাজ করতে চাই আমি।
বাংলা ট্রিবিউন: সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতির বিষয়টি যদি আর একটু বিস্তারিত বলতেন! এটার স্বীকৃতি হলে সংবিধান বা রাষ্ট্রীয়ভাবে কীভাবে শিল্পীদের মূল্যায়ন করা হবে?
শহীদুজ্জামান সেলিম: আমরা এখন যেকোনও কাজ করতে গেলে পেশা হিসেবে ‘অন্যান্য’ অপশনটি লিখতে হয়। রাষ্ট্রীয়সহ নানা কাজে ‘শিল্পী’ যে পেশা, সেটা উল্লেখ থাকতে হবে। অভিনয় যে একটা পেশা, সেটির স্বীকৃতি চাইবো। ষাটোর্ধ্ব বয়স্ক যারা আছেন, তাদের দায়িত্ব যেন রাষ্ট্র গ্রহণ করে, সেই সম্মানটি চাই। এটা হবে তাদের কাজের স্বীকৃতি অনুযায়ী। তারা বাংলাদেশের শিল্পে যে ভূমিকা রেখেছেন, সেটা বিবেচনা করে যেন দেওয়া হয়।
বাংলা ট্রিবিউন: টেলিভিশনে সবচেয়ে বেশি অর্থ লগ্নি করা হয়। কিন্তু এটা এখনও শিল্প নয়। বিষয়টি কি আপনাকে ভাবায়?
শহীদুজ্জামান সেলিম: অবশ্যই। এটা আমাদের বহুদিনের মনের কথা। দেশের শিল্প-সাহিত্যে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ হয় টেলিভিশনে। তাই এটাকে আমরা শিল্প হিসেবে দেখতে চাই। আর একটি বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে যেতে চাই তা হলো, জাতীয় টেলিভিশন পুরস্কার। আমাদের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার আছে। তেমন আদলেই এটি করতে চাই। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আমরা কথা বলতে চাই।
বাংলা ট্রিবিউন: আপনি নির্বাচিত হওয়ার পরপরই হয়তো আইনি বিষয়ে খানিক জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন। কারণ হাইকোর্টের একটি আদেশ ছিল নির্বাচন স্থগিতের। যদিও নির্বাচনের আগে আপনারা বলেছেন, আদেশটি আপনারা পাননি। সেই কাগজটি আপনাদের হাতে এখন এসে পৌঁছালে কী দাঁড়াবে?
২১ জুনের ভোট কেন্দ্রে তারকাদের সেলফি উৎসবশহীদুজ্জামান সেলিম: এটা আমার হাতে পৌঁছাবে না। নির্বাচন কমিশনার, অভিনয় শিল্পী সংঘ, সমাজ কল্যাণ অধিদফতর−তাদের কাছে যাবে। যাদেরকে কারণ দর্শাতে হবে, তা হলো সাবেক সভাপতি বা নির্বাচন কমিশনারকে। এখানে আমরা (নবনির্বাচিতরা) কোনোভাবেই অন্তর্ভুক্ত না।
বাংলা ট্রিবিউন: আপনাদের শপথ অনুষ্ঠান কবে হচ্ছে?
শহীদুজ্জামান সেলিম: এখনও সময়টা চূড়ান্ত হয়নি। এটা নির্বাচন কমিশনার সিদ্ধান্ত নেবেন। শিগগিরই সেটি চূড়ান্ত হবে। তখন শপথ অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সংবাদ সম্মেলনও হবে।
বাংলা ট্রিবিউন: নতুন দিনের পথচলা নিয়ে কিছু বলতে চান?
শহীদুজ্জামান সেলিম: যারা আমার বা আমাদের সঙ্গে ছিলেন, তাদের সবাইকে নিয়ে আগামী দুই বছর এগিয়ে যেতে চাই। শিল্পী ও এই শিল্পকে সমৃদ্ধশালী একটা জায়গায় পৌঁছাতে চাই। এজন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।

/এমএম/এমএমজে/

লাইভ

টপ