শতকের ঘরে ‘নিত্যপুরাণ’: দুই যুগ পর অভিনয়ে মাসুম রেজা

Send
সুধাময় সরকার
প্রকাশিত : ২০:৩৫, জুলাই ০৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:৫০, জুলাই ১০, ২০১৯

মাসুম রেজাকে ঘিরে চার দ্রৌপদীসর্বশেষ ১৯৯৫ সালে ‘দর্পণে শরৎশশী’ নাটকের হয়ে মহিলা সমিতির মঞ্চে উঠেছিলেন অভিনেতা মাসুম রেজা। তথ্যটি অনেকেরই অজানা।
মাঝে কেটে গেছে ২৪ বছর। নাটক রচনা আর নির্দেশনার ফাঁকে দেশের অন্যতম এই নাট্যকার-নির্দেশক ফুসরত পাননি, অভিনয়ের। অথবা আগ্রহও তৈরি হয়নি তার।

অবশেষে ১২ জুলাই আবার মঞ্চে উঠছেন, অভিনয় করছেন তারই সৃষ্ট একটি চরিত্রে।
দেশ নাটক এদিন বিকাল ৪টা ও সন্ধ্যা ৭টায় শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ হল মঞ্চে উপহার দেবে ‘নিত্যপুরাণ’ নাটকের নিরানব্বই ও শততম প্রদর্শনী। মূলত এই আনন্দ গায়ে মেখে নাটকটির দ্রোণাচার্য চরিত্রে অভিনয় করছেন এর রচয়িতা ও নির্দেশক মাসুম রেজা।
চলছে সেই মাহেন্দ্র মঞ্চায়নের রিহার্সেল।
টানা দুই যুগ পর অভিনয়ে প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে মাসুম রেজা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এটাকে ঠিক প্রত্যাবর্তন বলা যাবে না। মঞ্চ নাটক আমি প্রচুর লিখেছি, নির্দেশনা দিয়েছি, অনেক শো হয়েছে। কিন্তু কোনও নাটকের শততম প্রদর্শনী হয়নি আমার। তো লেখক-নির্দেশক হিসেবে সেটা অনেক বড় আনন্দের বিষয়। আর শুরু থেকেই আমার কাছে অভিনয় আর লেখার অভিজ্ঞতা একটু আলাদা। আমার কাছে মনে হয়, অভিনয় ব্যাপারটা খুব সহজসাধ্য বিষয়! মানে এটা করে সহজে পরিচিতি পাওয়া যায়, দ্রুত দর্শকদের কাছে চলে যাওয়া যায়। যেটা লিখে বা নির্দেশনা দিয়ে সম্ভব নয়। এটাও ঠিক, অভিনয় বিষয়টা খুব কঠিন, তবে সবার কাছে পৌঁছানো ততটাই সহজ। তাই আমি সেই সহজ পথটা পরিহার করলাম ১৯৯৫ সালেই। চেয়েছিলাম, নাটকের পেছনে কাজ করে সবার সামনে হাজির হতে। এ বেলায় এসে, কতোটা পেরেছি জানি না। তবে অপার আনন্দ নিয়ে আমি আবারও মঞ্চে উঠছি ১২ জুলাই। এই আনন্দ-অভিনয় শততম উদযাপনের জন্য। এরপর আবার ফিরে যাবো নিজের লেখালেখির টেবিলে।’
একই দিন একই মঞ্চে পর পর দুইবার মাসুম রেজার অভিনয়ের বাইরে থাকছে আরও একটি চমক। নাটকটির অন্যতম চরিত্র দ্রৌপদীরূপে একই মঞ্চে দেখা মিলবে শিরিন খান মনি, নাজনীন হাসান চুমকী, বন্যা মির্জা ও সুষমা সরকারের। চরিত্র একজনের হলেও এই চার জনই গেল ৯৮টি প্রদর্শনীতে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন দ্রৌপদী চরিত্রে অভিনয় করে।
এবার ৯৯ ও শততম দুটি বিশেষ পর্বে একই চরিত্রে বিভিন্ন দৃশ্যে পাওয়া যাবে চার জনকেই। যেমনটি দেখা গিয়েছে গেল বছর নাটকটির ৭৫তম শো’তে।
এ প্রসঙ্গে ‘নিত্যপুরাণ’-এর অন্যতম কুশীলব বন্যা মির্জা বলেন, ‘দেশ নাটক এখন ৩৩ বছরের টগবগে তরুণ। গত ১ জুলাই ছিল আমাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। একই মাসে হচ্ছে আমাদের নিত্যপুরাণ নাটকের শততম প্রদর্শনী। সব মিলিয়ে একাকার আনন্দ আমাদের মধ্যে। এখন কেবল অপেক্ষা, আপনাদের জন্য। আপনারা আসবেন, পূর্ণ হবো আমরা।’

রিহার্সেলে মাসুম রেজা ও তার দল:


শততম মঞ্চায়নের আগে খানিকটা স্মৃতিকাতর বন্যা মির্জা। তিনি বলেন, ‘দ্রৌপদী চরিত্রটি আমার করার কথা না। আমার আগে এই চরিত্রটি নিয়মিত করতেন নাজনীন হাসান চুমকী। এখানে প্রথম আমি কোরাস করতাম। তো ২০০২ সালের কোনও একদিন আমাদের শো ছিল ঢাকেশ্বরী মন্দিরে। দিলীপ দা তখন বেঁচে ছিলেন। তিনি একলব্য করতেন। তো শোয়ের দুদিন আগে হঠাৎ সিদ্ধান্ত হলো, আমাকে দ্রৌপদী চরিত্রে অভিনয় করতে হবে! কোনও উপায় নেই। কারণ, সেই শোতে কোনও কারণে নাজনীন হাসান চুমকী অনুপস্থিত থাকছেন। তাই আমি বাধ্য হলাম। কিন্তু এত অল্প সময়ে চরিত্রটি নিজের ভেতর তোলা, অসম্ভব বিষয়। অবশেষে দুই দিনে সংলাপ মুখস্থ করে মঞ্চে দাঁড়িয়ে গেলাম। এরপর আরও কয়েকটি শো করলাম। এরমধ্যে দিলীপ দা হঠাৎ চলে গেলেন (২০১২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর)। একলব্য নেই, তাই শো বন্ধ অনির্দিষ্টকালের জন্য। আমরাও বুকে পাথর চেপে চুপচাপ চেয়েছিলাম মাসুম ভাইয়ের দিকে। অনেক বছর পর একলব্য হিসেবে পাই মামুন চৌধুরী রিপনকে। এবং যথারীতি আমি দ্রৌপদী। এভাবেই আমরা চোখের পলকে বুঝি পৌঁছে গেছি শততম মঞ্চের দ্বারপ্রান্তে।’

২০০১ সালের ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর বেইলি রোডের মহিলা সমিতি মঞ্চে ‘নিত্যপুরাণ’-এর প্রথম প্রদর্শনী হয়।

/এমএম/এম/এমওএফ/

লাইভ

টপ