একটি আশাবাদের বাংলাদেশ ফুটে উঠবে পর্দায়: নবনীতা

Send
মাহমুদ মানজুর
প্রকাশিত : ১৩:৩০, অক্টোবর ১৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:১০, অক্টোবর ১৪, ২০১৯

নবনীতা চৌধুরী। সাংবাদিকতা থেকে সঞ্চালনায় দক্ষতার প্রমাণ রেখেছেন। রাজনৈতিক কড়া আলাপে যাকে দেখা গেছে টিভি পর্দায়। সেই তাকেই শ্রোতারা আবিষ্কার করেন উল্টো স্রোতে—সুমিষ্ট সুরেলা গানে। ব্যক্তিজীবনে তিনি একজন আদর্শ মা-ও বটে। যদিও তা এতদিন স্পষ্ট ছিল না টিভিতে। এবার তারই অংশবিশেষ সামনে আসবে দেশের একমাত্র শিশুতোষ টিভি চ্যানেল দুরন্ত’র মাধ্যমে।

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এসেছে বিবিসির বিখ্যাত কুইজ শো ‘মাস্টারমাইন্ড’। এটি নিয়ে শিশুসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তৈরি হয়েছে মেধাভিত্তিক কুইজ শো ‘মাস্টারমাইন্ড ফ্যামিলি বাংলাদেশ’। দুরন্ত টিভিতে আজ (১৩ অক্টোবর) শুরু হয়ে প্রতি রবি থেকে বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় প্রচার হবে অনুষ্ঠানটি। এটি সঞ্চালনার দায়িত্বভার নিয়েছেন নবনীতা চৌধুরী। এ প্রসঙ্গ তো বটেই, কথায় কথায় উঠে এসেছে তার সাংবাদিকতা ও সংগীতের গল্প।

নবনীতা চৌধুরীবাংলা ট্রিবিউন: রাজদরবার কিংবা রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের কড়া আলাপে অন্য এক নবনীতা চৌধুরীকে চেনে বাংলাদেশ। আবার গানেও সমান পারঙ্গম। তো এই পর্যায়ে এসে শিশুদের দলে যোগ দিলেন। দুরন্ত টিভির নতুন অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করছেন। শুটিং অভিজ্ঞতা কেমন?

নবনীতা চৌধুরী: ‘মাস্টারমাইন্ড ফ্যামিলি বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করলাম। খুব উপভোগ্য লাগছে। আসলে সবকিছুর বাইরে আমি নিজেও একজন মা। এই অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে মা হিসেবে নিজেকে আবিষ্কার করলাম নতুনভাবে। মানে বাংলাদেশের সন্তান আর বাবা-মা-পরিবারের বড় একটা ক্যানভাস আমার কাছে ধরা পড়েছে। আমি মুগ্ধ, বিস্মিত ও উচ্ছ্বসিত। তার চেয়ে বড় বিষয়, আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে আমি অনেক বেশি আশাবাদী হতে পেরেছি।

বাংলা ট্রিবিউন: কিন্তু এতটা আশাবাদী হওয়ার সুযোগ কি আদৌ আছে? মানে, এখন তো শিশু মানেই জেলজীবন অথবা মাল্টিমিডিয়ার জীবন। ব্যস্ত বাবা-মা। নেই খেলার মাঠ, পরিবেশ। শিশুরা মুখ বুজে পড়ে থাকে ট্যাব-মুঠোফোন অথবা টিভি পর্দায়।

নবনীতা চৌধুরীনবনীতা: ঠিক এই ধারণা কিংবা অবিশ্বাসগুলো আমার মধ্যেও ছিল এতকাল। কিন্তু অনুষ্ঠানটিতে দেশের বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন পরিবার ও শিশুর সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে সেটা ভেঙে গেলো। এই যে আমরা অনেকেই ভাবি এখনকার শিশুরা পড়ালেখা করে না, মানে পড়ার বইয়ের বাইরে কিছু জানে না। কোনও বিষয়ে তাদের কৌতূহল নেই, জিপিএ পাঁচ-এর কথা ভাবতে ভাবতে শিশুদের বাবা-মায়েরা দেশ-দুনিয়া সাহিত্য-সংস্কৃতি সম্পর্কে উদাসীন। কিংবা এসব নিয়ে শিশুদেরও জানার কোনও আগ্রহ বা উপায় নেই, এগুলো যে কত ভুল ধারণা সেটা এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দর্শক জানতে পারবেন। আমি মনে করি, এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দারুণ একটি আশাবাদের বাংলাদেশ পর্দায় ফুটে উঠবে।
এই অনুষ্ঠানে ৮ থেকে ১২ বছর বয়সের ক্ষুরধার ছেলেমেয়েদের সঙ্গে অংশ নিতে পেরে আমার ভীষণ ভালো লেগেছে। আমার একরকম চোখ খুলে দিয়েছে শিশুরা। আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে দেশ, মুক্তিযুদ্ধ, আমাদের সংস্কৃতি ও ইতিহাস সম্পর্কে জানবার গভীর আগ্রহ এবং এসব সম্পর্কে তাদের জ্ঞানের গভীরতা। 

বাংলা ট্রিবিউন: ‘মাস্টারমাইন্ড’ যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক একটি অনুষ্ঠান। এর সংস্করণ বিশ্বের আরও বহু দেশে হয়েছে, হচ্ছে এখনও। বাংলাদেশে এবারই প্রথম। তো সেক্ষেত্রে এখানকার সংস্করণটা ঠিক কেমন হচ্ছে?

নবনীতা: পরিবারের বাবা-মাসহ অন্য সদস্যদের উপস্থিতিতে এরকম পারিবারিক কুইজ শো বাংলাদেশে এটাই প্রথম। একসঙ্গে দেশের ৬৪টি পরিবারকে টেলিভিশনের পর্দায় চিনতে পারার সুযোগও এবারই প্রথম। এই আকারের কোনও রিয়েলিটি শো বোধহয় বাংলাদেশে আগে কখনও হয়নি। আর দর্শক দেখবেন ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরের বিভিন্ন অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বিভিন্ন শিক্ষাগত যোগ্যতার এই পরিবারগুলোর সবারই শিশুদের প্রতি যত্নে, তাদের একটা সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্নে, শিশুদের ঘিরে বিনিয়োগ আর প্রচেষ্টায় একটা ঐক্য আছে। এর সঙ্গে বাংলাদেশের বেশিরভাগ বাবা-মা ও পরিবারই একাত্মবোধ হবে। কাজেই এই অনুষ্ঠান দেখতে শিশুদের তো ভালো লাগবেই বটে, পুরো পরিবারও উপভোগ করবে।
আর দুরন্ত টিভি যেভাবে অনুষ্ঠানটি তৈরি করেছে; এমন সেট, লাইট, প্রস্তুতি নিয়ে দেশে আর কোনও টিভি শো তৈরি হয়েছে কিনা জানি না। আর ‘মাস্টারমাইন্ড’ পৃথিবীর যে দেশেই গিয়েছে, তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে, একরকম ঝড় তুলেছে, বাংলাদেশেও সেটা না হওয়ার কারণ দেখি না। 

বাংলা ট্রিবিউন: আমাদের পরিবার ও সন্তানদের এত কাছ থেকে দেখে কেমন অভিজ্ঞতা হলো? 

নবনীতা: আমি যা বুঝলাম, তা হলো এমন- এই অনুষ্ঠানের পুরো সিজন যারা দেখবেন তারা বুঝবেন, বাবা-মা কিংবা সন্তানদের প্রতি ঢালাও অভিযোগ করা ঠিক নয়। আমরা প্রায়ই একটা ঢালাও অভিযোগ করি- বাবা-মায়েরা ছেলেমেয়েদের যত্ন নিচ্ছেন না। পারিবারিক বন্ধন ভেঙে পড়ছে। বাবা-মা ছেলেমেয়েদের জিপিএ-পাঁচ পাওয়ার যন্ত্রে পরিণত করছেন। এসব আসলে একটা ঢালাও অভিযোগ ছাড়া আর কিছু নয়। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেখবেন দাদা-দাদি, নানা-নানি, চাচা, খালা, কাজিনদের সঙ্গে শিশুদের কী সুন্দর সম্পর্ক। বাবা-মায়েরা নিজেদের কাজ, সংসার সব সামলে ছেলেমেয়েদের সময় দিচ্ছেন, মাঠের অভাবে বাড়িতে নানারকম খেলার সুযোগ তৈরি করছেন। ছেলেমেয়ে উভয়কে নাচ-গান থেকে শুরু করে ক্রিকেট শেখার সুযোগ দিচ্ছেন। আমার কাছে আরেকটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার মনে হয়েছে, বাবা ও মা দুজনই কিন্তু শিশুদের বিকাশে ভূমিকা রাখছেন। যেসব পরিবারে এই সুস্থ পরিবেশ রয়েছে সেসব পরিবারের শিশুরাই আসলে ৬৪ সেরা পরিবারের এক পরিবার হয়ে এই অনুষ্ঠানের মূল পর্বে উঠে আসতে পেরেছে।

বাংলা ট্রিবিউন: দুরন্ত টিভি এখন শিশুদের জন্য খুবই আগ্রহের একটি চ্যানেল। সঙ্গে পরিবারের সদস্যরাও এটি উপভোগ করছেন। সেই সূত্রে মেধাভিত্তিক কুইজকেন্দ্রিক এই শো ছোটদের মধ্যে কেমন সাড়া জাগাবে বলে আপনি মনে করেন?

নবনীতা: শুধু শিশুরা নয়, পুরো পরিবারই খুব মজা পাবে। আমার মনে হয় এ ধরনের মেধার প্রতিযোগিতা শিশুদের মধ্যে একটা বিশ্বাস তৈরি করে যে, আমি শহরে বা গ্রামে যে অর্থনৈতিক অবস্থানেই বড় হই না কেন, নিজের চেষ্টায় অনেকদূর যেতে পারি। মেধার লড়াই তো আসলে ছেলেমেয়েদের মধ্যে এই ন্যায্যতার বোধও তৈরি করে।

নবনীতা চৌধুরীবাংলা ট্রিবিউন: আপনার সঞ্চালনায় রাজনৈতিক অনুষ্ঠান কিংবা খবর বিশ্লেষণ টিভি দর্শকদের জন্য বেশ আগ্রহের বিষয় ছিল। বিশেষ করে ডিবিসি নিউজের ‘রাজকাহন’ খুবই জনপ্রিয় হয়। সেখান থেকে বিরতি নিয়েছেন সম্প্রতি। তেমন কোনও নতুন অনুষ্ঠানে পাওয়া যাবে কি?

নবনীতা: আপাতত কোনও রাজনৈতিক শো করছি না। রাজনৈতিক টক শোতে আমাদের তো অনেক রুঢ় বাস্তবতা, নেতিবাচকতা নিয়ে কথা বলতে হয়। অনেক সময় আমরা প্রত্যাশিত পরিবর্তনে রাজনৈতিক অঙ্গীকার না দেখে হতাশও হই। তার বিপরীতে ‘মাস্টারমাইন্ড ফ্যমিলি বাংলাদেশ’ আসলে আমার ভেতরে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ নিয়ে ব্যাপক আশাবাদ তৈরি করেছে। আমাদের ছেলেমেয়েরা এখন বিজ্ঞানী, নভোচারী হওয়ার স্বপ্ন দেখছে, পরিষ্কার সুন্দর শহর তৈরি করতে চাইছে। নদী, মাঠ রক্ষায়, শব্দ দূষণ কমাতে নিজেরা দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলছে। ওদের (৮-১২ বছর) বয়সে তো আমরা এভাবে ভাবতেই পারতাম না! আমাদের দেশটা যে এমন ভাবনার ছেলেমেয়ে তৈরি করতে পারছে সেটাই তো দারুণ ব্যাপার। সেই আনন্দটুকু নিতে চাই। রাজনীতির ভার অনেক তো নিয়েছি।

নবনীতা চৌধুরীবাংলা ট্রিবিউন: আপনি মূলত সাংবাদিক। সেই সূত্রেই সঞ্চালনা। তারও আগের গল্পটা জানতে চাই।

নবনীতা: আমার সাংবাদিকতার বয়স দুই দশক কিংবা তারও খানিক বেশি। ভোরের কাগজের ফিচার পাতা থেকে শুরু। সেটা স্কুল জীবনে। তারপর সেই পত্রিকায় সাব-এডিটর হিসেবে সংবাদিকতার শুরু। এরপর একুশে টেলিভিশনে গবেষক হিসেবে কাজ করতে গিয়ে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, ঢাল চর থেকে সুন্দরবন ঘুরে বেড়িয়েছি খবর সংগ্রহের নেশায়। শৈশব থেকেই মানুষের গল্প জানার, তাদের কথা শোনার আগ্রহ আমার। সেই সুবিধা পেতেই সাংবাদিকতায় জড়িয়ে পড়েছি। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়লাম। কিন্তু অনার্স পরীক্ষার পরপরই চাকরি হলো লন্ডনে বিবিসি রেডিওতে। সেখানে চাকরির দৈনন্দিন দায়িত্বের মধ্যেই ছিল সঞ্চালনা। তবে পর্দার সামনে কাজের চেয়ে টেলিভিশন, পত্রিকা, রেডিওতে পেছনের কাজ, খবর তৈরি, প্রযোজনার কাজেই বেশি আনন্দ পেয়েছি।

নবনীতা চৌধুরীবাংলা ট্রিবিউন: যদিও সারাবাংলায় আপনার মূল পরিচিতি বা জনপ্রিয়তা- যেটাই বলি না কেন, একাত্তর টিভির মধ্য দিয়ে সেটা এসেছে। পরে ডিবিসি নিউজ চ্যানেলেও আপনার পর্দা উপস্থিতি ছিল প্রজাদের বিশ্বস্ত প্রতিনিধির মতোই, অনুষ্ঠানটির নাম ছিল ‘রাজকাহন’। এই অধ্যায়ের কথা জানতে চাই খানিক।

নবনীতা: পরিচিতি অথবা মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি প্রচুর। এতে কোনও সন্দেহ নেই। তবে প্রতিনিধি হিসেবে কতখানি উপকারে এসেছি তা ভাববার বিষয়। যাই হোক, ২০১২ সালে বিবিসি লন্ডন থেকে ঢাকায় ফেরার পর মোজাম্মেল বাবু আর সামিয়া জামান টেনে নিয়ে গেলেন একাত্তর টেলিভিশনে। মানুষ আসলে রেডিও থেকেই আমাকে ভালোবাসতে শুরু করেছিল। টেলিভিশনে পর্দার সামনে এসেও মানুষের অনেক ভালোবাসা পেলাম। কিন্তু একাত্তরে অন্যের পরিকল্পনা ও সম্পাদনায় অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করে আসলে আমার মন ভরছিল না। এরপর ডিবিসি টিভিতে সম্পাদক হিসেবে যোগ দিলাম এবং প্রায় তিন বছর সপ্তাহে পাঁচ দিন টানা দুই ঘণ্টা করে দুটো আলোচিত বিষয় নিয়ে গভীর বিশ্লেষণধর্মী অনুষ্ঠান ‘রাজকাহন’ পরিকল্পনা, সঞ্চালনা ও সম্পাদনার সুযোগ পেলাম। ভীষণভাবে তথ্যনির্ভর হওয়ায় এবং বিষয় সংশ্লিষ্ট যোগ্য অতিথিদের উপস্থিতি নিশ্চিত করায় আমার মনে হয় ‘রাজকাহন’ এতটা জনপ্রিয়তা পায়। এজন্য আমি খুব কৃতজ্ঞ।

বাংলা ট্রিবিউন: কিন্তু সেটি তো এগিয়ে নিলেন না। ছেড়ে দিলেন। যুক্ত হলেন একেবারে আলাদা আরেকটি মাধ্যম ব্র্যাক-এ। ছাড়ার কারণ কী ছিল?

নবনীতা: বলার মতো বিশেষ কোনও কারণও নেই! সত্যি বলতে, হঠাৎ মনে হলো অনেকদিন ধরে স্টুডিওর  ভেতরেই আছি, মানুষের কাছে গিয়ে তাদের গল্প শোনা হচ্ছে না। সেই অনুভূতি থেকেই টেলিভিশন স্টুডিওর চার দেয়াল ছেড়ে দেওয়া। আর কিচ্ছু না।

নবনীতা চৌধুরীবাংলা ট্রিবিউন: টিভি বা সংবাদমাধ্যম ছেড়ে উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। সেখানে আপনার কাজ সম্পর্কে যদি বলেন...

নবনীতা: এখানে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধী উদ্যোগের পরিচালক হিসেবে যোগ দিয়েছি। সমাজে শত শত বছর ধরে গেঁড়ে বসা নারী-পুরুষ বৈষম্য এবং পিতৃতান্ত্রিকতাকে চ্যালেঞ্জ করতে এর অবসানে এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ব্র্যাক। প্রতিষ্ঠানটির বয়স তো প্রায় বাংলাদেশের সমান। এর প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ মনে করেন, বাংলাদেশে নারীর স্কুলে যাওয়া বা কাজে অংশগ্রহণে সংখ্যার দিক দিয়ে যত উন্নতি হয়েছে, পরিবারে ও বাইরে নারীর প্রতি আচরণে, সম্মানে তেমন পরিবর্তন আসেনি। মেয়েরা এখনও পরিবারে ও প্রতিষ্ঠানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় ঠাঁই পায়নি। তাদের প্রতি নির্যাতন-সহিংসতা কমেনি। উনি বিশ্বাস করেন, আগামী কয়েক দশক ব্র্যাক’কে নারীর প্রতি এই বৈষম্যমূলক আচরণ পরিবর্তনে ব্যাপক কাজ করতে হবে। সেই কাজটি শুরুর দায়িত্ব আমি পেয়েছি। এজন্য আমি সত্যিই গর্বিত।

ব্র্যাকের মতো একটি প্রতিষ্ঠান আমার ওপর আস্থা রেখেছে, সেটা অনেক বড় সুযোগ বলে মনে হয়েছে। আমি, আমরা স্বপ্ন দেখছি, বাংলাদেশ নারী-পুরুষ সমতার পথে হাঁটবে। সার্বিকভাবে একটা বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়ে উঠবে। সময় লাগবে, তবে আমরা নিশ্চয়ই আমাদের জীবদ্দশাতেই সমাজের আচরণে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখবো।

স্বামী শিল্পী লাবিক কামাল গৌরবের সঙ্গে নবনীতা চৌধুরীবাংলা ট্রিবিউন: এবার গানের নবনীতা চৌধুরীর কাছে যবো। আপনি সাংবাদিক হিসেবে যতটা তীক্ষ্ণ, শিল্পী হিসেবে ততই সুরেলা। কেমন করে সম্ভব?

নবনীতা: অনেক ধন্যবাদ। কতটা ভালো গাইছি, সেটার ভার শ্রোতাদের ওপরেই বর্তায়। তবে আমার চেষ্টা ছিলে, আছে এখনও। গান তো আমার কাছে প্রার্থনার অপর নাম। সকল প্রশান্তি এখানেই খুঁজে পাই। সেজন্যই শত ব্যস্ততার মাঝেও গাইবার চেষ্টা করি।

বাংলা ট্রিবিউন: এর মধ্যে দুটি গানের অডিও-ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে। দুটোই হাছন রাজার। একটি ‘সোনালি বন্ধু’, অন্যটি ‘রূপ দেখিলাম রে’। এগুলোর সুবাদে বেশ প্রশংসা কুড়োচ্ছেন। নতুন কী আসছে?

নবনীতা: প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জি-সিরিজের সঙ্গে ‘আহারে সোনালি বন্ধু’ নামের যে অ্যালবামটির চুক্তি হয়েছে সেটির গানগুলোই এক এক করে প্রকাশ করছি। দুটি প্রকাশ পেয়েছে। শ্রোতা-দর্শকের ব্যাপক ভালোবাসা পাচ্ছি। এবার রাধারমণ দত্তের ‘বল গো সখী’র ভিডিও করছি। আসছে খুব শিগগিরই। আর সময়-সুযোগ করতে পারলে মঞ্চে ও টেলিভিশনে লাইভ সংগীত পরিবেশনের চেষ্টা করি।

বাংলা ট্রিবিউন: সাংবাদিকতা, সঞ্চালনা, সংগীত ও সহিংসতা প্রতিরোধী চলমান জীবনের সাফল্য কামনা করতেই চাই। বাংলা ট্রিবিউনকে সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।

নবনীতা: আপনাকেও ধন্যবাদ, আমার দীর্ঘ আলাপের সূত্রধর হওয়ার জন্য।

‘সোনালি বন্ধু’ গানটির লিংক:







/জেএইচ/

লাইভ

টপ