বিশেষ সাক্ষাৎকারে শ্যাম বেনেগাল ‘স্মৃতি উজাড় করে সব শেয়ার করেছেন শেখ হাসিনা’

Send
রঞ্জন বসু, দিল্লি
প্রকাশিত : ১২:২৮, নভেম্বর ০৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৫০, নভেম্বর ০৬, ২০১৯

পরিচালক শ্যাম বেনেগাল

বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনায় তৈরি হতে যাওয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবননির্ভর কাহিনিচিত্রের (বায়োপিক) পরিচালক শ্যাম বেনেগাল জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের কাজে তাকে সার্বিকভাবে সাহায্য করছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ‘স্মৃতি থেকে উদ্ধার করে যা যা তার রসদে ছিল, সেই সবকিছুই আমাদের সঙ্গে শেয়ার করেছেন তিনি’—জানিয়েছেন বেনেগাল।

তবে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় বলিউডের প্রবীণ এই চিত্রনির্মাতা এ কথাও স্বীকার করেন—ছবিটি শেষ করতে আগে যা ভাবা হয়েছিল, তারচেয়ে সম্ভবত একটু বেশিই সময় লাগবে।

ঠিক এক মাস আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় দিল্লিতে তার হোটেল স্যুইটে দেখা করেছিলেন শ্যাম বেনেগাল। রবিবারের সেই সকালে (৬ অক্টোবর) বঙ্গবন্ধুর ওপর কাহিনিচিত্রটি নিয়ে দু’জনের মধ্যে সেদিন দীর্ঘ আলোচনাও হয়েছিল।

শেখ হাসিনা ও শ্যাম বেনেগালের মধ্যে সেই বৈঠকের পর এই প্রথম কোনও গণমাধ্যমের সামনে মুখ খুললেন মুম্বাইয়ের এই বর্ষীয়ান ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় পরিচালক। টেলিফোনে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে তার কথাবার্তার সারসংক্ষেপ নিচে তুলে ধরা হলো—

বাংলা ট্রিবিউন: বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক নির্মাণের কাজ এখন ঠিক কোন পর্যায়ে?

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানশ্যাম বেনেগাল: কাজ চলছে পুরোদমে। তবে এখনই বলার মতো কোনও ডেভেলপমেন্ট নেই। আসলে এই ধরনের এপিক কাজ তাড়াহুড়ো করে কখনও হয় না, আর এখানেও তা হবে না। এখনও আমরা ছবিটির নানা বিষয় ও নানা দিক নিয়ে গবেষণা করছি, আর সেইসব তথ্য সংকলন করে স্ক্রিপ্ট বা চিত্রনাট্য দাঁড় করানোর কাজ চলছে। স্ক্রিপ্ট ফাইনাল হলেই তারপর আমরা পরের ধাপগুলো নিয়ে এগোবো।

বাংলা ট্রিবিউন: এদিকে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ তো প্রায় এসেই গেলো...

শ্যাম বেনেগাল: হ্যাঁ, সেটা আমার খেয়াল আছে। আগামী বছরের মার্চ মাস থেকেই শেখ মুজিবের জন্মশতবর্ষ উদযাপন শুরু হচ্ছে। বাংলাদেশ সম্ভবত তার পরবর্তী এক বছরকে ‘মুজিব ইয়ার’ হিসেবেও পালন করবে। আমাদের টার্গেট হলো, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ থেকে শুরু করে বাংলাদেশের জন্মলগ্নের ৫০ বছর পূর্তি–এর মাঝের কোনও একটা সময়ে ছবিটা শেষ করা।

বাংলা ট্রিবিউন: তার মানে, ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কোনও একটা সময়ে?

শ্যাম বেনেগাল: ঠিক তাই। এই দুটো মাইলস্টোন ইভেন্টের মাঝখানে যে সময়টা, তার ভেতরেই ছবিটা মুক্তি পাবে বলে আমি আশা করছি। হয়তো আর একটু আগেই শেষ করার ইচ্ছে ছিল, কিন্তু এটুকু সময় এখন লাগবেই।

বাংলা ট্রিবিউন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ছবিটা নিয়ে কী বলেছেন? আপনার সঙ্গে তো সম্প্রতি ওনার মুখোমুখি কথা হলো...

শ্যাম বেনেগাল: উনি যে এই বায়োপিক নিয়ে ভীষণ উৎসাহী, সেটা তো বলার অপেক্ষা রাখে না। আমাকে ও আমার রিসার্চ টিমকে উনি সবরকমভাবে সব সময় সাহায্য করে যাচ্ছেন। ওনার নিজের বাবাকে পরিবার ও রাজনীতির বলয়ে খুব কাছ থেকে যেভাবে দেখেছেন, যেসব কথা তার স্মরণে আছে—তার সবই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আমাদের জানিয়েছেন। চিত্রনাট্যের জন্য নানা ধরনের রসদপত্র, রিসার্চ মেটেরিয়াল, সেসবও আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন এরই মধ্যে।

বাংলা ট্রিবিউন: এই প্রোজেক্টে প্রধানমন্ত্রী হাসিনা ঠিক কী ধরনের ভূমিকা পালন করছেন?

শেখ হাসিনা

শ্যাম বেনেগাল: (জোরে হাসতে হাসতে) সেটাই তো বললাম। আপনারা কি ওনাকে এই সিনেমায় আর অন্য কোনও ভূমিকাতেও দেখতে চান? তাহলে বলে ফেলুন, পরের মিটিংয়ে না-হয় কথাটা ওনার কাছে পাড়বো!

বাংলা ট্রিবিউন: (হেসে ফেলে) সেটা না-হয় আপনার ওপরই ছেড়ে দিলাম। তবে আমরা কিন্তু এটাও জানতে চাইবো, বঙ্গবন্ধুর ভূমিকায় কে অভিনয় করবেন, সেটা কি কিছু ঠিক হলো?

শ্যাম বেনেগাল: না, এখনও সে ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে চিন্তাভাবনা চলছে। কিন্তু বায়োপিকে নাম ভূমিকায় কে অভিনয় করবেন, সেটা এখনও কিছু বলার মতো জায়গাতেই আসেনি–আই মিন দ্যাট উড বি টু প্রি-ম্যাচিওর!

এরপরই বর্ষীয়ান পরিচালককে অকুণ্ঠ ধন্যবাদ জানিয়ে টেলিফোন নামিয়ে রাখি। 

/এপিএইচ/এমএমজে/

লাইভ

টপ