বলিউড বিজয়ীদের ব্যর্থ সন্তানেরা

সুরঞ্জনা শেখ।।০৯:২০, অক্টোবর ১৬, ২০১৫

Sooraj Pancholi and Athiya Shettyভাবতেই ভালো লাগে- জন্মের ঠিক পরপরই মিডিয়ার প্রথম পাতায় খবর চলে আসা। ক্যামেরাগুলোর অনুসরণ বা কোনও পার্টিতে পরা পোশাক নিয়ে আলোচনা-হুলুস্থুল। বলিউড তারকার সন্তান হলেই যেন এই প্রাপ্তিটা জোটে বিনামূল্যে, বিনা কষ্টে। কৈশর শেষে বলিউডে কোনও নামজাদা পরিচালকের হাত ধরে অনায়াসে প্রবেশ করাটাও যেন সেই তারকা সন্তানের নিয়তির লিখন। সর্বশেষ এমনই ভাগ্য নিয়ে বলিউডে এসেছেন সুনিল শেঠির কন্যা আথিয়া শেঠি। যার সঙ্গে অভিষেক ঘটেছে আরেক তারকার পুত্র সুরাজ পাঞ্চোলির। জিয়া খান মৃত্যু রহস্য নিয়ে নানা গুজব থাকলেও সুরাজের জমকালো অভিষেক কেউ ঠেকাতে পারেনি। রেডিমেড এই নিয়তিও যে মুখ ফিরিয়ে নেয়, সেই নজিরও কিন্তু আছে বলিউড পাড়ায়। সেই ব্যর্থতার গল্প নিয়ে আজকের বিশেষ ফিচার।
দেব আনন্দ পুত্র:
দেব আনন্দের ছেলে কোনও এক সময় বলিউডে চেষ্টা করেছিলেন, সেটাও মনে হয় অনেকের অজানা। সত্যি সত্যি সুনীল আনন্দ বাবার ঝলমলে জীবন দেখে বলিউডে এসেছিলেন ‘নিয়তির গড়া ভাগ্য’ নিয়ে। সেই ভাগ্য অবশ্য তাকে খুব বেশি সঙ্গ দেয়নি। অল্প দিনেই সুনীল বুঝতে পারেন যে বলিউড তার সঠিক স্থান নয়। দিনের পর দিন তাই মাটি কামড়ে না থেকে তিনি বেছে নেন অন্য জীবন।

দেব আনন্দ-সুনীল আনন্দ

কাজলের বোন:
এমনিতে ‘কাজলের বোন’ বিশেষণে ভালই লাগার কথায়! তাই বলে দিনের পর দিন, একই মিডিয়ায় কাজ করার পরেও যদি তনুজার মেয়ে বা কাজলের বোন হিসেবে পরিচিত হতে হয়, তাহলে বুঝে নিতে হবে বলিউড তার স্থান নয়। দেরিতে হলেও বিষয়টি হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন তানিশা। ‘নিল অ্যান্ড নিকি’ ছবিতে বোল্ড হয়েও সেই বিশেষ বিশেষণটি থেকে দূরে আসতে পারেননি। আবার গেল আসরের ’বিগবস’-এ রানারআপ হয়েও আসতে পারেননি আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। তাই আজও তানিশা কাজলেরই বোন!

কাজল-তানিশা

সিংহাসনচ্যুত খান-সন্তান:
ফিরোজ খানকে বলা হয় বলিউডের ট্রেন্ড সেটার। একসময় যা কিছু অসম্ভব মনে হতো , তার সবই খানেরা করে দেখিয়েছেন। এক ছবিতে শ্রীদেবী তো আরেকটায় রেখাকে নিয়েছেন। বিকিনি পরা দৃশ্য দেখিয়ে বলিউডে আলোচনার ঝড় তুলেছেন। সেই খান-পুত্র ফারদিন খানের ক্যারিয়ার খান খান করে ভেঙ্গে পড়েছে একটার পর একটা ফ্লপ সিনেমার মাধ্যমে। ‘প্রেম আগান’ থেকে শুরু করে ‘অল দ্য বেস্ট’, কোনওটি দিয়েই যুতসই কিছু করতে পারেননি খানপুত্র।

ফিরোজ খানের সঙ্গে ছোট্ট ফারদিন

সান অব গব্বর:
যুগান্তকারী চরিত্র, ইতিহাস সৃষ্টিকারী সিনেমা- ‘শোলে’। এই সিনেমায় নায়কদের পাশ কাটিয়ে সামনে এগিয়ে এসেছিলেন খলনায়ক। তার নাম আমজাদ খান। সেই আমজাদ খানের ছেলে শাদাব খান বলিউডে কিছুই করতে পারেননি। রানী মুখার্জির সঙ্গে ‘রাজা কি আয়েগি বারাত’-এ শাদাব ছিলেন। ব্যস অতটুকুই। এর আর কোনও ‘পর’ নেই।

শাদাব খান-আমজাদ খান

একতার একটি ভাই:
বোনের নামে একটা সময় কাঁপত টিভি চ্যানেল সবক’টি। আর ভাইয়ের নামে টিকিট বিক্রি হয় না একটিও। তুষার কাপুর, জিতেন্দ্রর ছেলে টিভি মিডিয়া কুইন একতা কাপুরের ভাই। একের পর এক সিনেমা করেছেন লিড চরিত্রে। বোনের প্রযোজনাতেও সামনে এসেছেন বারবার। তবুও তিনি ব্যর্থ! টাকা, লগ্নি, ব্যানার, ক্ষমতা- কোনও কিছু দিয়ে দর্শকের ভালোবাসা কেনা যায় না- তুষার তারই বড় প্রমাণ।

তুষার কাপুর-একতা কাপুর

এই তালিকায় আরও আছেন বলিউড শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চন পুত্র অভিষেক বচ্চন, রাজেশ খান্নার দুই মেয়ে টুইঙ্কল খান্না, রিঙ্কি খান্না, রাজকাপুরের ছেলে রাজিব কাপুর, হেমামালিনি কণ্যা এশা দেওল, মালা সিনহার মেয়ে প্রতিভা সিনহাসহ অনেকে। দিনের পর দিন বড় হতে থাকা এই তালিকা বলে দেয়, শুধু সোনার চামচ মুখে দিয়ে জন্মালেই ভাগ্য ধরা দেয় না। ভাগ্য বদলাতে দরকার একমুঠো পরিশ্রম এবং এক চিমটি সুসময়। তাতেই হয়তো হওয়া যায় বলিউডের জ্বলতে থাকা তারা।

অমিতাভ বচ্চন-অভিষেক

/এসএস/এমএম/

লাইভ

টপ