ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর তীব্র সমালোচনা করে তাকে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক বলে আখ্যা দিয়েছেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুট ক্যাভুসোগলু। সিরিয়ায় তুর্কি অভিযানের সমালোচনা করায় ম্যাক্রোঁর বিষয়ে বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) এমন মন্তব্য করেন তিনি।
২০১৯ সালের ৯ অক্টোবর তুরস্কের সীমান্তবর্তী সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় এলাকা থেকে সিরিয়ার কুর্দি বিদ্রোহীদের উৎখাতে অভিযান শুরু করে তুরস্ক। কুর্দিস পিপলস প্রোটেকশন ইউনিটস (ওয়াইপিজি) ও ইসলামিক স্টেটকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করে তুরস্ক। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় তারা। এ অভিযানের মাধ্যমে অঞ্চলটি থেকে আইএস জঙ্গি ও কুর্দি বিদ্রোহীদের বিতাড়িত করে সেখানে একটি সেফ জোন প্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী আঙ্কারা। এ সেফ জোনে দীর্ঘদিন ধরে তুরস্কে বসবাসরত সিরীয় শরণার্থীদের বসবাসের ব্যবস্থা করতে চায় আঙ্কারা। তবে কুর্দিরা আবার মধ্যপ্রাচ্যে আইএস-বিরোধী অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে। আইএস-বিরোধী অভিযানে তাদের মিত্র মনে করে ন্যাটো।
বৃহস্পতিবার ম্যাক্রোঁ সিরিয়ায় ওই চলমান অভিযানের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন,
আইএস-বিরোধী কার্যক্রমকে বিপন্ন করে এমন গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করছে আঙ্কারা। ওয়াইপিজির বিরুদ্ধে অভিযানের মাধ্যমে মূলত আইএসবিরোধী যুদ্ধের মিত্রদের দুর্বল করা হচ্ছে।
এরপরই ম্যাক্রোঁর বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে তুরস্ক। মেভলুট অভিযোগ করেন, সিরিয়ায় কুর্দি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় প্যারিস। তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে তিনি (ম্যাক্রোঁ) সন্ত্রাসী সংগঠনের পৃষ্ঠপোষক হয়েছেন। যদি তিনি বলেন, তার মিত্র সন্ত্রাসী সংগঠন, তাহলে আমাদের কিছুই বলার নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখন ইউরোপে একটি নেতৃত্বশূন্যতা তৈরি হয়েছে। তিনি এটার নেতা হতে চেষ্টা করছেন। তবে নেতৃত্ব স্বাভাবিক নিয়মেই আসে।’
১৯৮০ সাল থেকে তুরস্কের ভূখণ্ডে একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে লড়াই চালিয়ে আসছে কুর্দিপন্থী বিদ্রোহীরা। যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত এ কুর্দি বিদ্রোহীদের সন্ত্রাসী হিসেবে বিবেচনা করে আঙ্কারা। তাদের তুরস্কের অখণ্ডতার প্রতি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।








