behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

খান আতা: প্রস্থানের ১৮ বছর

বিনোদন প্রতিবেদক।।১২:০১, ডিসেম্বর ০১, ২০১৫

Khan-ata-homeচলচ্চিত্রের কিংবদন্তি খান আতাউর রহমান। যিনি খান আতা নামে পরিচিত। শুধু নির্মাণেই নয়, তিনি একাধারে চলচ্চিত্র অভিনেতা, সুরকার, গীতিকার, গায়ক, সংলাপ রচয়িতা, প্রযোজক, সংগীত পরিচালক ও কাহিনীকার হিসেবেও রেখে গেছেন সাফল্যের স্বাক্ষর। আজ (০১ ডিসেম্বর) এই চলচ্চিত্র ব্যাক্তিত্বের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী।

খান আতা ১৯২৮ সালের ১১ ডিসেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৮ সালে এ জে কারদারের ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ ছবিতে আনিস নামে নায়ক হিসেবে প্রথম অভিনয় করেন। একই নামে ১৯৫৯ সালে এহতেশামের ‘এ দেশ তোমার আমার’ ছবিতেও অভিনয় করেন।

তার প্রথম পরিচালিত ছবির নাম ‘অনেক দিনের চেনা’ (১৯৬৩) মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাস্তবতা নিয়ে তৈরি করেন ‘আবার তোরা মানুষ হ’ (১৯৭৩), মুক্তিযুদ্ধের উপর ১৯৯৪ সালে ‘এখনো অনেক রাত’ নামের একটি ছবি তৈরি শুরু করেন। ১৯৯৭ সালে ছবির কাজ শেষ হয়। কিন্তু সেন্সর বোর্ড ছবির ৭টি দৃশ্য কেটে ফেলার নির্দেশ দেয়ায় ক্ষুব্ধ হন তিনি। এটিই ছিল তার শেষ নির্মিত ছবি।

খান আতা পরিচালিত অন্যান্য ছবির মধ্যে রয়েছে- রাজা সন্ন্যাসী, নবাব সিরাজউদ্দৌলা (১৯৬৭), সাত ভাই চম্পা (১৯৬৮), অরুণ বরুণ কিরনমালা (১৯৬৮), জোয়ার ভাটা (১৯৬৯), মনের মত বউ (১৯৬৯), সুজন সখী (১৯৭৫), দিন যায় কথা থাকে, আরশীনগর ও পরশ পাথর। এছাড়া তিনি ‘কবি জসীম উদ্দীনের জীবনী’, ‘গঙ্গা আমার গঙ্গা’ ও ‘গানের পাখি আব্বাস উদ্দিন’ নামে ৩টি তথ্যচিত্রও নির্মাণ করেন।

গীতিকার, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে ১৯৬২ সালে ‘সূর্যস্নান’ ছবিতে কলিম শরাফীর কন্ঠে তিনি উপহার দেন ‘পথে পথে দিলাম ছড়াইয়া রে’। ১৯৬৩ সালে জহির রায়হানের ‘কাঁচের দেয়াল’ ছবিতে ‘শ্যামল বরণ মেয়েটি’ গানটি খুবই জনপ্রিয়তা পায়। ১৯৬৯ সালে জহির রায়হানের ‘জীবন থেকে নেয়া’ ছবিতে তিনি ‘এ খাঁচা ভাঙবো আমি কেমন করে’ শিরোনামের কালজয়ী গানটি লিখেন ও কন্ঠ দেন। ১৯৭০ ও ৮০ এর দশকে উপহার দেন সাবিনা ইয়াসমীনের কন্ঠে ‘এ কি সোনার আলোয়’ ও শহনাজ রহমতুল্লাহের কন্ঠে ‘এক নদী রক্ত পেরিয়ে’র মতো গান।khan ata-row



চলচ্চিত্র, আধুনিক ও দেশাত্মবোধক মিলিয়ে তিনি প্রায় ৫০০ গানের রচিয়তা। গীতিকার ও সংগীত পরিচালক হিসেবে তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হলো- এ দেশ তোমার আমার (১৯৫৯), কখনো আসেনি (১৯৬১), সঙ্গম (১৯৬৪), বাহানা (১৯৬৫), নবাব সিরাজউদ্দৌলা (১৯৬৭), অরুণ বরুণ কিরনমালা (১৯৬৮), সাত ভাই চম্পা (১৯৬৮), জোয়ার ভাটা (১৯৬৯), মনের মত বউ (১৯৬৯), জীবন থেকে নেয়া (১৯৭০), আবার তোরা মানুষ হ (১৯৭৩) ও সুজন সখী (১৯৭৫)। ‘সূর্যস্নান’ ছবির গীতিকার হিসেবে এবং ‘কাঁচের দেয়াল’ ছবির সংগীত পরিচালক হিসেবে পাকিস্তান ফিল্ম ফেস্টিভালে ১৯৬৫ সালে তিনি শ্রেষ্ঠ পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস) পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার পান। মুক্তিযুদ্ধেও তার উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে দেশাত্মবোধক গান লিখেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ করে সাহায্য করেন। এছাড়া তার চলচ্চিত্র ও গানে দেশ ও মানবতার কথা বারে বারে উঠে এসেছে।

এই কিংবদন্তি তিনবার বিয়ে করেন। লন্ডনে থাকাকালীন সময়ে তিনি শার্লি নামক এক ইংরেজ নারীকে বিয়ে করেন। বাংলাদেশে আমিন নামে এক ছেলে হওয়ার পরে তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এরপর তিনি সংগীত শিল্পী মাহবুবা হাসনাতকে বিয়ে করেন। তাদের মেয়ে কন্ঠশিল্পী রুমানা ইসলাম। ১৯৬৮ সালে প্রখ্যাত কন্ঠশিল্পী নিলুফার ইয়াসমিনকে বিয়ে করেন। খান আতা এবং নিলুফারের ছেলে আগুন একাধারে কণ্ঠশিল্পী ও অভিনেতা।

সূত্র: উইকিপিডিয়া ও বাংলা মুভি ডেটাবেজ

/এস/এমএম/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ