জাকিরের আঙুলের নিমন্ত্রণে চতুর্থ দিন (অ্যালবাম)

Send
বিনোদন প্রতিবেদক।।১৪:২৯, ডিসেম্বর ১২, ২০১৫


Ustad Zakir Hussain  3 copyরাত দুইটা। তবুও দু’দণ্ডের অপেক্ষা, শুধুই জাকির হোসেনের জন্য। শাস্ত্রীয় ঘারানার এ মহারথীর দু’হাতের আঙুলের ক্ষিপ্ততা তবলায় দেখতে আর্মি স্টেডিয়ামে হাজির দর্শকরা। তাদের অপেক্ষার টানেই যেন একটু আগে মঞ্চে উঠলেন এ কিংবদন্তি। তারপর শুধু কাব্যিক মন্ত্র, মুগ্ধ  লাখও দর্শক। বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসবের চতুর্থ দিনের শেষের দিকে জাকির হোসেনের পরিবেশনার কথা থাকলেও তিনি রাত দুইটার একটু আগে মঞ্চে আসেন। এরপর বললেন দুই বন্ধুর গল্প, তবলায়। বন্ধুর সঙ্গে করলেন তর্ক-বির্তক, তাও তবলায়। এরপর একে একে লালকেল্লা ও সৈন্য, হরিণ, ডমরুর আওয়াজ, লাহোরী গৎ, ট্রেনের শব্দ, বৃষ্টির ধ্বনি, মেঘের গর্জন, পানির চঞ্চলতার গল্প করলেন; সেটাও তবলায়। ছিল আঙুলে আঙুলে নিমন্ত্রণের গল্পও।

শিল্পীকে সারেঙ্গিতে সঙ্গত করেন সাবির খান। ওস্তাদ জাকির হোসেনের হাতে উৎসব স্মারক তুলে দেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এবং আয়োজক বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের।    

পাঁচ দিনব্যাপী বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসবের চতুর্থ দিনের আয়োজন শুরু হয় সোমবার সন্ধ্যা ৭টায়। প্রথমেই বরেণ্য চিত্রশিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাকে বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়। কালজয়ী এই শিল্পী গত বছর উৎসব চলাকালীন এ মঞ্চেই অকস্মাৎ মৃত্যুবরণ করেছিলেন। বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব ২০১৫ উৎসর্গ করা হয়েছে বিশিষ্ট এই চিত্রশিল্পীকে। বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী বলেন, ‘কাইয়ুম চৌধুরী ছিলেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সুহৃদ ও আপনজন। তার মৃত্যুতে এদেশের চিত্রকলা আন্দোলন এবং সংস্কৃতি ভুবনে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে তা সহজে পূরণ হবার নয়।’ বক্তব্য শেষে কাইয়ুম চৌধুরী স্মরণে ৮ মিনিট দৈর্ঘ্যের প্রামাণ্যচিত্র ‘নিসর্গের আঁকিয়ে’ প্রদর্শন করা হয়।

চতুর্থদিনের প্রথম পরিবেশনা ছিলো গুরু রাজা ও রাধা রেড্ডির কুচিপুডি নৃত্য। তারা গণপতি বন্দনা, শিবাতান্ডব, কৃষ্ণাকালিঙ্গা নর্তনাম এবং নটবর তরণী তরঙ্গম পরিবেশন করেন। রাজা ও রাধা রেড্ডির সহনৃত্যশিল্পী হিসেবে ছিলেন ভাবনা রেড্ডি, কৌশল্য ও ইয়ামিনি রেড্ডি। বাঁশিতে ছিলেন কিরণ কুমার, কর্ণাটকি কন্ঠসংগীতে লাবন্য সুন্দরম এবং মৃদঙ্গমে বান্না ভাস্কর রাও।

 

এরপর চতুর্থ দিনের আয়োজনে আরও পরিবেশন করেন- গণেশ ও কুমারেশ রাজাগোপালন (কর্ণাটক বেহালা), পণ্ডিত শিবকুমার শর্মা (সন্তুর), পণ্ডিত তেজেন্দ্রনারায়ণ মজুমদার (সরোদ), পণ্ডিত উল্লাস কশলকর (খেয়াল)। অনুষ্ঠানের কিছু স্থিরচিত্র দিয়ে সাজানো হলো নিচের অ্যালবামটি-Pandit Shiv Kumar Sharma copy

 

 

 

 

ছবি: বেঙ্গল ফাউন্ডেশন

 

/এম/

 

 

 

লাইভ

টপ