behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

দিতির দীঘল চুল এবং কন্যার স্মৃতিকথা

বিনোদন ডেস্ক১৭:০৯, জানুয়ারি ০৫, ২০১৬

দীঘল কালো চুল এবং দিতিচলচ্চিত্রের বরেণ্য অভিনেত্রী দিতি এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে যাচ্ছেন। ভারতের মাদ্রাজ ইনস্টিটিউট অব অর্থোপেডিকস অ্যান্ড ট্রমাটোলজিতে(এমআইওটি) জীবন-মৃত্যুর সংকটে আছেন। হাসপাতালে তার সঙ্গে আছেন তার মেয়ে লামিয়া ও ছেলে সাফায়েত চৌধুরী। মায়ের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মেয়ের ভাষ্য এমন- ‘বিষয়টি এখন এমন, যা নিয়ে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের আর কিছুই করার নেই।’ লামিয়ার ভাষায় এটি তার মায়ের, ‘অন্তিম মুহূর্ত’।
এ শ্বাসরুদ্ধকর সময়ে মাকে নিয়ে লম্বা স্মৃত্বিচারণ করেছেন তিনি। মঙ্গলবার মধ্যরাতে তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন মাকে নিয়ে মর্মস্পর্শী কিছু স্মৃতিকথা। ইংরেজি থেকে সেটার অনুবাদ তুলে ধরা হলো-

মায়ের মাথাভর্তি দীঘল কালো চুলগুলো যখন ঝরে পড়া শুরু করল (কেমোথেরাপির কারণে), তিনি সেগুলো তার ব্যাগে পরম যত্নে সংগ্রহ করতে শুরু করলেন। তার চেহারায় কোনও ভাবান্তর হতো না। হাসপাতালের সব চিকিৎসকরা চমকে যেতেন। তারা বিভিন্ন সময়ই সাবধান করে বলতেন, এটা খুব স্পর্শকাতর বিষয়।
মা তো একজন অভিনেত্রী। আর যাই হোক, অভিনেত্রীর কাছে বাহ্যিক সৌন্দর্য অনেক কিছু। কিন্তু মা তা পরোয়া করতেন না। বলতেন, এটা শুধুই চুল। কখনও আসবে কখনও যাবে। চিন্তার কিছু নেই।
মা বেশ মজা করে বলতেন, তিনি এই চুলগুলো গুছিয়ে রাখবেন। এগুলো দিয়ে দুটি পরচুলা বানাবেন। একটি তার চুল কমওয়ালা এক বন্ধুর জন্য। অপরটি তার জন্য।
চুলগুলো পড়ে যাওয়ার অনেক আগে তিনি একটি ঘটনা বলেছিলেন, একবার নাকি শ্যুটিং করতে গিয়ে তার চুল ফ্যানে জড়িয়ে গিয়েছিল। তখন পুরো চুল কেটে তাকে উদ্ধার করতে হয়। আরও একবার তার চুল পড়ে গিয়েছিল, কেমিক্যাল বিক্রিয়ার ফলে।
হয়তো মা তার আবেগগুলো মনে চাপা দিয়ে রাখতেন। তিনি এগুলোর জন্য সময় নষ্ট করতে চান না। আমার তো মনে হয়, তিনি একনিষ্ঠ এক সৈনিক; যে সামনের দিকে মনোবল শক্ত করে এগিয়ে যান। এগুলো নিয়ে তার কোনও ভাবান্তর হয় না। তার কোনও অনুযোগও ছিল না। তার পদচ্যুতও হতো না। আবার মা কখনও ভাগ্যকে দোষারোপও করেননি। তিনি নিজের কাছেই কখনও ‘স্যরি’ বলেননি। তার এই দৃঢ়তা আমাকে অবাক করত। আবার উৎসাহীও করত। কখনও চরম বিরক্তও হতাম।
সত্যি বলতে, আমি এ বিষয়গুলো কিছুতেই বুঝতে পারিনি। তিনি যখন মনে মনে কষ্ট পেতেন, আমি রাগ করতাম। আমি আরও রাগান্বিত হতাম, তিনি কখনওই এ বিষয়গুলো বুঝতে চাইতেন না। আসলে তিনি আমার মা, যে সারাটি জীবন এভাবেই পার করেছেন। অপ্রতিরোধ্যভাবে।
তার এই উদ্যম কখনওই মারা যাবে না।
প্রসঙ্গত, সোমবার লামিয়া তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানান, মাদ্রাজের চিকিৎসকরা সব আশা ছেড়ে দিয়েছেন। জীবন-মুত্যর সন্ধিক্ষনে আছেন দিতি। যা জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দিতি: দোয়া চাইলেন লামিয়া-এ শিরোনামে প্রকাশ করেছে বাংলা ট্রিবিউন।দিতি
/এম/এমএম/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ