Vision  ad on bangla Tribune

ক্যারিয়ার-প্রেম-বিয়ে নিয়ে মুখোমুখি মাহি‘আমার প্রযোজিত ছবিতে কুকুরই নায়ক’

সালমান তারেক শাকিল১৫:৪৭, জানুয়ারি ২১, ২০১৬

যে যাই বলুন, ঢাকাই ছবির প্রধান নায়িকা এখন মাহিয়া মহি। অপু বিশ্বাস-নুসরাত ফারিয়াও আছেন একই তালিকায়। তবে এখনও প্রথম সংখ্যাটি অনেক ভোটে ঝুঁকে আছে মাহির দিকেই। সে জন্যই তার পর্দা সফলতা, চরিত্রে বৈচিত্র, প্রেম-বিয়ের গুঞ্জন, টলিউড যাত্রা, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান অথবা প্রযোজকের সঙ্গে মন কষাকষি- সবকিছুতেই মিডিয়া এবং দর্শকদের বাড়তি আগ্রহ। দুই বাংলায় এখন আবার তার নতুন পরিচিতি ছড়িয়েছে ‘ম্যাজিক মামনি’ হিসেবে।  

মাহিয়া মাহি/ ছবি সাজ্জাদ হোসেন১৬ জানুয়ারি দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ পাশে চলছিল ‘ঢাকা অ্যাটাক’ ছবির শ্যুটিং। খুউব মনযোগ পান্ডুলিপি আর ডিরেক্টরের আই কন্ট্যাক্টের দিকে। তার চার পাশে অগুনতি ভক্ত গিজগিজ করছে- সেসবে ভ্রুক্ষেপ করার সুযোগ নেই শ্যুটিং অন্তঃপ্রাণ মাহির! একই স্পটে প্রায় দেড় ঘন্টার অ্যাকশন-কাট পেরিয়ে সময় বের করে দিলেন বাংলা ট্রিবিউনকে। বসলেন পার্কিংয়ে রাখা নিজের ছাই রঙা গাড়িতে। পাশ ফিরে বললেন, ‘সরি- এতক্ষণ লেট করালাম’। দীর্ঘ আলাপে আরও বললেন, নিজের অতীত-বর্তমান-প্রেম-বিয়ে-স্বপ্ন সহ অনেক অজানা কথা।

এটা নিয়ে কি বলব! ভিডিওটি আমার না। এবং শোনার পর আমিও সেটি ডাউনলোড করে দেখেছি। হাহাহা...

মাহিয়া মাহি/ ছবি: সাজ্জাদ হোসেনবাংলা ট্রিবিউন: কেমন আছেন?

মাহিয়া মাহি: ভালো আছি। আলহামদুলিল্লাহ।

ট্রিবিউন: শারমিন আক্তার নিপা থেকে মাহিয়া মাহি হয়ে ওঠার গল্পটা ছোট্টকরে শুনতে চাই।

মাহি: আমি বেসিক্যালি..অরজিনালি ছিলাম শারমিন আক্তার নিপা মাহিয়া। নিক নেম মাহি। কিন্তু এই মাহি’ই যে ব্র্যান্ডনেম হবে, ভাবিনি। সো..বিষয়টি ভাবতে ভালোই লাগে।

ট্রিবিউন: ২০১২ সালে ‘ভালোবাসার রঙ’ দিয়ে শুরু। খুব বেশি সময় নয় কিন্তু। এখন যে অবস্থানে আছেন, নিজের মধ্যে কতটুকু সন্তুষ্টি কাজ করে?

মাহি: নিজে কখনও চিন্তা করিনি। কারণ, আ....আ.. (একটু টেনে বলার চেষ্টা) ২০১২ তেও ছবিটা রিলিজ হওয়ার পরেও খুব সাধারণ লাইফ লিড করতাম। আমি রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলেও তখন কেউ আমাকে চিনতোই না। তাকাতোও না। বাট এখন মানুষ তাকায়, পাশে ভিড় জমায়। বলে ওই যে মাহি। এটা আমার কাছে অনেক বড় প্রাপ্তি।

ট্রিবিউন: ২০১২ সালে প্রথম ছবিটি মুক্তির পর আপনি বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে, ‘আমি সফল হবো তখন, যখন সারা দেশের মানুষ আমাকে এক নামে চিনবে।’ তো, ক্যারিয়ারের এই সময়ে কি সেই সফলতা এসেছে?

মাহি: না, আসেনি। মনে হয় এখনও আমি দেশের ৭০ ভাগ মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারিনি। ফলে আত্মসন্তুষ্টির জায়গায় আমি নেই এখনও।  

[মাহিয়া মাহি ‘ভালোবাসার রঙ’ দিয়ে এসেছিলেন বড় পর্দায়। জাজ মাল্টিমিডিয়ার ব্যানারে দেশের প্রথম ডিজিটাল ফিল্মে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে হাতেখড়ি তার। আবু বকর আর দিলারা ইয়াসমিন দম্পতির এই সন্তানের জন্ম ২৭ অক্টোবর ১৯৯০ সালে রাজশাহীতে। উত্তরা হাই স্কুলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণ করে ২০১২ সালে ঢাকা সিটি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করেন মাহি। শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অফ ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি থেকে ফ্যাশন ডিজাইনিং এর উপর পড়াশুনা করছেন এখনও। ২০১২ সালে ক্যারিয়ার শুরু করে হিট ছবির পাশাপাশি ফ্লপ ছবিতেও নাম যুক্ত হয়েছে তার। আর এই কারণে লুকোচুরি না করে নিজের ভালোলাগা সত্ত্বেও ‘দবির সাহেবের সংসার’ কেন হিট হল না, এ নিয়ে মাহির আফসোস রয়েছে ঢের।]

মাহিয়া মাহিট্রিবিউন: ভালোবাসার রঙ, অন্যরকম ভালোবাসা, পোড়ামন, অগ্নি, দেশা দ্য লিডার এবং অগ্নি-টু । এরপর কিছুদিন আগে ‘কৃষ্ণপক্ষ’ শেষ করেছেন, কোন ছবিটিকে এগিয়ে রাখবেন?

মাহি: আমার কাছে মনে হয়, আমার প্রত্যেকটা কাজই উল্লেখযোগ্য। আবার কোনওটাই উল্লেখযোগ্য না। কারণ হচ্ছে, প্রতিটি ছবি শুরুর পরই কোনও কিছু বুঝে ওঠার আগে চোখের পলকে শেষ হয়ে যায়। এ নিয়ে এফোর্ট থাকে না। কিন্তু ‘অগ্নি-টু’ তে বুঝেশুনে কাজ করেছি। প্রত্যেকটা দৃশ্য চিন্তা করে-করে অভিনয় করার সুযোগ পেয়েছি। সত্যি বলতে- ঝড়ে বক মরার মতো অবস্থা। শ্যুটিং করেছি, মুক্তি পেয়েছে, হিট হয়েছে, বাহবাহ পেয়েছি- ব্যাস।

[নিজের পছন্দের ছবি/চরিত্র বাছাই অথবা অভিনয়ের জন্য যথেষ্ট সময় কিংবা টিম সাপোর্ট নিয়ে আক্ষেপ আছে মাহির। তবে এটা সত্যি, খুব অল্প সময়ে নানামাত্রিক চরিত্রে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। ‘ভালোবাসার রঙ’য়ে শহুরে তরুণী, ‘পোড়ামন’-এ পাহাড়ী বালিকা, ‘অগ্নি’ ও ‘অগ্নি-টু’তে অ্যাকশান লেডি। ‘দেশা দ্য লিডার’ এবং চলমান ‘ঢাকা অ্যাটাক’ ছবিতে সাংবাদিক চরিত্রে অভিনয় করছেন। ‘কৃষ্ণপক্ষ’তেও তার চরিত্রটি একেবারে আলাদা।]  

ট্রিবিউন: অল্প সময়ে ঢাকাই ছবির সফল ভার্সেটাইল অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। কিন্তু আপনার পছন্দ কিংবা আগ্রহের দিক কোনটি? রোমান্টিক নাকি অ্যাকশন?

মাহি: দুটোর একটাও নয়। অ্যাকশান ফিল্ম করতে খুব কষ্ট। কিন্তু পর্দায় দেখতে খুব ভালো লাগে নিজেকে- যে আমি মারপিট করছি। শুধু রোমান্টিক, শুধু তুমি-আমি টাইপ ছবিও আমার ভালো লাগে না। সত্যি বলতে আমি আসলে রোমান্টিক-কমেডি চরিত্রে বেশি আরাম বোধ করি। বিশেষকরে কমেডি করতে খুব ভালো লাগে। যেটা ‘দবির সাহেবের সংসারে’ করেছি। আফসোস, কেন জানি ছবিটি মানুষ তেমন একটা পছন্দ করেনি। কিন্তু ওটাই আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে পছন্দের চরিত্র এবং ছবি।

ট্রিবিউন: অনেক পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছেন। প্রিয় তিনজন?

মাহি: ক্যারিয়ার শুরু হয়েছে শাহীন সুমন স্যারের হাত ধরে।  সবার প্রথমে অবশ্যই তাকে রাখবো এবং তারপরে হচ্ছে জাকির হোসেন রাজু স্যার। ‘পোড়ামন’ খুব বেশি পছন্দ করেছে মানুষ। আমাকে মনে হয় এ ছবিটি দিয়েই বেশি মানুষ চিনেন। এবং তারপরে হচ্ছেন ইফতেখার চৌধুরী।

মাহিয়া মাহিট্রিবিউন: ‘কৃষ্ণপক্ষ’ পরিচালক মেহের আফরোজ শাওন বলেছেন, আপনার চেহারা নাকি পুতুল-পুতুল। হাসিখুশি, চনমনে টাইপের চেহারাই তার ছবিতে প্রযোজ্য ছিল। এ কারণেই নাকি আপনাকে তার ছবিতে নিয়েছেন?
মাহি: তার যে কেন আমাকে পছন্দ হয়েছে, সেটা আমি জানি না। কিন্তু আমার মনে হয় হুমায়ূন আহমেদ স্যার এই ছবির ডিরেক্টর থাকলে নিশ্চয় আমি রিজেক্ট হয়ে যেতাম!
ট্রিবিউন: হুমায়ূন আহমেদের কোনও গল্প-উপন্যাস পড়েছেন?
মাহি: হিমু পড়েছি...
ট্রিবিউন: সর্বশেষ ছবি দেখেছেন কোনটি?
মাহি: নুসরাত ফারিয়ার ‘আশিকী’।
ট্রিবিউন: সর্বশেষ বই পড়েছেন কবে?
মাহি: সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারবো না। শ্যুটিংয়ের চাপে অনেক দিন পড়া হয় না। তবে একটা উপন্যাস শুরু করেছিলাম, হুমায়ূন আহমেদের...
ট্রিবিউন: অভিনয় করে বাসায় ফিরে রাগারাগি করেন?
মাহি: আমার প্রচন্ড রাগ। মানে আমি ...কেন জানি রাগ করলে প্রচুর চিৎকার-চেঁচামেচি করি। আগে ভাংচুর করতাম, এখন করি না! এখন ভাঙতে গেলেও মনে হয়, না না এটা ভাঙা যাবে না। পরে আফসোস হবে। তবে প্রচন্ড রাগ হলে দেওয়ালে ঘুষি মারি। অসংখ্যবার এমন হয়েছে।
ট্রিবিউন: ব্যাক্তিগত জীবনে রাগারাগি করেন, প্রফেশনাল জীবনে তো উল্টো চিত্র দেখি। নুসরাত ফারিয়াকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ‘অঙ্গার’ ছবিটির জন্য...
মাহি: আমি আসলে.. সবারই এমন করা উচিৎ। এমন ইতিবাচক মনোভঙ্গি থাকা প্রয়োজন। কারণ, ইন্ড্রাস্ট্রিতে শুধু আমিই একলা হিরোইন না। এখন আমি যদি বার বার ছবি নিয়ে দর্শকের সামনে উপস্থিত হই, তাহলে এমন একটা সময় আসবে, তখন মানুষ বিরক্ত হয়ে যাবে আমাকে দেখতে দেখতে। এ কারণে আমার মনে হয় অনেকগুলো হিরোইন একসঙ্গে কাজ করবে। একটা বিগ মার্কেট থাকবে। যেখানে অনেক হিরো-হিরোইন পাশাপাশি কাজ করবে। সবার ছবি থাকবে। এবং অনেক দিন পর পর আমাদের একটা করে ছবি আসবে। তখন মানুষের ভালোলাগাটা অনেকদিন থাকবে।
ট্রিবিউন: মাহির আবিস্কারক জাজ মাল্টিমিডিয়া বিষয়ে জানতে চাই। এ প্রতিষ্ঠানের প্রতি আপনার কৃতজ্ঞতাবোধ এখনও অসীম। মাঝখানে তো অনেক উত্থান পতন ছিল..এখন জাজের সঙ্গে সম্পর্ক কোন পর্যায়ে?
মাহি: ভালো..ভালো। এখন কবে থেকে আবার কাজ শুরু করব, সেটা আসলে দেখার বিষয়। কারণ আমারও অনেক ছবি শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী বছর হতে পারে। তবে ঠিক জানি না।
সাক্ষাৎকার নেওয়ার এক ফাঁকে বাংলা ট্রিবিউন প্রতিবেদকের সঙ্গে মাহিট্রিবিউন: তাহলে কি বলায় যায়, জাজের সঙ্গে আপনার শীতলতা এখন উষ্ণতায় পরিণত হয়েছে?
মাহি: আমাদের আসলে কখনও ঝগড়া লাগেনি। কিন্তু জিনিসটা হতে পারে, যে আমার কোনও কিছুর উপর হয়তো তাদের রাগ ছিল বা অভিমান ছিল। যার কারণে তারা এরকম করেছে। বা ..যাই হোক....আমি সবকিছু আসলে পজেটিভলি নিই। আমার অনেক ভুল থাকবে, অনেক ত্রুটি থাকবে; সো তারা আমাকে শাসন করতে পারে। তার মানে এটা নয় যে, আর কখনোওই তাদের সঙ্গে কাজ করা হবে না। অবশ্যই ফিরব। তারা যখনই অফার করবে তখনই আমি ফিরব। তারা আমার অভিভাবক। এর আগেও যখন আমি ছবির বিষয়ে কাজ করেছি...ওই সময় গল্পটা কার, কে হিরো, কাজটা করা ঠিক হবে কী না, এগুলো নিয়ে চিন্তা করতাম না। জাজ প্রজেক্ট করত, আমি কাজ করতাম। সেইম সারা জীবনই হবে, যদি তারা আমাকে চায়।
ট্রিবিউন: স্ক্যান্ডাল তো একজন তারকার জীবনে অনেকটাই স্বাভাবিক বিষয়। এ বিষয়ে আপনার অবস্থান কী।
মাহি: হুম... স্ক্যান্ডাল আমার ভালোই লাগে। কারণ... মাঝে মাঝে একটু পরীক্ষা হয় আমাকে নিয়ে মানুষ কতটুকু আগ্রহী। দেখা যাচ্ছে, একটা নেগিটিভ নিউজ মানুষ এত পড়ছে বা এত বেশি দেখছে আমার পেছনে এত সময় দিচ্ছে। আমার ভালোই লাগে। আর মিডিয়া আমাকে যে সাপোর্ট দিয়েছে, সেটা উল্লেখযোগ্য। কারণ মিডিয়া যদি আমাকে জায়গা না দিত, আমাকে নিয়ে পজেটিভ না লিখত- তবে এ পজিশনে আসতে পারতাম না। এ কারণে তাদের অবশ্যই অধিকার আছে আমাকে নিয়ে নেগিটিভ নিউজ করার। [মুখে লম্বা হাসি, চোখে-মুখে আনন্দ ধরে রাখার চেষ্টা করে বলেন] অ্যাপ্রিশিয়েট মাই স্ক্যান্ডাল নিউজ।ম্যাজিক মামনি রূপে মাহিট্রিবিউন: সম্প্রতি ফেসবুকে নিজের ওয়ালে বন্ধুর ছবি এবং মিডিয়ায় বিয়ের গুঞ্জন। আসলে কী?

মাহি: [উত্তরে মাহী গাড়ির সামনের দিকের কাঁচ দিয়ে বাইরে তাকান। মুখে লাজুক হাসি লাগিয়ে শব্দকরে উত্তর দেন] বিয়ে নিয়ে আমার ফ্যাসিনেশন আছে। বিয়ে নিয়ে আমি খুব....। আমি যখন সিরিয়াসলি প্রেম করব; যে আমি একেই বিয়ে করব, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছুব, তখন থেকেই মিডিয়াকে জানাবো;  যে.. প্রেম  করছি, ওকেই বিয়ে করব।

ট্রিবিউন: প্রেমে কয়বার পড়েছেন?

মাহি: আমার মনেই নেই আসলে কয়বার পড়েছি। ছোটবেলা থেকে আমি অনেক অনেক প্রেম করেছি!

ট্রিবিউন: সংখ্যায় অর্ধশতাধিক পেরিয়েছে?

মাহি: আরও বেশিও হতে পারে! আমি আসলে স্কুলে যাওয়ার সময়  দেখা যেত বাসার আশেপাশে অনেক বা স্কুলে যাওয়ার পথে কিছু ছেলে দাঁড়িয়ে থাকতো.. এত বেশি ছেলে থাকতো, যে আমি ডানে বামে তাকিয়ে চোখে-চোখেও প্রেম করেছি অনেক। যা গুনেও রাখিনি। হবে অনেকগুলা।

মাহির পছন্দের ছবি ‘দবির সাহেবের সংসার’ট্রিবিউন: ২০১৫ সালের ত্রিশ জানুয়ারি অভিনয় ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন ফেসবুকে। পরে বলেছিলেন, আপনার ইমোশন বেশি। সেই ঘোষণা ইমোশন থেকে। তো ইমোশনালি ব্ল্যাকমেল কখনও হয়েছেন কি না? বা ইমোশনালি ব্ল্যাকমেল কাউকে করেছেন কি না?

মাহি: হ্যাঁ, মানুষকে আমি ইমোশনাল ব্ল্যাকমেল করি। বাট এটা একেবারেই নিজের কাছে, আপনজনদের, বন্ধুদের। মানে পছন্দের মানুষগুলোর ক্ষেত্রে। আব্বু-আম্মু, বন্ধু-বান্ধব এবং যাদের সঙ্গে প্রেমট্রেম করেছি তাদের বেলায় এমনটা ঘটেছে।

ট্রিবিউন: নতুন নায়িকাদের কেউ কেউ অভিযোগ করেন, শারীরিক সম্পর্কের বিনিময়ে অভিনয় করতে হবে- এমনটি কেউ কেউ শর্ত দিয়ে থাকেন? আপনার ক্ষেত্রে এমন কোনও অভিজ্ঞতা?

মাহি: না। সবাই আমাকে বলে, আমি নাকি সোনার চামচ মুখে নিয়ে ফিল্মে এসেছি। এটা আমিও বিশ্বাস করি। কারণ, আমি তো জাজের হাত ধরে এসেছি। সো এগুলো কখনও আমাকে ফেস করতে হয়নি। জাজের খুব আদরে-আদরে কাজ করে করে এ পর্যন্ত চলে এসেছি। এখন তো এসবের প্রশ্নই ওঠে না।

ট্রিবিউন: নায়ক সহকর্মী হিসেবে কাকে এগিয়ে রাখবেন?

মাহি: প্রথম সহকর্মী বাপ্পীকে। যার সঙ্গে এখন কোনও ছবি নেই আমার।

মাহি, কমার্শিয়াল এক্সপ্রেশনে...ট্রিবিউন: কলকাতার অঙ্কুশ আর ওম। কাকে এগিয়ে রাখবেন?
মাহি: ওম-কে।
ট্রিবিউন: আপনি নায়িকা হওয়ার আগে স্টেজ পারফর্ম করতেন, একটি ভিডিও দেখিয়ে অনেকেই তা প্রমাণের চেষ্টা করেন...
মাহি: এটা ছিল আমার মামাতো ভাইয়ের গায়ে হলুদের স্টেজ। ওই দিন গায়ে হলুদে, স্বভাবতই আমাদের পরিবার, আত্মীয়-স্বজনরা ছিলেন। যেহেতু আমি অলরেডি হিরোইন সেহেতু আমার নাচের সময় অনেকেই আগ্রহ নিয়ে ভিডিও করেছিলো। ওটা কমার্শিয়ালি কোনও নাচ ছিল না। আপন মামাতো ভাইয়ের বিয়ে ছিল। মজা করার জন্যেই নেচেছিলাম।
ট্রিবিউন: নিজের প্রযোজনার সর্বশেষ খবর?
মাহি: ‘মায়ার বাঁধন’। এটা মার্চে শুরু করার ইচ্ছা আছে। যেহেতু কুকুর নিয়ে ছবি। চেন্নাইতে কুকুর নিয়ে ঝামেলা হচ্ছে। কি জানি। ডিজিস এসেছে বোধহয়। কুকুর সব মরে যাচ্ছে। তো আপাতত আমি একটু চিন্তায় আছি। এখন পর্যন্ত কনফার্ম আছি যে মার্চে শ্যুটিং শুরু করব।
ট্রিবিউন: ছবিতে নায়ক কে থাকছেন?
মাহি: ছবিতে তো মানুষ হিরো নেই! আমার প্রযোজিত প্রথম ছবিতে কুকুরই নায়ক।
ট্রিবিউন: দেবের সঙ্গে অভিনয়ের বিষয়টি?
মাহি: সিনেমা করার জন্য আমরা অনেক সময় অনেক প্রজেক্ট নিয়ে গল্প করি। অনেক ডিরেক্টরের সঙ্গে সিটিং হয়। সেটা হিরোর সঙ্গেও হতে পারে। তার মানে এটা নয় যে, তার সঙ্গে মুভি করে ফেলেছি। কনফার্ম হলে খুশি। কিন্তু যেহেতু আমি বলিনি.. সেহেতু কনফার্ম না।
ট্রিবিউন: সব রঙেই আপনি উজ্জ্বল। আপনার প্রিয় রঙ কি?
মাহি: ব্ল্যাক এবং রেড। বাসন্তি কালারের শাড়ি।
ট্রিবিউন: ‘দেশা দ্য লিডারে’র গানে আপনার মেকআপ সমস্যা দর্শকদের চোখে পড়েছে...
মাহি: অবশ্যই এফডিসির মেকআপ রুম এবং পরিবেশ উন্নত করা উচিত। মেকআপ রুমের ওয়াশরুম ভালো নাই, পানি নাই, এই নাই ওই নাই। তো...জাস্ট আমার খুব লজ্জা লাগে। এত বড় একটা মেকআপ রুম, এফডিসির মতো তো অন্য কোথাও নেই। তো..আমাদের গর্ব করা উচিত। কিন্তু যখনই মানুষ আসে, তখন মেকআপ রুমে যে মানুষ বসবে, রুচির ব্যাপার হয়ে যায়। লজ্জার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
মাহিয়া মাহিট্রিবিউন: আপনার পরিচয়ে প্রকাশিত স্ক্যান্ডাল ভিডিওর ব্যাপারটি...
মাহি: এটা নিয়ে কি বলব। ভিডিওটি আমার না। এবং শোনার পর আমিও ভিডিওটি ডাউনলোড করে দেখেছি। হাহাহাহা...

আর প্রশ্ন করা গেল না। ‘ঢাকা অ্যটাক’ পরিচালক দীপঙ্কর দীপনের ডাক পড়েছে। দৃশ্যের প্রয়োজনে নিজের গাড়ি থেকে নেমে পুলিশ ভ্যানে নিজের পজিশন নিলেন সংবাদিক মাহি। ...মুখে রাজ্যের মেঘ, উদাসী চোখ। এটা দৃশ্যের প্রযোজনে নাকি শেষ প্রশ্নের আবহ- টের পাওয়া মুশকিল। শ্যুটিং ইউনিটের বরাদ্দ দুপুরের খাবার পড়ে থাকলো গাড়ির ব্যাকসিটেই। ততক্ষণে সিনেমার নায়ক দুপুরের খাবার সেরে আরামসে কয়েকজন সংবাদকর্মীর সঙ্গে আড্ডায় মাতলেন। আরিফিন শুভ জানলেনও না, তার নায়িকা দুপুরের খাবারও খাননি!

/এমএম/

লাইভ

টপ