behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

৭৫-এ পা নায়করাজের‘কিন্তু কোথায় যেন একটা শূন্যতা...’

মাহমুদ মানজুর০০:০১, জানুয়ারি ২৩, ২০১৬

এইতো কিছুদিন আগেও তাঁকে নিয়ে দারুণ দুশ্চিন্তায় পড়েছিল পুরো বাংলাদেশ। আর মিডিয়ার তো চোখের পাতাই নামছিলো না। কারণ একটাই- যে দেশের নায়করাজ অসুস্থ হন, সে দেশের প্রজারা সুস্থির থাকেন কি করে! মেঘ কেটে গেছে অল্প বিরতিতেই। এখন সুস্থ তিনি। বেশ ফুরফুরে মেজাজে কাটছে এ রাজার সাম্প্রতিক। তাইতো ক্যামেরায় কখনও ধরা পড়ছেন নাটকের ইউনিটে ঝাড়মুড়ি বিক্রেতার চরিত্রে আবার কখনও পারিবারিক পিকনিকে তিনি পুকুর ঘাটে বসে বনে যাচ্ছেন মৎস্য শিকারি হিসেবে।

নায়করাজ রাজ্জাক/ ছবি: সাজ্জাদ হোসেনশতভাগ সফল, বৈচিত্রময় এবং বর্ণাঢ্য জীবন পেরিয়ে আজ (শনিবার) এ চিরনায়ক চিত্রনায়ক নায়করাজ রাজ্জাকের পা পড়ছে ৭৫-এ। তাইতো এবারের জন্মদিনটা একটু বেশি বর্ণীল। তাঁর জন্মদিন উপলক্ষ্যে এরইমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে বাপ্পা মজুমদারের সুর-সংগীতে বিশেষ গান। চ্যানেল আই সহ দেশের প্রায় সব রেডিও-টিভিতেই দিনব্যাপি চলবে বিশেষ অনুষ্ঠান। এছাড়া পারিবারিক আয়োজন তো থাকছেই।

জন্মদিনকে ঘিরে নায়করাজ রাজ্জাকের বক্তব্য এমন, ‘সবমিলিয়ে আল্লাহর রহমতে এই মুহূর্তে শারীরিকভাবে বেশ ভাল আছি, আলহামদুলিল্লাহ। সবাই দোয়া করবেন যেন সবসময় সুস্থ থাকতে পারি, ভাল থাকতে পারি। জন্মদিনে আমার ভক্ত দর্শক, সহকর্মী সর্বোপরি চলচ্চিত্র পরিবারের সবার কাছে আমি দোয়া চাই। সবাই ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।’

নায়করাজ যখন মৎস্য শিকারিএদিকে ৭৫-এ পা রাখা প্রসঙ্গে নায়করাজ খানিক উদাসী কিংবা স্মৃতিকাতর। তাঁর ভাষায়, ‘দেখতে দেখতে জীবনের ৭৪টি বছর কেটে গেল। ৭৫-এ পা দিলাম। ছেলে-ছেলের বউ, মেয়ে-মেয়ের জামাই, নাতি-নাতনি, আমার সহধর্মিণী, সবই আছে আমার পাশে। কোনও কিছুরই অভাব নেই। কিন্তু সবকিছুর মাঝেও কোথায় যেন এক শূন্যতা অনুভব করি মাঝে মাঝে। আজ ভীষণ মনে পড়ছে বাবা-মা, ভাই-বোনদের কথা। আল্লাহ আমাকে যা দিয়েছেন ছোট্ট এই জীবনে আমি তাতেই সন্তুষ্ট। এক জীবনে সব মানুষ কি এত যশ প্রতিপত্তি পায়? পায় না। কিন্তু আমি পেয়েছি। আমি আমার চলচ্চিত্র জীবনের প্রতিটি কাজের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকটি মানুষকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। যে যেখানেই থাকুক না কেন ভালো থাকুক, সুস্থ থাকুক। সেইসঙ্গে আমি সবার কাছে দোয়া চাই যেন ভালো থাকি সুস্থ থাকি।’

নায়করাজ মগ্ন ময়না পাখিতেআসল নাম আব্দুর রাজ্জাক। ১৯৩২ সালের এ দিনে (২৩ জানুয়ারি)  কলকাতার টালিগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। কলকাতার খানপুর হাইস্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে পড়ার সময় স্বরসতী পূজা চলাকালীন সময়ে মঞ্চ নাটকে অভিনয়ের জন্য গেম টিচার রবীন্দ্রনাথ চক্রবর্তী তাঁকে বেছে নেন নাটকের নায়ক অর্থাৎ কেন্দ্রীয় চরিত্রে। শিশু-কিশোরদের নিয়ে লেখা নাটক ‘বিদ্রোহী’তে গ্রামীণ কিশোর চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়েই নায়করাজের অভিনয়ে সম্পৃক্ততা। তিনি ১৯৬৪ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) পাড়ি জমান। প্রথমদিকে রাজ্জাক তৎকালীন পাকিস্তান টেলিভিশনে ‘ঘরোয়া’ নামের ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করে দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হন। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তিনি আব্দুল জব্বার খানের সঙ্গে সহকারি পরিচালক হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান। সালাউদ্দিন প্রোডাকশন্সের ‘তেরো নাম্বার ফেকু অস্তাগড় লেন’ ছবিতে ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করে সবার কাছে নিজ মেধার পরিচয় দেন রাজ্জাক।

নায়করাজের পরিবারনায়ক হিসেবে চলচ্চিত্রে নায়করাজের যাত্রা জহির রায়হানের ‘বেহুলা’ ছবি দিয়ে। এতে তার বিপরীতে ছিলেন কোহিনূর আক্তার সুচন্দা। প্রযোজক হিসেবে নায়করাজের যাত্রা শুরু ‘রংবাজ’ ছবিটি প্রযোজনার মধ্য দিয়ে। এটি পরিচালনা করেছিলেন জহিরুল হক। রাজ্জাকের বিপরীতে ছিলেন কবরী। ববিতার সঙ্গে জুটি বেঁধে নায়করাজ প্রথম নির্দেশনায় আসেন ‘অনন্ত প্রেম’ চলচ্চিত্র দিয়ে। এই ছবিটি বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে আছে। নায়ক হিসেবে এ অভিনেতার সর্বশেষ চলচ্চিত্র ছিলো শফিকুর রহমান পরিচালিত ‘মালামতি’। এতে তার বিপরীতে ছিলেন নূতন।

সাম্প্রতিক নায়করাজ রাজ্জাকঅন্যদিকে নায়করাজ সর্বশেষ ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত ‘আয়না কাহিনী’ চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছিলেন। এই চলচ্চিত্রে জুটি হিসেবে অভিনয় করেছিলেন সম্রাট ও কেয়া। এরপর আর নতুন কোনও চলচ্চিত্র নির্মাণে তাকে দেখা যায়নি।

কিংবদন্তি এ শিল্পীর জন্মদিনে বাংলা ট্রিবিউন পরিবারের পক্ষ থেকে অনেক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

কিন্তু কোথায় যেন এক শূণ্যতা.../ ছবি: সাজ্জাদ হোসেন/এমএম/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ