behind the news
Vision  ad on bangla Tribune

চলছে তিন দিনের কর্মশালাজহির রায়হান: অন্তর্ধানের ৪৪ বছর

মাহমুদ মানজুর০০:০২, জানুয়ারি ৩০, ২০১৬

আজ শনিবার খ্যাতিমান চলচ্চিত্রকার ও ঔপন্যাসিক  জহির রায়হানের ৪৪তম অন্তর্ধান (নিখোঁজ) দিবস। ১৯৭২ সালের এই দিনে (৩০ জানুয়ারি) মাত্র ৩৬ বছর বয়সে শহীদ বুদ্ধিজীবী শহীদুল্লাহ কায়সারের মৃতদেহ মিরপুরের বধ্যভূমিতে খুঁজতে গিয়ে আর ঘরে ফেরা হয়নি তার।

জহির রায়হান১৯৩৫ সালে ফেনীতে জন্মগ্রহণ করেন ক্ষণজন্মা এ মানুষটি। তিনি তার ঘটনাবহুল জীবনে বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় উপন্যাস লিখে পাঠকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন। তার রচিত উপন্যাসগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ‘হাজার বছর ধরে’, ‘আর কয়টা দিন’, ‘কয়েকটি মৃত্যু’, ‘তৃষ্ণা’, ‘সূর্যগ্রহণ’, ‘আরেক ফালগুন’, ‘বরফ গলা নদী’ প্রভৃতি। এসব উপন্যাস তাকে ঔপন্যাসিক হিসেবে পাঠকপ্রিয়তা এনে দিয়েছে।

এরমধ্যে তিনি বেশ কিছু চলচ্চিত্র নির্মাণ করেও বেশ আলোচনায় আসেন। যে চলচ্চিত্রগুলো তাকে অমর করে রেখেছে আজও। ১৯৬১ সালে তিনি পরিচালনায় আসেন ‘কখনো আসেনি’ চলচ্চিত্রটির মধ্য দিয়ে। তারপর একে একে উপহার দেন ‘কাঁচের দেয়াল’ (১৯৬৩), ‘সংগ্রাম’, ‘বাহানা’ (১৯৬৫), ‘বেহুলা’ (১৯৬৬), ‘আনোয়ারা’ (১৯৬৬), ‘দুই ভাই’ (১৯৬৮), ‘জীবন থেকে নেয়া’ (১৯৬৯), ‘লেট দেয়ার বি লাইট’ (১৯৭০) প্রভৃতি। এসব ছবি বাংলা চলচ্চিত্রের মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত এখনও।

জহির রায়হানের ‘জীবন থেকে নেয়া’ ছবির পোস্টারএছাড়া ১৯৬২ সালে কলিম শরাফীর সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালনা করেছিলেন ‘সোনার কাজল’ ছবিটি। সেই সময়ে বাংলা চলচ্চিত্রকে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বলিষ্ঠ হাতে। ঔপন্যাসিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে যেমন স্মরণীয় ঠিক তেমনি তার নির্মিত প্রামাণ্য চলচ্চিত্রগুলো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অমূল্য দলিল স্বরূপ বিবেচনা করা হয়। তার নির্মিত প্রামাণ্য চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘স্টপ জেনোসাইড’, ‘বার্থ অব এ নেশন’ ও ‘ইনোসেন্ট মিলিয়নস’।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে বিখ্যাত আমতলার বৈঠক, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ
নিয়েছিলেন তিনি। এ সময় তিনি তার ক্যামেরায় পাকিস্তানি হানাদার ও রাজাকার, আলবদর, আল-শামসের নৃশংসতার চিত্র ধারণ করে আনেন, যা দিয়ে পরে প্রামাণ্যচিত্রগুলো তৈরি করেন। ইতিহাসের এ স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব প্রথম জীবন শুরু করেছিলেন সাংবাদিক হিসেবে ১৯৫০ সালে ‘যুগের আলো’ পত্রিকায়। ১৯৫৬ সালে দৈনিক প্রবাহ’র সম্পাদক ছিলেন তিনি। সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য আদমজী সাহিত্য পুরস্কার ও বাংলা একাডেমি পুরস্কার অর্জন করেন এই গুণী ব্যক্তিত্ব।

জহির রায়হানজহির রায়হান স্মরণে কর্মশালা

‘জহির রায়হান ও তার চলচ্চিত্র’ বিষয়ক তিন দিনের কর্মশালার আয়োজন করেছে ম্যুভিয়ানা ফিল্ম সোসাইটি। যে কর্মশালায় উঠে আসবে মুক্তিযোদ্ধা, চলচ্চিত্রকার ও সাহিত্যিক জহির রায়হানের যত নান্দনিকতা। প্রশংসিত এ আয়োজনে সহযোগিতা করছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। কর্মশালায় তিন দিনে তিনটি শিরোনামে ৫ জন চলচ্চিত্রকার, গবেষক ও লেখক জহির রায়হানের নির্মিত চলচ্চিত্র, সাহিত্য ও তার জীবন নিয়ে বিশ্লেষণ থাকছে বিস্তর।

এরমধ্যে প্রথম দিন গতকাল (২৯ জানুয়ারি) ‘জহির রায়হানের চলচ্চিত্র: আত্মপরিচিতির রাজনীতি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে কথা বলেন গবেষক ও শিক্ষক অধ্যাপক ড. জাকির হোসেন রাজু। দ্বিতীয় দিন আজ (৩০ জানুয়ারি) ‘জহির রায়হান: চলচ্চিত্র, বুদ্ধিজীবিতা ও জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম’ বিষয়ে আলোচনা করবেন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও লেখক রাঈদ আজিজ। তৃতীয় দিনে (৩১ জানুয়ারি) ‘জহির রায়হান: যেমন দেখেছি, যেমন পেয়েছি’ শিরোনামে আলোচনা করবেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, চলচ্চিত্রকার সি বি জামান এবং চলচ্চিত্র গবেষক ও লেখক অনুপম হায়াৎ। কর্মশালা পরিকল্পক ও সমন্বয়কের দায়িত্বে আছেন বেলায়াত হোসেন মামুন।

/এমএম/

Global Brand  ad on Bangla Tribune

লাইভ

টপ