মিজ আয়ারল্যান্ড ও আর্থপ্রিয়তির কাছে কিছু প্রশ্ন

Send

প্রকাশিত : ০৬:০১, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৩৮, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৬

প্রথমেই অবাক হতে হয়েছে। ২২ ঘণ্টা বিমানভ্রমণের ক্লান্তি ছিল, অথচ প্রথমদিনেই দুটি হাসপাতালে গিয়েছেন মিজ আর্থ ও আয়ারল্যান্ডখ্যাত বাংলাদেশের মেয়ে মাকসুদা আখতার প্রিয়তি। এরপর আরও এক ঘণ্টা সময় বের করেছেন কথা বলার জন্য। সঘন নিঃশ্বাসেই বলে চলেছেন নিজেকে আর বাংলাদেশকে নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা। মঙ্গলবার ঢাকায় নামার পর প্রিয়তি ঠিক যেন আটপৌরে ধাঁচে কথা বলেছেন বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ওয়ালিউল মুক্তা-প্রিয়তি, ছবি সাজ্জাদ হোসেন (1)
বাংলা ট্রিবিউন:
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে দেশকে নিয়ে অনেক কথাই বলেছেন। দেশে নেমে এবার কোন বিষয়টি ভালো লেগেছে?

প্রিয়তি: বিমানবন্দরে (হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর) নামার পর আরও চার ঘণ্টা আমাকে বসে থাকতে হয়েছিল। তখনই পরিকল্পনা করি, দ্রুত কিছু কাজ এগিয়ে নিতে হবে। সে অনুযায়ী দুপুরে (মঙ্গলবার) গিয়েছিলাম ইউনাইটেড হাসপাতালে অভিনেত্রী দিতিকে দেখতে। এরপর দুর্ঘটনায় আহত শিশুশ্রমিক মোহাম্মদ জিহাদকে দেখতে ঢাকা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে যাই। মজার বিষয় হচ্ছে, এবার আমি তেমন কোনও যানজট পাইনি। হয়তো আমি ভাগ্যবান। দ্রুত সময়ে কাজ দুটো করতে পেরেছি বলে ভালো লাগছে।

ট্রিবিউন: অনেকেই হয়তো কথার কথা বলে। কিন্তু কাজের সময়ে পাশে দাঁড়ায় না। জিহাদের বেলায়ও তো তেমন ঘটতে পারত?

প্রিয়তি: আমি আসলে পাশে দাঁড়ানোর জন্যই জিহাদকে নিয়ে ফেসবুকে শেয়ার দিয়েছিলাম। আর একটা বিষয়, আমি দেখেছি, অনেক ছোটখাটো বিষয় ফেসবুকে ভালো শেয়ার হয়। কিন্তু সিরিয়াস বিষয় যেটিতে সবাই থাকা দরকার সেটাতে শেয়ার নেই! আসলে অনেকে দায়িত্ব নিতে চায় না। এ কথাটা সচেতনতামূলক কাজের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।প্রিয়তি, ছবি সাজ্জাদ হোসেন (3)



ট্রিবিউন: কর্মস্থলে বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য সেখানে মায়েদের আলাদা জায়গার বিষয়েও কথা বলেছেন আপনি।

প্রিয়তি: এটা খুব দরকার। কর্মজীবী মায়েদের জন্য ‍উন্নত দেশের প্রতিটি অফিসে একটি জায়গা বরাদ্দ থাকে। যা আমাদের দেশে নেই বললেই চলে। এটা আসলে খুব দরকার। নইলে নারী-পুরুষ সমানতালে এগিয়ে যেতে পারবে না। আর এটা মানবিক দাবিও।

ট্রিবিউন: এদেশে প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বড় অংশ সরকারি। তাই সরকার উদ্যোগ নিলে তো বিষয়টি আরও দ্রুত হবে। সরকারকে আহ্বান জানাতে পারেন।প্রিয়তি, ছবি সাজ্জাদ হোসেন (4
প্রিয়তি:
এটার জন্য তো বসে থাকা যায় না। এখন অনেক ভালো কাজ হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে। আমি আমার প্রিয়তি নামটি ব্যবহার করতে চাই। এত সব পুরস্কার কাজে লাগাতে চাই, এদেশের মানুষরে জন্য। সরকার নিজ থেকে করলে অবশ্যই সেটা ভালো। তবে আমাদের সচেতন ও সামাজিক মূলবোধ তৈরি করাটা জরুরি।   

ট্রিবিউন: মিজ আর্থ প্রতিযোগিতায় একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। আপনি অনুষ্ঠান ছেড়ে চলে এসেছিলেন। কেন?

প্রিয়তি: এ প্রতিযোগিতায় শুধু মঞ্চে দাঁড়ালেই হয় না। অনেক ধরনের কাজে অংশ নিতে হয়। সে অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিল পৃথিবীর বিভিন্ন দেশসেরা সুন্দরীরা। আমাদের সূচি এমনভাবে সাজানো হয়েছিল যে, ঘুমানোর সময় খুবই কম পেতাম আমরা। কাজ করতে হবে আবার এরমধ্যেই নিজের হাসি, সৌন্দর্য্য ধরে রাখতে হবে। আবার আাগের দিন সমুদ্রে আমাদের সাঁতার কাটতে হয়েছে। আমার কিন্তু পানি ফোবিয়া আছে। পানিতে ভয় পাই। সেদিন আমি পিঠে মারাত্বক আঘাত পেয়েছিলাম।
কিন্তু তারমধ্যেও সারাদিন আমি এতে অংশ নেই। পরদিন আমার হাতে সয়ম ছিল কম। কারণ প্রতিযোগিতার শেষ হওয়ার দু’ঘণ্টার মধ্যেই আমার ফ্লাইট ছিল। সত্যি বলতে, প্রথম থেকেই সব বিচারক ও প্রতিযোগী আমার প্রশংসা করতেন। তাই একধরনের আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়ে গিয়েছিল যে, সেরা আমি হব। কিন্তু যখন ঘোষক সেরা হিসেবে অন্যের নাম ঘোষণা করল, তখন ভীষণ মন খারাপ হলো। কেউ একজন বলল, আমি সেরাদের মধ্যে নেই। আর আমার হাতে সময় ছিল না। তাই সেখান থেকে আয়ারল্যান্ডে চলে এসেছিলাম। পরে অবশ্য আমি প্রথম রানারআপের কথা শুনি। এবং তার পুরস্কার গ্রহণ করি।

ট্রিবিউন: এবারে কোন কোন কাজে অংশ নেবেন?

প্রিয়তি: ‘সবার জন্য শিক্ষা’ ও ‘শক্তি বিদ্যালয়’ নামে দুটি ফাউন্ডেশন দেখতে যাব। ১৮ ও ১৯ তারিখ চট্টগ্রামে থাকব। সেখানে ‘ইউ হ্যাভ অ্যা টিম’ নামের একটি সংগঠনের আয়োজনে কাজে অংশ নেব। এটা তরুণদের নিয়ে ব্যতিক্রমী আয়োজন। এরপর ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা শহীদের প্রতি সম্মান জানাব। আরও কিছু কাজ যুক্ত হবে।

ট্রিবিউন: এবার মজার প্রশ্ন জানতে চাই, আপনি নিজে পাইলট। যখন যাত্রী হিসেবে ভ্রমণ করেন তখন কোনও পাইলটের ভুল চোখে পড়ে? 

প্রিয়তি: না, এমন হয় না। তবে জিজ্ঞাসা জাগে মনে। আসলে প্রত্যেক বিমানই আলাদা কনফিগারেশনে তৈরি। হয়তো উড্ডয়নের সময় মনে হয় আচ্ছা, পাইলট কত স্পিডে এ কাজটি করল। বা এটার কনফিগারেশন কত? কী কী সুবিধা এতে পাওয়া যেতে পারে- এধরনের কথা ভাবি। 

ট্রিবিউন: অনেকে বলে আপনি কম বয়সে অনেক পেয়ে গেছেন। আসলে আপনার বয়সটা কত? কোনও তরুণ ভক্ত যদি এটা জানতে চায়?

প্রিয়তি: এটা জানার জন্য আমাকে জিজ্ঞেস না করলেও হবে (হাসি)। কারণও আমার প্রোফাইলে এটা দেওয়া আছে। আর যেহেতু বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আমি অংশ নিই, তাই সেখানে সঠিক সনটাই দেওয়া আছে।প্রিয়তি, ছবি সাজ্জাদ হোসেন (7)

সম্প্রতি আয়ারল্যান্ডের নতুন দুটি ছবিতে কাজ করছেন প্রিয়তি। ছবি দুটি পরিচালনা করছেন কায়রন ডেভিস। জানালেন নিজ দেশেও ভালো প্রযোজনা ও ছবিতে কাজ করতে চান তিনি।
প্রিয়তির পরিচয় দিতে তুলে ধরতে আলাদা বিশেষণের প্রয়োজন নেই। তবে কয়েকটি পুরস্কারের কথা তুলে ধরা যেতে পারে। সম্প্রতি প্রিয়তি আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে ইন্টারন্যাশনাল রানওয়ে কুইনস রিকগনেশন অ্যাওয়ার্ডস-এ পুরস্কৃত হন। এছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে মিস ইউনিভার্সাল রয়্যালটি ২০১৩, আয়ারল্যান্ডে মিজ আয়ারল্যান্ড ২০১৪, মিস হট চকোলেট ২০১৪, মিস ফটোজেনিক ২০১৪, সুপার মডেল অব দ্য ইয়ার ২০১৪, মিস আয়ারল্যান্ড আর্থ ২০১৫ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় মিস আর্থ হিসেবে প্রথম রানার-আপ ২০১৬, মিস কমপ্যাশনেট ২০১৬, মিস বেস্ট গাউন ২০১৬, মিস ফিটনেস ২০১৬ হয়েছেন।প্রিয়তি, ছবি সাজ্জাদ হোসেন (5)

ছবি তুলেছেন সাজ্জাদ হোসেন

/এম/

লাইভ

টপ