behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

ভালোবাসা বিষয়ে মুখোমুখি ইমরানপ্রেম করেছি দুইবার ছ্যাঁকা খেয়েছি একবার

মাহমুদ মানজুর০০:০৪, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৬

বিয়ে না করেও ইমরান এখন ‘জামাই আদর’ উপভোগ করছেন। গান বাজারে এখন জনপ্রিয়তা এবং বাণিজ্যে এগিয়ে আছেন সবচেয়ে। অডিও বাজার, স্টেজ শো আর অন্তর্জাল দুনিয়ায় চলছে ইমরান ও তার গানের বন্দনা। সংগীতের রেশ ধরে ইমরান এখন পার করছেন বর্ণিল বসন্ত। অগুনতি ভক্ত বা ‘প্রেমিকা’র হৃদয়ে গানে গানে নোঙর ফেলেছেন এই তরুণ নাবিক। মিডিয়ায় তার প্রেম প্রসঙ্গে গুঞ্জনও রয়েছে, মিলছে বিরহের খবরও। তাই তো! এমন না হলে সে আবার তারকা কিসের? ইমরানের সেইসব ভালোবাসার গল্প এবং প্রেমিকাদের খোঁজ মিলেছে এই বিশেষ আলাপে।

ইমরান। ছবি: সাজ্জাদ হোসেন।বাংলা ট্রিবিউন: ভালোবাসা। বিষয়টা কেমন?
ইমরান মাহমুদুল: বিষয়টা বেশ মধুর এবং জটিল প্রক্রিয়া। আবার ‘দিল্লিকা লাড্ডু’-ও বলা যেতে পারে! [কণ্ঠে রহস্যের হাসি]

ট্রিবিউন: খেলেও পস্তাতে হয়, না খেলেও…
ইমরান: অনেকটা তাই। তবে ওভারঅল বিষয়টা বেশ অ্যাডভেঞ্চারাস। জীবনে দরকার আছে।

ট্রিবিউন: আরও কিছু বলুন…
ইমরান: দেখুন ভালোবাসা হচ্ছে, একে অপরের প্রতি বিশ্বাস রাখা। বিশ্বাস নেই তো, ভালোবাসাও নেই। ফলে যে কোনও প্রেম-ভালোবাসায় বিশ্বাসটা প্রধান শর্ত। খুব… [বেশ গম্ভীর কণ্ঠে] 

ট্রিবিউন: আপনার কথায় বেশ অভিজ্ঞতার ছাপ আছে। কেমন কাটলো বিশ্ব ভালোবাসা দিবস? নাকি শো নিয়ে ব্যস্ত…
ইমরান: না। এবার শো ছিল না। পুরোই ফ্রি ছিলাম।

ট্রিবিউন: ২০১৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ইমরানের শো ছিল না! নাকি কেউ মানা করেছে দিনটিতে ব্যস্ত না থাকার…
ইমরান:না না। তেমন কিছুই নয়। সব শো’ তো আর আমার কাছে আসে না। আসলেও পছন্দ না হলে, করি না। এবার তাই হয়েছে। মনের মতো শো পাইনি। তাই সারাদিন ফ্রি ছিলাম।

ইমরান। ছবি: সাজ্জাদ হোসেন।ট্রিবিউন: কেমন ছিল দিনটি?
ইমরান: খুব সুন্দর। সকালে ঘুম থেকে উঠে টিভি দেখতে বসলাম। দেখতে দেখতে আরাম করে মায়ের হাতের রান্না খেলাম। অনেকদিন পর এই দিনতে নিজেকে খুব মুক্ত পাখির মতো মনে হলো। কারণ টানা শো আর রেকর্ডিং নিয়ে খুব অস্থির সময় গেছে গেল এক দেড় মাস। ভালোবাসা দিবসে এইসব তাড়া ছিল না।

ট্রিবিউন: সেদিন বেরই হননি! দেখুন, একটু ঝেড়ে কাশুন। এই বয়সে এমন জনপ্রিয়তার পতাকা হাতে নিয়ে এমন দিনে কেউ কি ঘরে বসে থাকতে পারে?
ইমরান: সারাদিন ঘরে ছিলাম না তো। বেরিয়েছি। দুপুরে ব্যাংকে গিয়েছি! অনেকদিন যাওয়া হয় না। কিছু অর্থনৈতিক জটিলতা ছিল। সেটার সমাধান করতে ব্যাংকে গিয়েছিলাম।

ট্রিবিউন: ব্যাংক বিকালেই বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা।
ইমরান: বন্ধ হওয়ার আগেই বেরিয়ে পড়েছি। আমরা পাঁচ-সাতজন বন্ধু মিলে মধ্যরাত পর্যন্ত ঘুরে বেড়িয়েছি, আড্ডা দিয়েছি।

ট্রিবিউন: আপনাকে প্রশ্ন করে লাভ নেই। অফ দ্য রেকর্ড হলেও একটা কিছু বলুন। এই দিনে ‘তার’ জন্য আলাদা সময় ছিল না আপনার?
ইমরান: নেই তো। থাকলে অবশ্যই গোটা দিন তার নামে উৎসর্গ করতাম। সত্যি বলছি, এখন আমার অমন কেউ নাই।

ট্রিবিউন: হুম। তাহলে ঐদিন মোটাদরের একটা শো’তে গেলেই পারতেন।
ইমরান: নাহ। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়েছি না? সবসময় তো সময় বের করতে পারি না। এদিন বন্ধুদের সঙ্গে খুব মজা করেছি। ওটাও তো ভালোবাসা।

ইমরান। ছবি: সাজ্জাদ হোসেন।ট্রিবিউন: তবে কি এরপর বলবেন, আপনি এখনও প্রেম করেননি অথবা পড়েননি? নাকি তারকাদের মুখস্ত ডায়লগের মতো বলবেন, ‘গানই আমার প্রথম এবং শেষ প্রেম’!
ইমরান: মোটেই এসব কিছু বলবো না। দেখুন, এখন আমার অমন কেউ নেই। তবে আগে ছিল। আগামীতেও হতে পারে। আসলে এসব তো আর বলে-কয়ে হয় না।

ট্রিবিউন: তাহলে পেছনের কথা একটু শুনি। নিশ্চয়ই অগনিত কিছু নয়! ফলে একটু পেছনের প্রেমের কথা বলুন।
ইমরান: কী আর বলবো! [লজ্জায় যেন সমুদ্রে হাবুডুবু খাচ্ছেন]

ট্রিবিউন: শৈশবে কোনও নায়িকা-গায়িকার প্রেমে পড়েননি?
ইমরান: [এমন প্রশ্নের পর অথৈ সমুদ্রে যেন খড়-কুটো খুঁজে পেলেন] অনেক পড়েছি। আমার প্রথম পছন্দ ছিল ঐশ্বরিয়া রাই। আবার কাজলকেও ভালো লাগতো। মনে মনে খুব প্রেমে পড়েছি এ দুজনের।

ট্রিবিউন: স্বাভাবিক। পড়ারই কথা। তো দেশে এমন কেউ…
ইমরান: দেশেও ছিল। তবে নাম বলবো না। বন্ধুরা আবার কী না কী বলে!

ইমরান। ছবি: সাজ্জাদ হোসেন।ট্রিবিউন: এবার পর্দা থেকে বাস্তবে আসবেন? স্কুল-কলেজের দিনগুলোতে…
ইমরান: ক্লাস নাইন, টেন-এ হুট-হাট অনেকগুলো প্রেমে পড়ে যাই। সেসব একতরফা। অনেককে জানানোরই সুযোগ পাইনি। তবে এখনও আমি স্পষ্ট দেখতে পাই সেই অদ্ভুত প্রেমময় দিনগুলো। মনে পড়ে, সেই প্রেমিকাদের একঝলক দেখার জন্য স্কুল ছুটির পর ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্কুল গেটে দাঁড়িয়ে থাকতাম। সেই দিনগুলো সত্যি মিস করি এখনও।

ট্রিবিউন: এখন তো দিন বদলেছে। আপনি তারকা। ফেলে আসা সাধারণ জীবনের সেই ভালোলাগার প্রেমিকাদের সঙ্গে আলাপ-টালাপ হয়!
ইমরান: একদমই না। তারা এখন কে কোথায় আছে, তাও জানি না।

ট্রিবিউন: তারপর… [ইঙ্গিত মিডিয়ার প্রেমের গল্প]
ইমরান: তার আর ‘পর’ নেই। সবাই আপন। এখন গানের সঙ্গেই আছি।

ট্রিবিউন: মাঝে বেশ কিছু প্রেমের গুঞ্জন উড়ে বেড়িয়েছে মিডিয়ায়। নিশ্চিত উত্তরে বলবেন- ‘সব মিথ্যা, ভিত্তিহীন’।
ইমরান: অবশ্যই, সব মিথ্যা- ভিত্তিহীন। মিডিয়ার অনেকের সঙ্গেই বন্ধুত্ব আছে, ছিল। বন্ধু আর প্রেমিকার মধ্যে গুলিয়ে ফেললে তো মেনে নেওয়া যায় না।

ইমরান। ছবি: সাজ্জাদ হোসেন।ট্রিবিউন: তবে কি মিডিয়ায় আসার পর আপনার প্রেমিক মন ‘অবসরে’ গেছে?
ইমরান: ঠিক তা নয়। এখনও কার্যকর আছে! সত্যি বলতে এখনও খুঁজছি। ঠিক মনের মতো মিলছে না। সত্যি বললে স্বার্থপর মনে হবে আমাকে। আমি চাই না, কাউকে ভালোবাসার দায়ে আমার গান-ক্যারিয়ারটা ক্ষতিগ্রস্ত হোক। আমি অন্তত আগামী চার-পাঁচটা বছর শুধু গানের প্রেমে ডুবে থাকতে চাই। গান এমন একটা বিষয়, যেখান থেকে মনসংযোগে ব্যাঘাত ঘটলেই বিপদ। বিলিভ মি অর নট, গান-বাজনা আমার কাছে ইবাদতের মতো।

ট্রিবিউন: তার মানে সরাসরি বিয়ের পরিকল্পনাই করছেন। প্রেমে হাবুডুবু খেতে চাইছেন না।
ইমরান: চাই। খুব করে একটা মনের মতো প্রেমিকা চাই। তবে গানের ক্ষতি করে নয়। কারণ যার সঙ্গে আমি প্রেম করবো, সে যদি প্রত্যাশা করে গানের চেয়েও তাকে বেশি ভালোবাসতে হবে তবে আমি ‘সরি’। সে জন্যই আপাতত একা। সেই ধৈর্য্যশীল ও ত্যাগী প্রেমিকা এখন আমি কোথায় খুঁজে পাই?

ট্রিবিউন: বিয়ের পরিকল্পনা কবে?
ইমরান: তিন বছরের আগে তো নয়-ই। ইচ্ছে আছে, ‘স্বল্পদৈর্ঘ্য’ প্রেম করে ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য’ একটা বিয়ে করার। অর্থাৎ অল্প সময় প্রেম করে তাকে বিয়ে করবো আজীবনের জন্য। জানি না, সেই স্বল্পদৈর্ঘ্য প্রেমিকাকে খুঁজে পাবো কিনা!

ট্রিবিউন: যদি পাঁচ বছর পরেও না পাওয়া যায়! তবে আপনার সেই কাঙ্খিত প্রেমিকা-স্ত্রীকে খোঁজার জন্য যে বিজ্ঞাপন ছাপতে হবে, তাতে পাত্রীর যোগ্যতা কী কী উল্লেখ থাকবে!
ইমরান: দোয়া করুন, যেন বিজ্ঞাপন পর্যন্ত না যেতে হয়! তবে আমার প্রথম ইচ্ছা, পাত্রীকে অবশ্যই সুন্দরী হতে হবে! এটা গুরুত্বপূর্ণ। এরপর স্বাভাভিকভাবেই ভালো মনের অধিকারী এবং আমার সংগীত জীবনকে সম্মান করতে হবে। তাতেই চলবে।

ইমরান। ছবি: সাজ্জাদ হোসেন।ট্রিবিউন: ওই বিজ্ঞাপনে উদাহরণস্বরুপ যদি একটা ছবিও দিতে হয়, তবে মডেল হিসেবে কার ছবি ব্যবহার করবেন!
ইমরান: সিম্পল। ঐশ্বরিয়ার ছবিটা দিয়ে দেবেন! তার কাছাকাছি হলেই হবে! তবে আল্লাহ মাফ করুন। এমনটা করতে হবে না। তার আগেই উপরওয়ালা ব্যবস্থা করে দেবেন।

ট্রিবিউন: বিয়ে কোথায় করবেন? সাধারণত মিডিয়ায় পছন্দের জায়গা তো দুটি। ঢাকা অথবা নিউ ইয়র্ক!
ইমরান: প্রশ্নটা হয়তো যৌক্তিক। কথা দিলাম, এমন কিছু হবে না। আমি দেশের মধ্যেই বিয়ে করবো। যুক্তরাষ্ট্রে আমার বোন থাকে। ও অনেক মেয়ে-টেয়ে দেখে। বলে আমাকে। বাট আমার কোনও আগ্রহই নাই।

ট্রিবিউন: মিডিয়ায় প্রচুর সফল প্রেমের গল্প আছে। হয়তো সংসার বিষয়ে টেকসই গল্প খুব বেশি নেই। আপনি কোন দিকে যাবেন? মিডিয়ার ভেতরে না বাইরে?
ইমরান: আমার মনে হয় মিডিয়া বলে কিছু নেই। এটা নির্ভর করে পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস এবং সম্মানের ওপর। সে জন্যই তো গেল ভালোবাসা দিবসটাও একাই কাটিয়ে দিলাম। বিশ্বাসটা খুব দরকার।

ট্রিবিউন: শেষে একটা স্পষ্ট কথা বলুন। এই ছোট্ট সফল জীবনে কটা প্রেম আর কটা ছ্যাঁকা খেয়েছেন?
ইমরান: যা বলছি, শতভাগ সত্য। কারণ কারও নাম-ঠিকানা তো আর বলতে হচ্ছে না। তাছাড়া এখন তো আমি ফাঁকা। সুতরাং বলতেই পারি। প্রেম এ পর্যন্ত করেছি মাত্র দুইবার। সিরিয়াস প্রেম। টেকাতে পারিনি শেষপর্যন্ত। তবে রোমান্টিক মনের মানুষ হিসেবে প্রেমে পড়েছি অসংখ্যবার। যা গুণে শেষ করা যাবে না। সবই একপক্ষের প্রেম ছিল।

ইমরান। ছবি: সাজ্জাদ হোসেন।ট্রিবিউন: ছ্যাঁকা…
ইমরান: একবার খেয়েছি। ছোটবেলার `অমর’ প্রেম ছিল সেটা।

ট্রিবিউন: বলেছেন, প্রেম করেছেন দুটি। অথচ ছ্যাঁকার সংখ্যা একটি! আবার বলছেন এখন ফাঁকা।
ইমরান: প্রেম দুটি এখনও বলছি। ছ্যাঁকাও একটি। বাকি প্রেমটি ছিল দুজনের সমঝোতায় ব্রেকআপ।

ট্রিবিউন: এই যে দীর্ঘ প্রেম-বিরহের গল্প। মোর‌্যাল অব দ্য স্টেরি কী?
ইমরান: খুব সহজ। গান দিয়ে যে ভালোবাসা পাচ্ছি, তার কাছে এসব প্রেম-বিরহ-ছ্যাঁকা অনেক স্থুল বিষয়। মানুষের এই ভালোবাসার স্বাদ নিয়ে মরে যেতে চাই, গাইতে চাই শেষ পর্যন্ত।

ইমরান। ছবি: সাজ্জাদ হোসেন।/এমএম/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ