Vision  ad on bangla Tribune

‘গাছটি বলেছিল’ থেকে ‘বৃহন্নলা’গল্প ‘চুরি’ বিতর্কে মুরাদ পারভেজ!

বিনোদন রিপোর্ট১৫:২২, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০১৬

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৪ ঘোষণার একদিনের মাথায় ভালোই বিতর্কের মুখে পড়লো এ বছরের নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ ছবি ‘বৃহন্নলা’র পরিচালক-প্রযোজক মুরাদ পারভেজ। এ ছবির জন্য শ্রেষ্ঠ কাহিনিকার ও শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা হিসেবেও পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন তিনি। অথচ সেই পরিচালক-চিত্রনাট্যকারের বিরুদ্ধেই গল্প ‘চুরি’র গুরুতর অভিযোগ উঠেছে কলকাতা থেকে। ফেসবুকে সেটি ভাইরাল হয়ে এখন যাচ্ছেতাই অবস্থা। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের মান এবং এর জুরিবোর্ডের সদস্যদের যোগ্যতা নিয়েও! আর এ নিয়ে ফেঁসে যাচ্ছেন ২০০৮ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক মুরাদ পারভেজ।

মুরাদ পারভেজ

জানা গেছে, ‘বৃহন্নলা’র প্রায় পুরো গল্পই নেওয়া হয়েছে সৈয়দ মুস্তফা সিরাজের ছোট গল্প ‘গাছটি বলেছিল’ থেকে। গল্পটি পড়লে এবং ছবিটি দেখলে এমন অভিযোগ হাতেনাতে পাওয়া যাবে বলেও মনে করছেন প্রয়াত সাহিত্যিক সৈয়দ মুস্তফা সিরাজের পরিবারের সদস্য এবং সমালোচকরা।

তবে এ বিষয়ে মুরাদ পারভেজের কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত। তার মুঠোফোনটি বন্ধ। তার সহধর্মিনী এবং ‘বৃহন্নলা’র অন্যতম অভিনেত্রী সোহানা সাবার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, শ্যুটিংয়ের কারণে তিনি ঢাকার বাইরে। আর মুরাদ এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন। এছাড়া মুরাদের বিষয়ে তার মন্তব্য নেওয়াই উচিত বলে তিনি জানান।
গেল বছর ভারতের জয়পুর চলচ্চিত্র উৎসবে ‘বৃহন্নলা’ পুরস্কৃত হলে বিষয়টি সৈয়দ মুস্তফা সিরাজের পরিবারের দৃষ্টিগোচর হয় প্রথম। সেই সময় সৈয়দ মুস্তফা ফিরাজের কনিষ্ঠ পুত্র সাংবাদিক অমিতাভ সিরাজ ভারতের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া’তে “Bangla director lifted father’s story: Mustafa Siraj’s son”- এই শিরোনামে একটি প্রতিবেদন লেখেন। এর পরেই পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্রের প্রাণকেন্দ্র টালিগঞ্জে এ নিয়ে বিতর্কের ঝড় ওঠে।

মুরাদ পারভেজের প্রথম ছবি ‘চন্দ্রগ্রহণ’-ও প্রয়াত লেখক সৈয়দ মুস্তফা সিরাজের গল্প অবলম্বনে নির্মিত হয়। তবে সেটা অনুমতিসাপেক্ষে। এ প্রসঙ্গে কলকাতার পার্ক সর্কাসে বসবাসরত সৈয়দ মুস্তফা সিরাজের কন্যা নাইনা সিরাজের মন্তব্য এমন, ‘‘বেঁচে থাকতে কখনওই বাংলাদেশ তার বাবাকে মূল্যায়ন করেনি। আজ পর্যন্ত কেউ কখনও তার বাবার কোনও বই ঢাকায় একুশে বইমেলায় নিয়ে যায়নি। কিন্তু বাবা বাংলাদেশ প্রসঙ্গে ছিলেন প্রচণ্ড দুর্বল। তাই মুরাদ যখন এসে বাবার ‘হাতে পায়ে’ ধরেন তখন বাবা তাকে ‘চন্দ্রগ্রহণ’ ছবিটি করার অনুমতি দেন। কিন্তু বাবার মৃত্যুর পরে (২০১২) সে আর কখনওই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। বাবার গল্প চুরি করে কেন তিনি নিজের নামে চালিয়ে দেওয়ার মতো সাহস দেখালেন- সেটা ভাবলে আমি অবাক হই।’’
এদিকে আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, যারা সৈয়দ মুস্তফা সিরাজের ‘গাছটি বলেছিল’ গল্পটি পড়েছেন, তাদের কাছে অন্তত পরিষ্কার যে, ছবিটির নামকরণ (বৃহন্নলা) করাও হয়েছে গল্পের ভেতর থেকেই। শুধু সিনেমার শেষে গল্পে একটু পরিবর্তন আনা হয়েছে। সেটাও হয়েছে ছবিটির শিল্প নির্দেশক উত্তম গুহের পরামর্শে। গল্পের শেষে দেখা যায়, হিন্দু-মুসলিম উভয়ে একটি গাছকে কেন্দ্র করে দাঙ্গায় জড়িয়ে যায়। কিন্তু ছবির শ্যুটিং শুরু হওয়ার কয়েকদিন পরে উত্তম গুহ পরিচালক মুরাদ পারভেজকে বলেন, ‘তুমি যদি ছবির শেষ দৃশ্যে দাঙ্গা দেখাও তা হলে সেন্সরে আটকে যাবে ছবিটা। কেননা শেষ পর্যন্ত ছবিটি ধর্মীয় দাঙ্গাকে প্রমোট করছে। তুমি বরং এখানে সম্প্রীতি দেখাও।’ উত্তম গুহের পরামর্শে শেষ দৃশ্যটি মূল গল্প থেকে ভিন্ন হয়।
‘বৃহন্নলা’ ছবির দুই পাত্র-পাত্রী সাবা-ফেরদৌস‘বৃহন্নলা’র সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন সৈয়দ মুস্তফা সিরাজের গল্প: ‘গাছটি বলেছিল
দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত সেই প্রতিবেদনটি: Bangla director lifted father’s story: Mustafa Siraj’s son
/এস/এমএম/

samsung ad on Bangla Tribune

লাইভ

টপ