কাল অস্কার, একটু চোখ বুলিয়ে নেবেন কি!

Send
উম্মে রায়হানা
প্রকাশিত : ১৮:১৮, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৫৭, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১৬

সঘন সময় আরকি! ঘনিয়ে এসেছে ৮৮তম এবং সম্ভবত চলচ্চিত্রজগতের ইতিহাসে সবচেয়ে `বিতর্কিত' অস্কার ঘোষণার ক্ষণ। রবিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান যার দিকে তাকিয়ে রয়েছে বিশ্বের চলচ্চিত্রপ্রেমী।
ডিক্যাপ্রিও

এ বছরের অস্কারে আরও অনেকের সঙ্গে নমিনেশন পেয়েছেন ‘টাইটানিক’খ্যাত অভিনেতা লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও। এর আগে বেশ কয়েকবার মনোনয়ন পেলেও একবারও বিজয়ীর পুরস্কার নিয়ে ঘরে ফিরতে পারেননি প্রতিভাধর এই অভিনেতা। কিন্তু এবার আলেজ্যান্দ্রো গনজালেস ইনারিত্তু নির্মিত ‘দ্য রেভেন্যান্ট’ তাকে এই পুরস্কার পাইয়ে দিতে পারবে বলেই আশা করছেন অনেকে। এ প্রত্যাশা কতখানি পূরণ হয় তা জানা যাবে কয়েক ঘণ্টা পরই।

ডিক্যাপ্রিওর জয়-পরাজয় জল্পনা ছাড়াও এবার অস্কার আসর নিয়ে নানারকম বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। যে বিতর্কটি ছাড়িয়ে গিয়েছে আগের সব সীমা। কেননা, এ বছর অস্কারের বিরুদ্ধে উঠেছে বর্ণবাদের অভিযোগ। উঠবে না-ই বা কেন! কোনও কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেতা-অভিনেত্রী অস্কারের এমনকি মনোনয়নও পাননি এ বছর।

এই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই অস্কার বর্জন করেছেন হ্যালিবেরি, উইল স্মিথসহ আরও অনেক তারকা। ‘এহেন’ বর্ণবাদী নমিনেশনের বিরুদ্ধে তারা নেমেছেন এক হ্যাশট্যাগ প্রচারণায়ও।

অস্কারের ইতিহাসে রয়েছে এমন আরও নানা অজানা দিক। অস্কারের আরেকবার সমালোচনার মুখোমুখি হয় ব্রিটিশ তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রামাণ্য চলচ্চিত্র ‘টার্গেট ফর টুনাইট’কে পুরস্কারে ভূষিত করে। কোনও দেশের প্রোপাগান্ডা ডকুফিকশনের এত বড় আন্তর্জাতিক পুরস্কার পাওয়ার ঘটনা সেই প্রথম। ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৪১ সালে।

অস্কারের বিরুদ্ধে এর আগেও বর্ণবাদের অভিযোগ তুলেছেন অনেকে। যেমন- ১৯৭৩ সালে মারলোন ব্রান্ডো ‘দ্য গডফাদার’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য অস্কার পান। কিন্তু পুরস্কার নিতে আসার বদলে এক নেটিভ আমেরিকান তরুণীর হাত দিয়ে পাঠিয়ে দেন তার লিখিত বক্তব্য। মেয়েটি ব্রান্ডোর প্রতিনিধি হয়ে পাঠ করে শোনায় বক্তব্যটি।

এই কাজটি সচেতনভাবেই করেছেন ব্রান্ডো। হলিউডের সংস্কৃতিতে নেটিভ আমেরিকানদের অবহেলিত ও প্রান্তিক করে রাখার বিরুদ্ধে এ ছিল তার নিজস্ব ধরনের প্রতিবাদ।

ব্রান্ডো ছাড়াও অস্কার বর্জন করেছেন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব। অভিনেত্রী ক্যাথরিন হেপবর্ণ, পরিচালক উডি অ্যালেন ও জা লুক গদার তাদের মধ্যে অন্যতম।

ক্যাথরিনের কোনও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিলো না অস্কারের বিরুদ্ধে। ‘মেন্টাল ফ্লস’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য পাওয়া পুরস্কারটি তিনি লোককে দেখাতেও ভালোবাসতেন। কিন্তু অস্কার উৎসবটিতে কখনওই যোগ দেওয়া হয়নি তার।

উডি অ্যালেনপরিচালক ও চিত্রনাট্য লেখক উডি অ্যালেন অবশ্য বরাবরই এ ধরনের উৎসবেরই বিপক্ষে ছিলেন। তিনি বলেন, ‘যে মুহূর্তে পুরস্কারটি ঘোষণা করা হয়, জানিয়ে দেওয়া হয় কে পেল, আর কে পেলো না, তক্ষুনি বুঝতে পারা যায়- এ পুরস্কার কতখানি অর্থহীন।’
একবার মাত্র নিজের তৈরি একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শন করার জন্য অস্কারে আসেন উডি, আর তা হচ্ছে ২০০২ সালে, ২০০১ এ ৯/১১ হামলার পর। ওই হামলা নিয়েই তিনি বানিয়েছিলেন স্বল্পদৈর্ঘ্য ওই ছবিটি।
উডির চেয়েও জোরদারভাবে অস্কারকে খারিজ করেছেন গদার। অস্কার কমিটি ২০১০ সালে তাকে অনারারি অস্কার দেওয়ার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করে। বারবার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া সম্ভব হয়নি সে সময়।
ওই পুরস্কার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ওই পুরস্কার তার কাছে কোনও অর্থই বহন করে না। তিনি বলেন, ‘তারা আমার কয়টি ছবি দেখেছে? তারা পুরস্কার দিচ্ছে দিক। আমার কাছে পুরো বিষয়টিই আজব মনে হয়।’ তিনি উৎসবে না যাওয়ার কারণ হিসেবে বলেন, ‘সময় মতো যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাননি আর অতদূর বিমান যাত্রা করতেও ইচ্ছে করছিলো না!’

সূত্র: আইবিএন লাইভ, চিটশিট মুভিজ

/ইউআর/এম/       

লাইভ

টপ