Vision  ad on bangla Tribune

‘বৃহন্নলা’য় গান বিতর্কদেবলীনার প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের বক্তব্য

বিনোদন ডেস্ক১৭:১২, মার্চ ০৪, ২০১৬


গত ২৭ ফেব্রুয়ারি বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশ পায় ‘‘বৃহন্নলা’য় এবার গান বিতর্ক!’ শিরোনামের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। এর বিপরীতে প্রতিবাদ জানিয়েছেন সংগীতশিল্পী দেবলীনা সুর। লিখিত প্রতিবাদে তিনি দাবি করেন- তার বিরুদ্ধে আনা গান বিতর্কটি সঠিক নয়। মেইল বার্তায় পাঠানো সে প্রতিবাদলিপি নিচে দেওয়া হলো। 

দেবলীনার পাঠানো ‘পেপার কাটিং’
বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশে দেবলীনা প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, ‘‘২০১৪ থেকে আজকের দিন আবধি কখনও কোনও মিডিয়াকে আমি বলিনি- ‘বৃহন্নলা’ ছবির গানটি আমার নিজের কথা ও সুরের। আমি প্রতিবারই বলেছি গানটি আমি ট্রান্সলেট (অনুবাদ) করেছি। এ গানটি ‘রেইনকোট’ ছবিতে শুভা মুডগাল গেয়েছিলেন আর বিখ্যাত গীতিকার গুলজারের লেখা এটা। বিভিন্ন টেলিভিশন  এবং সংবাদপত্রের সাক্ষাৎকারে আমি এভাবেই বলেছিলাম যার পেপার কাটিং ও ভিডিও ফুটেজ আমার কাছে সংগৃহীত আছে। যে একটি- দুটি অনলাইন পত্রিকা বিভিন্ন পত্রিকার সংবাদ উল্লেখ করে আমাকে দোষারোপ করেছেন সেই নিউজগুলো আমার লেখা ছিলনা। আমার সঙ্গে মোবাইলে কথা বলে তারা (সাংবাদিক) নিউজ করেছেন। আমি কখনও কোনও সংবাদমাধ্যমকে ভুল তথ্য দেইনি বা বলিনি এটার গীতিকার আমি। তারা যদি ভুল কিছু ছাপেন সেই দায়িত্ব আমার না।’’
প্রতিবাদে তিনি আরও বলেন, ‘ইউটিউব এ দৈনিক জনকন্ঠ ও দৈনিক পূর্বকোন পত্রিকার ও লিংক দেয়া আছে। যেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে “বাংলাদেশ সরকারের অনুদানে নির্মিত ‘বৃহন্নলা’ চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে অভিষেক হয় তার। ঐ ছায়াছবির গানটিও লিখেছেন শিল্পী নিজেই। হিন্দি ‘রেইনকোট’ চলচ্চিত্রে গুলজারের লেখা মাইথেলি ভাষার একটি গানের আদলে দেবলীনা লিখলেন, গাইলেন গান ‘প্রিয় তোর কিসের অভিমান,/ সঘন শ্রাবণ এল পায়ে পায়ে/ মথুরার পালকি এল আমার গায়ে/ এল না সে এল না/ অঙ্গিনা হলো সুনসান।’’
প্রতিবাদলিপির সঙ্গে দেবলীনা ২০১৫ সালে প্রকাশিত দুটি দৈনিক পত্রিকার কাটিং পাঠান।
প্রতিবেদকের বক্তব্য:
প্রতিবেদনটিতে প্রকাশিত তথ্য বাংলা ট্রিবিউিন কিংবা প্রতিবেদকের নিজস্ব কোনও বক্তব্য নয়। বরং গানটি তৈরির সঠিক প্রেক্ষাপট খোঁজার চেষ্টা হয়েছে অনুসন্ধানী চোখে। কথা বলা হয়েছে গানটির সংগীত পরিচালক ইমন সাহার সঙ্গেও। দেবলীনা সুর সেদিন দেশের বাইরে ছিলেন বলে- তার মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

বাংলা ট্রিবিউন অনুসন্ধানে পাওয়া যায়, ‘প্রিয় তোর কিসের অভিমান’ গানটি তৈরির পর ২০১৪ সালে দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রায় সব পত্রিকা ও অনলাইন মিডিয়া খবরটি প্রকাশ হয়। যেখানে দেবলীনার বক্তব্যসহ খবরটি ফলাও করে প্রকাশ পায়। সেইসব খবরে শিল্পী দেবলীনা গানটির গীতকার বলে দাবি করেন।

এদিকে দেবলীনা সুরের ইউটিউব চ্যানেল থেকে গানটির দুটি সংস্করণ আপলোড করা হয় ২০১৪ সালে। একটি গানে ‘বৃহন্নলা’ চলচ্চিত্রটির দৃশ্য আছে। অপর ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে গানটির নিয়ে প্রকাশিত বেশ কয়েকটি ‘পেপার কাটিং’দিয়ে।

সবচেয়ে হতাশার বিষয় এই যে, সেই ইউটিউব ভিডিওর প্রচ্ছদে একটি পেপারকাটও নেই, যেখানে গানটির মূল গীতিকারকে (গুলজার) সম্মান দেওয়া হয়েছে বা তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। গীতিকার হিসেবে সেসব পেপার কাটই রাখা হয়েছে যেখানে শুধু ‘দেবলীনা’শব্দটি আছে।

এবং ২০১৪ ও ২০১৫ সালে দেবলীনা ও তার স্বামী একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠান প্রযোজক সুমন সাহা সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকেও এই ভিডিও বেশ কয়েকবার শেয়ার করেন।

এছাড়া বিভিন্ন গ্রুপেও এগুলো শেয়ার করা হয়েছে। মূলত পেপার কাটিংয়ের ভিডিওটি দিয়ে প্রচারণা চালানো হয়, যেখানে বারংবার গীতিকার হিসেবে দাবি করা হচ্ছে দেবলীনার নাম। এ কাজটি শিল্পী দম্পতি জেনে অথবা না জেনে করে থাকতে পারেন। তবে দেবলীনা নিজে এর মাধ্যমে ‘গীতিকার’ হিসেবে প্রকাশিত সংবাদগুলোই প্রচারে ‘এনেছেন’।

যার মাধ্যমে কিন্তু বিখ্যাত একটি গানকে বারবার প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। ইউটিউবের আপলোড করা সে গান এখন বাংলা ট্রিবিউনের সংরক্ষণে আছে।

বিভিন্ন খবরই নয় দেবলীনা একান্ত সাক্ষাৎকারেও গীতিকার হিসেবে নিজেকে দাবি করেছেন। বলেননি তিনি গানটি হিন্দি থেকে অনুবাদ করেছেন।

বাংলা ট্রিবিউন খবরটি নিয়ে আরও একবার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে দেখতে পায় চমকপ্রদ কিছু সাম্প্রতিক পরিবর্তন!

দেবলীনা সুরের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত গানটির পুরনো তথ্য ছেঁটে খানিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। সেখানে এখন ‘অনুবাদক’ ও গায়িকা হিসেবে দেবলীনার পরিচয় দেওয়া হয়েছে!
তবে সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, ‘বৃহন্নলা’ ছবিটিতেও গীতিকার হিসেবে নাম দেওয়া আছে কবির বকুল ও দেবলীনার নাম! যে ছবিটি শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রদর্শন করা হচ্ছে; সেখানে অন্যদেশের এক মানুষের সৃষ্টিকে পরিচয় করে দেওয়া হচ্ছে আরেকজনের নামে! যা অত্যন্ত দৃষ্টিকুটু বলেই অনেক চলচ্চিত্র বোদ্ধা মনে করেন।
এ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ কিছু ছবি নিচে দেওয়া হলো:





‘বৃহন্নলা’ ছবির পর্দায় গীতিকার হিসেবে ভাসছে দেবলীনার নাম!


গীতিকার হিসেবে দাবি করা পেপার কাটিং। যা ভিডিওতে ব্যবহার করেন দেবলীনা

 


গীতিকার হিসেবে দাবি করা পেপার কাটিং। যা ভিডিওতে ব্যবহার করেন দেবলীনা

গীতিকার হিসেবে দাবি করা পেপার কাটিং। যা ভিডিওতে ব্যবহার করেন দেবলীনা

দেবলীনা ও তার স্বামী সুমন সাহা ইউটিউব চ্যানেল থেকে পেপার কাটিংসমৃদ্ধ ভিডিও শেয়ার করেন। এরপর নিয়মিতই তারা ‘গীতিকার’ দাবি করা এ ভিডিও দিয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন


আনন্দভুবনে একান্ত সাক্ষাৎকারেও নিজেকে গীতিকার দাবি করেন দেবলীনা




বামে লেভেলিংটি পুরনো। ২ মার্চ যার পরিবর্তন আনা হয়। পরিবর্তিতটা ডান পাশে।

গানটির ভিডিওতে এক শ্রোতা মন্তব্য করেন। সেখানেও দেবলীনা মূল গীতিকারের নাম এড়িয়ে যান

বিতর্কিত গানটি দেখুন: 

অনুসন্ধানী সেই প্রতিবেদন: ‘বৃহন্নলা’য় এবার গান বিতর্ক!

/এম/এমএম/

samsung ad on Bangla Tribune

লাইভ

টপ