behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

আর্মি স্টেডিয়াম মেতেছিল জেমস-অর্ণব-হাবিবের গানেও

রূপক জামান১২:১৪, মার্চ ১১, ২০১৬

মঞ্চে উঠার আগে অদিত ও তার বন্ধুরাঅদিত দেশের শিল্পী। বিশেষ করে সংগীত পরিচালক হিসেবে তিনি এখন অন্যতম। কণ্ঠশিল্পী হিসেবে প্রায়শই স্টেজ মাতান নিজ গায়িকী দিয়ে। তার তৈরি অনেক জনপ্রিয় গান রয়েছে সংগীতাঙ্গনে। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে আর্মি স্টেডিয়াম মঞ্চে উপস্থিত দর্শক যেন কোনওভাবেই মানতে চাইছিলেন না তাকে। এদিন সন্ধ্যায় উপস্থিত দর্শক শ্রোতারা যেন অদিতকে টেনে-হিঁচড়েই নামালেন স্টেজ থেকে! নামাতে হয়নি, অদিত নিজেই টের পেলেন খানিক সময় নিয়ে। তাই মনের কষ্ট মনে চেপে সবাইকে বললেন- ‘বুঝতে পারছি আপনারা অরিজিতের জন্য অপেক্ষা করছেন। সে এখনই চলে আসবে, আর অপেক্ষা করার কোনও দরকার নেই!’ এই বলে বিব্রত অদিত মঞ্চ ছাড়লেন। এবং দেশীয় দর্শক-শ্রোতারা আবারও প্রমাণ করলেন, বিদেশী শিল্পীদের মঞ্চে দেশীয় শিল্পীদের অবস্থান কোথায় গিয়ে নামে। সম্ভবত এমন সম্ভাবনা থেকেই এ কনসার্ট থেকে আগাম নাম প্রত্যাহার করে নেন মাহাদি এবং এলিটা সংগীত জুটি। মূলত এই দুজন নাম প্রত্যাহার করার পর যুক্ত হন অদিত ও তার বন্ধুরা। যথারীতি অদিত তার পুরস্কার পেয়েছেন শ্রোতা এবং আয়োজকদের পক্ষ থেকে।    

অরিজিৎএদিকে অদিত মঞ্চ ছাড়ার পর উপস্থাপক দেবাশীষ ও আমব্রিন দর্শকদের কাছ থেকে আরও কিছু সময় চেয়ে নিলেন। কিন্তু পুরো স্টেডিয়াম জুড়ে ‘অরিজিৎ… অরিজিৎ…’ প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল।

ঘড়ির কাঁটায় রাত আটটা ত্রিশ বাজার একটু আগে মঞ্চে উঠলেন উপমহাদেশে অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী অরিজিৎ সিং। এটি তার দ্বিতীয় বাংলাদেশ সফর। উঠেই আগের সফরের স্মৃতিচারণ করলেন, ‘আমি আগেও এসেছি। তখনও আপনাদের ভালোবাসা পেয়েছি- এবারও পাবো আশা করি।’

অরিজিৎ যখন কথা বলছিলেন তখন মঞ্চে প্রস্তুত ‘সিম্পনি অর্কেস্ট্রা টিম’-এর ৭০ জন সদস্য। বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি স্টেডিয়াম উপস্থিত ভক্তদের। শুরু করলেন সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘ফিতুর’ এর শিরোনাম গান দিয়ে।

এরপর ভক্তদের বুঝতে বাকি নেই কোন গান বাজতে চলেছে। অরিজিতের আগেই দর্শকরা গাওয়া শুরু করলেন। ‘আশিকি-২’ তো এ প্রজন্মের কাছে প্রেমের বাইবেল। তাই ‘আশিকি’ গানটি যখন গাওয়া শুরু করলেন তখন সবার মনে ভালোবাসা উঁকি দিবে এটাইতো স্বাভাবিক।

‘দোয়া’, ‘হার কিসকো’, ‘আজ পীর’, ‘মে রাঙ সারবতো কা’, ‘মন মাস্ত’ গাইলেন এক এক করে। ‘কাবি যো বাদল হে’ যখন অরিজিতের গলায় তখন স্টেডিয়াম জুড়ে হর্ষধ্বনি। এরপর ‘কি করে তোকে বলব’ গেয়ে সাময়িক বিরতিতে গেলেন।

অরিজিৎ এর সহশিল্পীরাউপস্থাপকরা মঞ্চে ডেকে নিলেন কনসার্টটির আয়োজক ধানসিঁড়ির কর্ণধার শমী কায়সারকে। শমী কায়সার উপস্থিত দর্শক হতে শুরু করে আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত সবাইকে শুভেচ্ছা জানালেন।

আবার মঞ্চে এলেন অরিজিৎ। এবার একটু ভিন্নভাবে। মঞ্চের এক কোনায় রাখা পিয়ানোতে হাত রাখলেন, আর গাইলেন ‘সাইয়া’। এরপর শুরু করলেন বাংলাদেশি বেশকিছু জনপ্রিয় গানের কোরাস। শুরুটা রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ’র ‘ভালো আছি ভালো থেকো’ দিয়ে। হাবিবের ‘ভিতর বলে’, ‘ঢেউ যেন এক’র পর অর্ণবের ‘সে যে বসে আছে একা একা’। তপুর ‘এক পায়ে নূপুর’ গাওয়ার পর চলে গেলেন ‘বোঝে না সে বোঝে না’র টাইটেল গানে।

পিয়ানো রেখে এবার গিটার হাতে নিলেন। গাইলেন ‘তালাশ’ এর ‘ধীরে যারা’ গানটি। সবাইকে চমকে দিয়ে আরও গাইলেন জেমস এর ‘আলবিদা’। ‘এক সুরুজ’, ‘সাথিয়া কাফি নেহি’ গাওয়ার সময় স্টেডিয়াম জুড়ে হিমশীতল হাওয়া বয়ে যাচ্ছিল প্রচন্ড গরমের মাঝেও।

‘তেরি দিওয়ানি’, ‘ভিগি ভিগি’, ‘হামারি আধুরি কাহানি’, ‘সানামরে’, ‘গেরুয়া’ গাওয়ার পর গাইলেন ‘খামোশিয়া’। ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত এগারোটা। তখনও বিরামহীন চলছে অরিজিতের পরিবেশনা। ক্লান্তিহীন মন্ত্রমুগ্ধকর পরিবেশনা- থামার কোনও লক্ষণ নেই। অতঃপর, মধ্য রাতে প্রায় ১২টার কাছে গিয়ে থেমেছেন অরিজিৎ, ভেঙ্গেছেন অন্য এক গানের মেলা।

কনসার্টের শুরুতে দেশীয় শিল্পী অদিত ও তার দল খানিক হেরে গেলেও শেষ বিচারে ঠিকই জিতেছে বাংলাদেশ। কারণ অরিজিতের কণ্ঠে ঘুরে ফিরেই এসেছে জেমস, অর্ণব কিংবা হাবিবের গান। 

অরি/জেডএ/এমএম/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ