behind the news
Vision  ad on bangla Tribune

এপারে চাচা বশির ওপারে শফিক তুহিন!

মাহমুদ মানজুর২১:১১, মার্চ ১৭, ২০১৬

এই তো সেদিন। ঢাকায় বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যকার এশিয়া কাপের টি-টোয়েন্টি ম্যাচটির কথা মনে পড়ে? অথবা একই ম্যাচে পাকিস্তানি সমর্থক ‘চাচা বশির নাটকে’র কথা? যেদিন পাকিস্তান মাঠের খেলায় হেরেছিল বাংলাদেশের কাছে। অথচ গ্যালারিতে থাকা চাচা বশিরের একটি ছবির সূত্র ধরে সেদিন সাময়িক হেরেছিল বাংলাদেশও!

ঢাকার মাঠে বশির চাচা ও কলকাতায় শফিক তুহিন।অন্তর্জাল দুনিয়ায় সেদিন ভেসে বেড়িয়েছিল পাকিস্তানি জার্সি পরা চাচা বশিরের বুকে জড়ানো বাংলাদেশের পতাকা। যে ছবিতে চাচার চেহারায় আতঙ্কের সুক্ষ্ম ছাপ ছিল। এই ছবিটি বিদ্যুৎ গতিতে অন্তর্জাল দুনিয়া সংক্রামক হয়ে যায়, ক্ষোভে ফেটে পড়ে বেশিরভাগ বাংলাদেশিও। সবার একটাই কথা- সেদিন খেলা শেষে উচ্ছ্বসিত বাংলাদেশি দর্শকরা চাচা বশিরের গায়ে জোর করে জড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের পতাকা! করা হয়েছে হেনস্তা!
পরে অবশ্য চাচা বশির নিজেই বাংলা ট্রিবিউনের কাছে মুখ খুললেন। বললেন, কেউ তাকে জোর করে অমনটা করেনি। হেনস্তা তো পরের কথা। তিনি নিজেই সেদিন স্বেচ্ছায় বাংলাদেশের পতাকা গায়ে জড়িয়েছেন।
চাচা বশিরের সেই বিতর্কিত ছবি আর বিস্ময় জাগানো স্টেটমেন্টের ঝলক কমতে না কমতে বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) প্রায় একই ঘটনার সূচনা হলো কলকাতার ঐতিহাসিক ইডেনে গার্ডেনে। ঘটনার পূর্বচিত্রটাও শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের মতোই। মুখোমুখি বাংলাদেশ-পাকিস্তান। যে ম্যাচ উপভোগ করতে বাংলাদেশের জার্সি পরেই কলকাতায় উড়ে গেলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত গীতিকবি-সুরকার-কণ্ঠশিল্পী শফিক তুহিন। ম্যাচটা এবার হেরেছে বাংলাদেশ। আর ইডেনের গ্যালারিতে উপচে পড়া পাকিস্তান ভক্তদের হর্ষধ্বনি। যার ভিড়ে বাংলাদেশের শফিক তুহিন বনে গেলেন পাকিস্তানের ‘চাচা বশির’।


বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত ছবি ও ক্যাপশন।বৃহস্পতিবারের (১৭ মার্চ) প্রভাশালী আনন্দবাজার পত্রিকার প্রিন্ট সংস্করণে প্রকাশিত গ্যালারি থেকে তোলা শফিক তুহিনের একটি ছবি এবং তার ক্যাপশন- ঢাকার ঘটনারই প্রতিচ্ছবি প্রমাণ করে। যে ছবিতে দেখা গেছে বাংলাদেশের জার্সি গায়ে দিয়ে পাকিস্তানি পতাকা-ব্যানার হাতে ধরে স্লোগান দিচ্ছেন এ শিল্পী। সঙ্গে অপরিচিত আরও অনেকেই। আর ছবিতে ক্যাপশনটা ছিল এমন- ‘পাকিস্তান টিমকে বুধবার যদি কলকাতায় চিন্তামুক্ত দেখায় তা হলে তা ইডেনের দর্শকদের জন্য। কলকাতা শহরটার জন্য। যারা প্র্যাকটিস ম্যাচ থেকে হোটেল পর্যন্ত পাকিস্তান টিমের পাশে অনবদ্য আতিথেয়তা নিয়ে থেকেছে। তাই আফ্রিদির টিমের কেউ শত চাপেও ভেঙ্গে পড়েনি।’
শঙ্কর নাগ দাসের তোলা সে ছবিতে সমর্থক হিসেবে দেখানো হয়েছে বাংলাদেশের এ শিল্পীকে।
তবে কি শফিক তুহিন পাকিস্তানকে সমর্থন করেছেন সেদিন? নাকি এ ছবি পরিকল্পিতভাবে তোলা কিংবা ফটোশপের কারসাজি! বিষয়টি নিয়ে এ শিল্পীর সঙ্গে যোগাযোগ হয় ফেসবুক ইনবক্সে। বিষয়টি জেনে তিনি বিস্মিত এবং ক্ষুব্ধ। তিনি সেদিন ইডেনে তোলা বেশ কটি ছবি পাঠান। বলেন, ‘আমি যতক্ষণ গ্যালারিতে ছিলাম ততক্ষণ বাংলাদেশি ভক্ত-দর্শকদের সঙ্গে ছিলাম। বিশেষ করে বাংলাদেশের আইকন ভক্ত টাইগার শোয়েবের সঙ্গে ছিলাম। ফলে এই ছবি কোথা থেকে এসেছে- আমি জানি না।’
তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে আমি তথ্য-প্রমাণসহ খুব দ্রুত সবাইকে ব্যাখ্যা দিবো। কারণ এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা এবং স্পর্শকাতর।  
এদিকে এই ছবিটি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে ভারত-বাংলাদেশ-পাকিস্তান ক্রিকেট ভক্তদের মাঝে অন্তর্জাল দুনিয়ায় ভাইরালের পথে। যদিও বাংলাদেশিরা বিষয়টিকে সাজানো এবং ষড়যন্ত্রের তালিকাতাতেই তুলছেন। অনেকেই বলছেন, এপারের বশির চাচা এবং ওপারের শফিক তুহিন- একই সূত্রে গাঁথা! সবটাই ত্রিদেশীয় মানসিক দৈন্যতারই স্থিরচিত্র।
ইডেন গার্ডেন গ্যালারিতে সেদিন শফিক তুহিন ও কণ্ঠশিল্পী মাহমুদ জুয়েল।/এমএম/

Global Brand  ad on Bangla Tribune

লাইভ

Mojo  ad on Bangla Tribune
টপ