behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

মুখোমুখি জয়া আহসান‘এখানে যেটা বাণিজ্যিক ওখানে সেটা নয়’

রূপক জামান২১:২৫, এপ্রিল ০৪, ২০১৬

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্রকেন্দ্রিক নানা জটিলতা পেরিয়ে এখন মুক্তির মিছিলে আছে শাকিব-জয়া জুটির ২য় চলচ্চিত্র ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনি-টু’। পরিচালক সাফিউদ্দিন সাফি জানালেন, ৮ এপ্রিল এটি মুক্তি পাচ্ছে সারাদেশে। এমন খবর আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে এবং ছবির গানের অ্যালবাম প্রকাশের জন্য সোমবার সন্ধ্যায় বিএফডিসিতে আয়োজন করা হলো উৎসবের। যেখানে সন্ধ্যায় অংশ নিলেন দুই বাংলার আলোচিত মুখ জয়া আহসান। শাকিব খানের অনুপস্থিতি জয়া একাই ভুলিয়ে দিলেন উপস্থিত সবাইকে। কথা বললেন প্রাণ খুলে। সেখানেই বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে জয়ার কথা হলো বিস্তর। যে কথায় উঠে এসেছে দুই বাংলার আরও অনেক প্রাসঙ্গিক কথা।      

জয়া আহসান।বাংলা ট্রিবিউন: ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনি-টু’ নিয়ে কিছু বলুন।

জয়া আহসান: এখানে আমার চরিত্রের নাম মিতু। পেশায় মডেল বলা চলে। স্ট্রাগলার। সুন্দর একটা ফ্যামেলি লাইফ আছে। গল্পটা তো আসলে এক অর্থে প্রেমের গল্প। এই তো…। ছবিটা আসলে দেখতে হবে। আগাম বলতে চাই না।

বাংলা ট্রিবিউন: শুনেছি এ ছবিতে আপনি সুপার মডেল।

জয়া: সুপার মডেল কথাটা কি ঠিক? তা জানি না। তবে এখানে মডেলিং এ আমি বেশ বিখ্যাত। যাকে সারাদেশের মানুষ স্বনামেই জানেন।

বাংলা ট্রিবিউন: ছবিতে আপনি প্রেমে পড়েন ক্রিকেটার শাকিব খানের। এই প্রেমে পড়ার প্রক্রিয়াটা কেমন? দুটো আলাদা জগত…

জয়া: ছবিতে ক্রিকেটারের প্রেমে পড়ার বিষয়টি দেখতে হলে- ছবি দেখতে হবে। সত্যি বলতে এমন প্রেমের গল্প সাধারণত দেখা যায় না। ইউজুয়ালি এ ধরনের গল্প নিয়ে ছবি হয়নি এখানে। বেশ মৌলিক গল্প। রুম্মান রশীদ খানের লেখা এই গল্পে বেশ নতুনত্ব আছে। দুই গ্ল্যামার পেশার দু’জনকে নিয়ে এমন প্রেমের গল্প দেখা যায় না। আসলে দিন শেষে দর্শক মৌলিক গল্পটাই খোঁজে। সে জায়গা থেকে দর্শক খুবই আনন্দ পাবে ছবিটি দেখে।

বাংলা ট্রিবিউন: ছবির সহশিল্পীদের প্রসঙ্গে কিছু বলুন।

জয়া: ইমনের সঙ্গে প্রথম কাজ করেছি। মৌসুমী হামিদও আছে। শাকিব আছে, তার সঙ্গে আগেও কাজ করেছি। তার প্রসঙ্গে নতুন করে বলার কিছু নেই। সহশিল্পী হিসেবে খুবই চমৎকার। তবে ইমন ও মৌসুমীর অভিনয় খুবই ভালো লেগেছে। ডাবিংয়ে দেখেছি- ওরা খুব ভালো করেছে।

জয়া আহসান।বাংলা ট্রিবিউন: ছবির চরিত্রে মডেলিং জীবন নিয়ে স্ট্র্যাগল বিষয়টি কেমন ছিল?

জয়া: হ্যাঁ স্ট্র্যাগল ছিল কিছুটা। এখানে ছোটভাই ও মাকে নিয়েই আমার সংসার। এরমধ্যে ছোট ভাই অসুস্থ। এক ধরনের স্ট্র্যাগল রয়েছে। আসলে দেখতে হবে ছবিটা।

বাংলা ট্রিবিউন: দুই বাংলার ছবিতে অভিনয় করছেন নিয়মিত। স্বাচ্ছন্দ কোথায় কেমন?

জয়া: দেখুন আমি অভিনয় করি। এটাই আমার মূল কাজ। আমাকে যেখান থেকেই বলবে- যদি সেটা আমার ভেল্যুজের সঙ্গে যায়, পরিচালক, চিত্রনাট্য, চরিত্র পছন্দ হয়- তবে আমি অভিনয়ের জন্য প্রস্তুত। সেটা উগান্ডার ছবি হলেও। তবে নিজের দেশের কাজটাই বেশি আনন্দ পাই। এটাও বাস্তবতা।

বাংলা ট্রিবিউন: ঢালিউড, টলিউডের পর বলিউড নিয়ে কিছু ভেবেছেন?

জয়া: এ নিয়ে আমার ভাবনার কিছু নেই। যদি বলিউডের কোনও ডিরেক্টর মনে করেন আমি তার ছবির জন্য উপযুক্ত, নিশ্চই করবো।

বাংলা ট্রিবিউন: বাতাসে ভাসছে, বলিউডের অনুরাগ কাশ্যপ এর একটি ছবিতে কাজ করছেন…

জয়া: না না না। আমিও এ কথাটা প্রায়ই শুনি ইদানিং! এটা ঠিক নয়। আমার কাছে অন্তত এমন কোনও প্রস্তাব এখনও পৌঁছায়নি।

জয়া আহসান।বাংলা ট্রিবিউন: ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনি’ এক এবং দুই এর মধ্যে পার্থক্য কী?

জয়া: প্রথম ছবিটা ফ্যামেলি ড্রামা। আর এবারেরটা একদম প্রেমের গল্প। এখানে ক্রিকেট এবং মডেলিং দুটো কমপোনেন্ট হিসেবে এসেছে। গল্পটা ভালো। কবির বকুলের লেখা শওকত আলী ইমনের সুরে গানগুলো বেশ ভালো। আগের চেয়ে এ ছবিটা অবশ্যই বেটার।

বাংলা ট্রিবিউন: ‘পিডিপিকে-থ্রি’ এর কোনও আভাস আছে?

জয়া: আছে। আজই জানতে পারলাম। পরিচালক জানালেন, আবারও হচ্ছে। বাকিটা পরে বুঝে নেবো।

বাংলা ট্রিবিউন: নায়ক? শাকিব খানই থাকছেন নিশ্চই?

জয়া: এ নিশ্চয়তা আমি দিতে পারছি না। পরিচালক বলেছেন, নায়কের বিষয়ে চমক আছে এবার! জানি না, আসলে চমকটা কী। আমিও অপেক্ষায় আছি চমকের জন্য।

জয়া আহসান।বাংলা ট্রিবিউন: এবারের ছবিটি সেন্সর পেতে এবং মুক্তি পেতে বেশ সময় লেগেছে। একটু বিরক্ত কি?
জয়া: হুম.. একটু একটু বিরক্ত ছিলাম। কারণ, আরও আগে মুক্তি পেলে ভালোই হতো। ক্রিকেটের একটা হাওয়া ছিল সারাদেশে। এখন তো সে হাওয়া দমে গেছে। তবুও আমি আশাবাদী।
বাংলা ট্রিবিউন: একইদিনে ঢালিউডের অন্যতম সফল নায়িকা মাহির ছবিও মুক্তি পাচ্ছে। দর্শক ভাগাভাগি নিয়ে কোনও শঙ্কা?
জয়া: নাহ্। ভালো তো। অনেক ছবি একসঙ্গে আসুক- এটা ভালো। একা নিজের ছবি নিয়ে ভাবলে হবে না। এটা পজিটিভ। সবাই একসঙ্গে এগুতে হবে। ইন্ডাস্ট্রিটাকে এগিয়ে নিতে হলে পাশাপাশি সবার সহযোগিতা লাগবে।
বাংলা ট্রিবিউন: নতুন ছবির কিছু খবর দিন।
জয়া: দেশে ‘লাল মোরগের ঝুটি’ করছি। ‘খাঁচা’র কাজ শেষ করলাম। ‘বিউটি সার্কাস’ আরেকটু পরে হবে, ওদের অগোছালো ভাবটা কাটুক। কলকাতার দুই-তিনটা কাজ হাতে নিয়েছি। এরমধ্যে ‘ঈগলের চোখ’ আর একটা শর্ট ফিল্ম করছি। নামটা সেটেলড হয়নি। সামনে ‘আমি জয় চ্যাটার্জি বলছি’র শ্যুটিং হবে। তারপর করবো ‘কণ্ঠ’র কাজ। এই তো।
বাংলা ট্রিবিউন: ওপারের বাণিজ্যিক ছবি করার কোনও সম্ভাবনা আছে কি?
জয়া: ওখানে আসলে বাণিজ্যিক ছবিটাই করছি আমি। কলকাতায় আসলে বাণিজ্যিক ছবির ব্যাখ্যা বদলে গেছে। দুটো ফাইট, হিরো-হিরোইন, চারটা গান- এমনটা আর নেই সেখানে। এটার মানে- এখানে যেটা বাণিজ্যিক ওখানে সেটা নয়। ওখানে এখন সৃজিত কিংবা কৌশিক গাঙ্গুলির ছবিগুলোই বাণিজ্যিক হিসেবে ট্রিট করা হয়।
বাংলা ট্রিবিউন: বাই দ্য বাই- কলকাতার ছবিতে একটু বেশি সময় দিচ্ছেন…
জয়া: না না, এটা কি ঠিক? বরং এখানেই আমার কাজের সংখ্যা বেশি। যেমন ‘পিডিপিকে-টু’ এর পর হাতে আছে- বিউটি সার্কাস, মেসিডোনা, খাঁচা, পুত্র এবং লাল মোরগের ঝুঁটি। ওখানে এতো ছবি কই?
জয়া আহসান।
ছবি: সাজ্জাদ হোসেন।
/জেডএ/এস/এমএম/ এএইচ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ