আবারও অনুদানের তালিকায় মুরাদ পারভেজ!

Send
বিনোদন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৪:২৯, এপ্রিল ১৭, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:০২, এপ্রিল ১৭, ২০১৬

সরকারি অনুদানে নির্মিত মুরাদ পারভেজের ‘বৃহন্নলা’ বিতর্কে লাগাম পড়েছে। গতকালই (শনিবার) খবরটি প্রকাশ পেয়েছে বাংলা ট্রিবিউনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জুরিবোর্ড সদস্যরা আনুষ্ঠানিক বৈঠকে এই ছবির তিনটি পুরস্কারই বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এবং পরিচালক মুরাদ পারভেজের বিরুদ্ধে গল্প চুরির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ছবিটি নির্মাণের জন্য প্রাপ্ত অনুদানের টাকা ফেরতসহ সুদ-আসলে জরিমানাও করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মুরাদ পারভেজটানা দুই মাসের ‘বৃহন্নলা’ বিতর্কের এমন সমাধানে মিডিয়ায় খানিক স্বস্তি নেমে এলেও ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে একই নির্মাতাকে নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। বিশ্বস্ত সূত্রে খবর মিলেছে মুরাদ পারভেজের নাম আবারও সরকারি অনুদানের তালিকায় উঠেছে। ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের জন্য তথ্য মন্ত্রনালয় ১৮ জন নির্মাতার একটি প্রাথমিক তালিকা তৈরি করেছে। সেখানে দেখা গেছে মুরাদ পারভেজ ‘নীল ঘুর্ণি’ নামের একটি ছবি নির্মাণের জন্য সরকারী অনুদানের সম্ভাব্য তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন!

এমন খবরে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন চলচ্চিত্র অঙ্গনের বেশিরভাগ মানুষ। অনেকেই বলছেন, গল্প চুরিতে সদ্য প্রমাণিত এমন একজন পরিচালক কীভাবে আবার অনুদানের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়!

এ নিয়ে অনুদান কমিটির সদস্য পরিচালক জাকির হোসেন রাজুর ভাষ্য এমন, ‘নিয়ম অনুযায়ী আগের বিতর্কিত বিষয়টি সমাধানের আগে নতুন ছবির জন্য অনুদানের টাকা ছাড় পাওয়ার নিয়ম নেই। তবে বৃহন্নলা’য় তিনি যে অপরাধ করেছেন তার শাস্তি তো পাচ্ছেন। এরজন্য তার অনুদান না পাওয়ার কোনও কারণ দেখি না। কারণ দুটো আলাদা বিষয়। নতুন ছবির অনুদানের জন্য যদি সে সকল যোগ্যতা অর্জন করে, তবে অনুদান পেতেই পারেন।'

এদিকে বিটিভির ডিজি ও অনুদান কমিটির আরেক সদস্য হারুণ অর রশিদ ‘বৃহন্নলা'র গল্প চুরির জন্য তাকে অনুদানের ২৪ লাখ টাকা সুদে আসলে জরিমানা করা হবে বলে জানিয়েছেন গতকালই। তবে তিনি মুরাদ পারভেজের নতুন করে অনুদানের তালিকায় নাম থাকা নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

চলচ্চিত্রে সরকারি অনুদান ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের জন্য ৭ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রনালয়ের এক বৈঠকে অনুদান কমিটি এ তালিকা চূড়ান্ত করেছে। নাম গোপন রাখার শর্তে একটি সূত্র তালিকায় থাকা নামগুলো জানিয়েছেন বাংলা ট্রিবিউনকে। এগুলো হলো- আঁখি ও তার বন্ধুরা (শিশুতোষ)- মোরশেদুল ইসলাম, শঙ্খধ্বনি- মিজ সারা আফরিন, কালবেলা- সাইদুল আনাম টুটুল, দেবী- মিস জয়া আহসান, নোনা জলের কাব্য- রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত, গহীন বালুর চর- বদরুল আনাম সৌদ, বৃদ্ধাশ্রম- লোরা তালুকদার, মুখোশ- আসলাম শিহির, ঘোর সওয়ার- আজহারুল হক, ছুটি- অনিমেষ আইচ, সৎ মানুষের খোঁজে- মোস্তফা মেহমুদ, বুনো চালতায় গাঁয়ে- মাসুদ রহমান প্রসুন, মুক্তি- শহীদুজ্জামান সেলিম, সাবিত্রী- পান্থ তুষার, প্রজাপতি মানুষ (শিশুতোষ)- পি এ কাজল (যৌথ),  নীল ঘুর্ণি- মুরাদ পারভেজ, আজব ছেলে (শিশুতোষ)- মানিক মানবিক, ডাক্তার আপা (বীরাঙ্গনা এখন মুক্তিযোদ্ধা)- সোহানুর রহমান সোহান (যৌথ), জননী- মোস্তাফিজুর রহমান মানিক এবং বধ্যভূমিতে একদিন- (প্রামান্য চিত্র)- কাওসার চৌধুরী।

অনুদান কমিটির সদস্য হারুন অর রশিদ জানান, এই প্রাথমিক তালিকা থেকে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হবে দুই সপ্তাহের মধ্যে। এরমধ্যে পাঁচটি পূর্ণদৈর্ঘ্য, একটি শিশুতোষ, একটি প্রামাণ্যচিত্র ও একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র অনুদান পাবে। গত বছর অনুদানের অর্থ ৩৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে এবার ৬০ লাখ টাকা করার ঘোষণা দেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। এ ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রনালয়ের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে এরইমধ্যে। সেখান থেকে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত আসেনি বলে জানালেন অনুদান কমিটির এই সদস্য।

/জেডএ/এমএম/

লাইভ

টপ